channel 24

সর্বশেষ

  • বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ আয়োজনে মরিয়া শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট

  • দেশে কওমি শিক্ষার প্রসারে অবদান রাখেন আল্লামা শফি

  • নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন সভাপতি প্রার্থী বাদল রায়

  • মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু

  • আল্লামা শফী মারা গেছেন

  • মানিকগঞ্জে শ্রমিক জুলহাসকে পায়ুপথে বাতাস দিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা

  • বাঁশের চেয়ে কঞ্চি বড়!

  • নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত ১

  • মাগুরায় দুই বাস-মাইক্রোবাসের ত্রিমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৪

  • রংপুরে একই বাড়ি থেকে দুই বোনের মরদেহ উদ্ধার

  • বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা সফর: বিসিবির চিঠির উত্তর দেয়নি এসএলসি

  • ক্রিকেটারদের দ্বিতীয় ধাপের করোনা পরীক্ষা শুরু

  • পচাত্তরের কুশীলবরা এখনো আশপাশে ওৎ পেতে আছে: শ ম রেজাউল

  • দেশে করোনায় আরও ২২ জনের মৃত্য, শনাক্ত ১৫৪১

  • ইসরায়েলের সাথে আরব রাষ্ট্রের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগের প্রতিবাদ

এ যেন পারিবারিক আয়নাবাজি, শত কোটির সম্পদ লুটের চেষ্টা এনআইডি জালিয়াত চক্রের

এ যেন পারিবারিক আয়নাবাজি, শত কোটির সম্পদ লুটের চেষ্টা এনআইডি জালিয়াত চক্রের

মিন্টু হয়েছেন ওয়াদুদ। জরিনা, মোকসেদা খাতুন। রিজিয়া হয়েছেন হেনা। শতকোটি টাকার সম্পত্তি লুটতে পারিবারিক এ আয়নাবাজি মঞ্চস্থ হয়েছে কুষ্টিয়ায়। ভুয়া পরিচয়ে বিক্রি শুরু করে অন্যের সহায় সম্পত্তি। চ্যানেল 24-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে অভিনব এ জালিয়াতির ঘটনা। যার নাটের গুরু স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা। যোগসাজশে নির্বাচন কমিশনের কয়েকজন কর্মকর্তা।

কুষ্টিয়া শহরের এনএস রোডের প্রাচীন বিশাল প্রাসাদ এলাকায় সবার কাছে পরিচিত বনেদি ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদের বাড়ি হিসেবে। বিশাল এই বাড়ি ঘিরে আব্দুল ওয়াদুদের অনেক স্মৃতি, সেই সাথে আছে একাকিত্নের গল্পও। গত আড়াই বছর আগে হঠাৎই জানতে পারেন, তার এই বাড়িসহ সব কিছু নাকি বিক্রি হচ্ছে। অথচ মালিক নিজেই জানেন না কিছু।

ভূমি অফিস, পৌরসভা, নির্বাচন অফিসে খোঁজ নিয়ে দেখেন তার এই সম্পত্তি বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করেছে একটি চক্র। যেখানে তার পরিবারের ৬ জনের পরিচয় ছিনতাই হয়েছে। নতুন ছয়জন দিয়ে পরিচয়পত্র তৈরি করে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছেন বিশাল এই সম্পত্তি।

গল্পের শুরুটা এখানেই। এর সত্যতা জানতে একটি ফোন নম্বরের সূত্র ধরে চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের গন্তব্য কুষ্টিয়া শহরের আরেক প্রান্ত আরোয়াপাড়ায়। সেখানেই থাকেন নকল আব্দুল ওয়াদুদ। এলাকায় যার পরিচিতি মিন্টু কবিরাজ নামে।

ক্যামেরার উপস্থিতিতে বিচলিত হলেও দাবি, প্রতারণার শিকার তিনি, আর এর পেছনে জড়িত তার-ই ভাগ্নে মিলন। যিনি একটি ইউনিয়নের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি।

নতুন পরিচয় ধারণকারী ওই ছয় জনের আরেকজন মিন্টুর বোন সানোয়ারা খাতুন। এনআইডি পরিবর্তন করে হয়েছেন শামীমা খাতুন। পাশের কুমারখালী থানার পাইকপাড়ায় থাকেন। তিনিও বলছেন ভাগ্নে মিলনের নাম। দু'জনের কথার সূত্র ধরে তিন দফার চেষ্টায় অবশেষে মিলন মেম্বারের খোঁজ মিললো সদর উপজেলার বাগুলাট ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায়।

তবে মিলনের দাবি এসব করিয়েছেন কুষ্টিয়ার ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলাম বাবু। শহরের পেয়ারাতলায় পাওয়া গেলো বাবুকেও। মোবাইলে কথাও বলেন, মিলন মেম্বারের সাথে।

বাবুর কথাতেই বোঝা গেলো একটি চক্রের নজর পড়েছে এনএস রোডের ওয়াদুদ সাহেবের বিশাল সম্পত্তিতে। যার নাটের গুরু কুষ্টিয়া শহর যুবলীগের আহবায়ক আশরাফুজ্জামান সুজন। সম্প্রতি র‍্যাবের অভিযানে আটকও হয়েছিলেন তিনি। তবে শত চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি সুজনকে।

আব্দুল ওয়াদুদের পরিবারের ৬ জনের পরিচয় ছিনতাইয়ের উদ্যোগ প্রথমে শুরু হয় ২০১৭ সালে। তখন থানা নির্বাচন অফিসে নাম সংশোধনের আবেদন করে জালিয়াত চক্র। বিষয়টি জানতে পেরে নির্বাচন কমিশনে আপত্তি জানায় ওয়াদুদ। সে দফায় উদ্যোগ ভেস্তে যায় জালিয়াতকারিদের। তবে হাল ছেড়ে দেয়নি, পরের বছর হালনাগাদে আবেদন করেই সফল হন মিন্টু খন্দকার পরিবারের ৬ জন।

অনুসন্ধান বলছে, ওয়াদুদের পরিচয় ছিনতাই করেছেন মিন্টু খন্দকার, ওয়াদুদের মা জরিনা খাতুন নিয়েছেন মৃত মোকসেদা খাতুনের নাম, বোন হেনা হয়েছেন রিজিয়া খাতুন, সেলিনা খাতুন হয়েছেন জীবন খাতুন, বাছেরা খাতুল বনে গেছেন মোমেনা খাতুন, আর শামীমা খাতুন পরিচয় ধারণ করেছেন ছানোয়ারা খাতুন।

এর পরই শুরু করেন জমি হাতিয়ে নেয়ার কাজ। এরই মধ্যে একটি জমি বিক্রিও করেছেন জাল দলিলে। আর এতে সহযোগিতা নিয়েছে নির্বাচন কমিশনের উপজেলা ও জেলা কর্মকর্তাদের।

আব্দুল ওয়াদুদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঐ ছয়জনের কার্ড বাতিল করেছে ইসি। গেলো ফেব্রুয়ারিতে জেলা প্রশাসককে তদন্ত রিপোর্ট দিতে বলা হলেও এখনো কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় নি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

চ্যানেল 24 বিশেষ খবর