channel 24

সর্বশেষ

  • অ্যাজমা ও ব্রংকাইটিস প্রতিরোধ করে চুইঝাল

  • ঝিনাইদহে বেড়েছে প্লাস্টিকের তৈরী ওয়ান টাইম প্লেট ও গ্লাসের ব্যবহার

  • কুড়িয়ানার শত বছরের ভাসমান পেয়ারার হাট

  • যশোরে কাভার্ডভ্যান চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই যুবক নিহত

  • ইয়াবাসহ আটক ৪ জনকে ঘুষ দিয়ে ছাড়াতে এসে যুবলীগ নেতাসহ আটক ২

  • করোনার ভ্যাকসিন আবিস্কার হলে বাংলাদেশও পাবে: ডা. খুরশীদ আলম

  • গোপালগঞ্জে সন্ত্রাসী হামলায় যুবলীগ নেতা নিহত

  • সিনহা হত্যা: পুলিশের মামলার ৩ সাক্ষীকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব

  • উত্তরা-তেজগাঁও সড়ক: আবারও শুরু ১০টি ইউটার্নের কাজ

  • করোনায় সীমিত জন্মাষ্টমীর আয়োজন, নেই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

  • করোনা সংক্রমন রোধে সামাজিক সচেতনতা নিয়ে কাজ করছেন অনেকেই

  • পুঁজিবাজারে নতুন বিনিয়োগে উৎসাহী হচ্ছেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা

  • বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে করোনা ভ্যাকসিনের নিবন্ধন করলো রাশিয়া

  • সরবরাহ কম থাকায় রাজধানীতে বেড়েছে সবজির দাম

  • শত কোটি ডলারের ক্লাবে অ্যাপলের সিইও টিম কুক

অনিয়মের পাহাড়ে বসেও দোর্দণ্ড প্রতাপে ওয়াসার এমডি

অনিয়মের পাহাড়ে বসেও দোর্দণ্ড প্রতাপে ওয়াসার এমডি

ঢাকাবাসীর ব্যবহারের জন্য ভূগর্ভস্থ পানির নির্ভরযোগ্যতা কমাতে ২০১৩ সালে শুরু হয় যশোলদিয়া পানি শোধনাগার প্রকল্প। লক্ষ্য পদ্মা নদীর পানি পরিশোধন করে দৈনিক ৪৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহ।

প্রকল্পটির মোট ব্যয় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার বেশি। যাতে ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকাই বিদেশি ঋণ। বরাদ্দের অর্ধেকই যায় পাইপলাইন বসাতে। টাকার অঙ্কে যা ষোলোশো কোটির বেশি। আর কাজটি পায় চীনা প্রতিষ্ঠান সিএএমসি ইঞ্জিনিয়ারিং। শুরু থেকেই চলে নয়ছয়। জমি বুঝে পাওয়ার আগেই, শুরু হয় মানহীন পাইপ আমদানি। আপত্তি তুলে চিঠি দিয়ে ঠিকাদারকে সতর্কও করেন তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক রশিদ সিদ্দিকী।

এতে উল্টো রশিদ সিদ্দকীকে পড়তে হয় ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খানের রোষনালে। হোয়াট দ্য হেল গোয়িং অন! ঠিক এই ভাষাতেই যশোলদিয়া পানি শোধনাগার প্রকল্পের পরিচালককে নিয়ে ক্ষোভ ঝেড়েছিলেন ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান।

ডিএমডিকে পাঠানো ই-মেইলে প্রকল্প পরিচালকের চিঠি নিয়ে, ধমকের সুরে তা বন্ধ করতে বলেন এমডি। ডিএমডিও ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দেন প্রকল্পের পরিচালককে। ততদিনে পরীক্ষা ছাড়াই পাইপের চালান এসেছে। আবারও আপত্তি জানান প্রকল্পের পরিচালক। তৃতীয় দফায় চিঠি দেন ২রা নভেম্বর। কিন্তু পরদিনই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে, ছুটিতে যান দশদিনের। ফিরতে পারেননি আর। জোটেনি পেনশনের টাকাও।

মানহীন সামগ্রী দিয়ে কাজ এগোয় যশোলদিয়ায়। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রশ্ন তোলে ডেনমার্কের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গ্রন্টমিজ। ৭ আপত্তি আর ১২টি প্রশ্নের উত্তর চায় ঠিকাদারের কাছে। কিন্তু বাদ দেয়া হয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকেই।
এমডি অবশ্য একবাক্যে, অস্বীকার করেছেন সব অনিয়ম।

অনিয়মের ফিরিস্তি যায় দুদকের টেবিলেও। প্রকল্পের নানা সামগ্রী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বুয়েটকে চিঠি দেয় দুদক। পাল্টা চিঠিতে বুয়েট জানায়, চুক্তির অস্পষ্টতার কথা। পরামর্শ দেয় দুর্নীতি এড়াতে নজরদারি বাড়ানোর। দুদক সেই পরামর্শ পাঠিয়ে দেয় স্থানীয় সরকার বিভাগে। কিন্তু প্রকল্প চলে নজরদারি ছাড়াই।

২০১৮ সালে প্রকল্প বুঝে নেয়ার আগেই সব পাওনা মিটিয়ে দেয়া হয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে। যদিও দিনে ৪৫ কোটি লিটারের বদলে পানি মেলে সাকুল্যে ১৫ কোটি লিটার।

২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হয় ১০৫ কোটি টাকা। চুক্তি অনুযায়ী সুদের হিসাবে ঋণের কিস্তিতে বছরে ব্যয় ২৮৩ কোটি টাকা। যেখানে পানি বিক্রিতে আয় মাত্র ৭৮ কোটি টাকার কিছু বেশি। বছরে নিট ক্ষতি ২০৪ কোটি টাকা, মাসে ১৭ কোটি।

২০১৯ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন ওয়াসার সামগ্রিক দুর্নীতি অনুসন্ধানে নামে। এতে ১১ খাতে অনিয়ম পায় তদন্ত কমিটি। বেশ কিছু প্রকল্পে আর্থিক অসচ্ছতা, ঠিকাদার নিয়োগ, ওভারটাইম বিল জালিয়াতি ধরা পড়ে। ১২ দফা সুপারিশও দেয় দুদক। তবে বাস্তবায়ন হয়নি কিছুই।

তাসকিম এ খান অবশ্য দাবি করেছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার শক্ত অবস্থানে যাদের স্বার্থহানি হয়েছে তারাই দুর্নীতির অভিযোগ তুলছে।

২০০৯ সাল থেকে পাঁচবার মেয়াদ বেড়ে এখনও ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে বহাল আছেন প্রকৌশলী তাকসিম এ খান।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

চ্যানেল 24 বিশেষ খবর