channel 24

সর্বশেষ

  • জাতীয় বীমা দিবস উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী: শেখ কবির

  • মুজিব বর্ষে বাংলাদেশ গেমসের মশাল প্রজ্জ্বলন গোপালগঞ্জে

  • প্রথমবার ওয়ানডে দলে জায়গা পেয়ে রোমাঞ্চিত আফিফ-নাঈম

  • সহিংসতা কমলেও দিল্লিতে আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছাড়ছেন মুসলমানরা

  • শনিবার দেশব্যাপী জেলা ও মহানগরে বিএনপির বিক্ষোভ

  • ফতুল্লায় আটটি অবৈধ ভবন ভেঙে দিল ভ্রাম্যমাণ আদালত

  • রাবিতে বিভাগের নাম ফলিত পরিসংখ্যান করার দাবিতে শিক্ষার্থীদের অনশন

  • দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চলমান আছে: আইজিপি

  • গাজীপুরে আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে মৌলিক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

  • যশোর-৬ ও বগুড়া-১ আসন উপনির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা

  • করোনা আতঙ্কে ওমরাহ পালনে সৌদির নিষেধাজ্ঞা, টিকিট করে বিপাকে অনেকে

  • ৭ মার্চ আর্মি স্টেডিয়ামে জয় বাংলা কনসার্ট

  • উৎসবমুখর পরিবেশে চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে মনোনয়ন জমা

  • চলচ্চিত্রের প্রেমে পড়েছেন শার্লিন জামান

  • লিঁওর মাঠে অঘটনের শিকার জুভেন্টাস

বিষে পরিণত হচ্ছে ঢাকার বাতাস

বিষে পরিণত হচ্ছে ঢাকার বাতাস

খাদ্য, পানি, ওষুধ সবকিছুতে ভেজাল আর দূষণে যখন ক্রমেই বসবাস যোগ্যতা হারাচ্ছে ঢাকা, তখন জীবন ধারণের অক্সিজেনটুকুও পরিণত হচ্ছে বিষে। আর তাই বায়ুদূষণে সম্প্রতি বিশ্বে নাম্বার ওয়ানে ছিলো রাজধানী ঢাকা। এমন দূষণের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ, নগরীকে ঘিরে থাকা প্রায় ২ হাজার ইটভাটার মহোৎসব। তাহলে মুক্তির উপায় কি?

বায়ু, সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি শোষণ করে পৃথিবীতে বাঁচিয়ে রাখে প্রাণের অস্তিত্ব। কিন্তু, মেগাসিটি ঢাকায় ক্রমেই বিষিয়ে উঠছে অক্সিজেনের সেই অসীম প্রবাহ।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বায়ু দূষণ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার ভিজ্যুয়াল-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরের হিসেবে নাম এসেছে এই রাজধানীর।

কিন্তু, ঢাকার বাতাসের কেনো এই হাল? সাম্প্রতিক গবেষণা না থাকলেও, পরিবেশ অধিদপ্তরের ২০১৩ সালের গবেষণা বলছে, এই শহরের বায়ু দুষণে জন্য ৫৮ ভাগ দায়ী চারদিকে মালার মতো জড়িয়ে থাকা ইটভাটাগুলো।

নারায়ণগঞ্জের ধলেশ্বরী ও বুড়িগঙ্গা নদীর মোহনা থেকে দৃষ্টির সীমা যতদূর, তার চেয়ে বহুদূর ইটভাটার উন্মত্ত আয়োজন। এখানকার আকাশে শীতের কুয়াশার চাইতে ধোঁয়াশাই বেশি।

নারায়ণগঞ্জের বাপা সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু বকর সিদ্দিক বলেন, নারায়ণগঞ্জে ইটভাটাগুলো প্রশাসনিক বা আইনগত দিকের ধার ধারে না। স্থানীয় যেসকল প্রভাবশালী লোক আছে ওদের ছত্রছায়াই এগুলো গড়ে উটছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের হিসাবে ১২৭৩ হলেও, প্রকৃতপক্ষে রাজধানীকে ঘিরে আছে প্রায় ২ হাজার ইটভাটা। যার মধ্যে ঢাকায় প্রায় ৮০০টি এবং নারায়ণগঞ্জে চারশোর বেশি। আর, একেকটি ইটভাটায় দৈনিক পোড়ানো হয় ৫-৮ টন কয়লা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম বলেন, কয়লা হল আসলে কার্বন। কার্বন পুড়ালে এখানে কার্বন-ডাই-অক্সাইড হবে, এবং শতভাব কার্বন এখানে কখনও পুড়বে না, এখানে কিছু কার্বন-মনো-অক্সাইড ও আসবে। তারপর এখানে সালফার থাকে। সালফার পুড়ালে সালফার ডাই অক্সাইডের টা হচ্ছে সালফার ট্রাই অক্সাইড। এইধরণের দূষণগুলো এখান থেকে আসবে।

ইটভাটা মালিকদের দাবি, সরকারি নির্দেশনা মেনে বর্তমানে ব্যবহার করা হচ্ছে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি জিকজ্যাক চুল্লি। অর্থাৎ, বড় কয়লাখন্ডের বদলে, এখন গুড়ো কয়লা আড়াআড়িভাবে নিক্ষেপ করা হয় চুল্লিতে।

আলীরটেক ইউনিয়ন ইটভাটা সমিতির সভাপতি আব্দুল গফুর রাজা বলেন, জিকজ্যাক পদ্ধতিতে কালো ধোঁয়াটা আমাদের এখানে খুব কম বের হয়। জলীয় বাষ্প টেনে উপরে নিয়ে যায়। আমাদের এখানে বায়ি দূষণের পরিমান প্রায় ৭৫% কমে গেছে।

অথচ পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জিয়াউল হক বলছেন, জিকজ্যাক যে পদ্ধতিতে তৈরি করার কথা ছিল, অধিকাংশ ইটভাটার মালিকরা সেভাবে তৈরি করেন নাই। যে বায়িদূষণটা কমার কথা সেই বায়িদূষণটা কমে নাই। নিয়ম হল নিচে একটা পানির প্রবাহ থাকবে, যে বাতাসটি বের হচ্ছে চিমনী দিয়ে সেটাকে টেনে ঐ পানির মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত করে তারপরে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাঁর ফলে কার্বন-ডাই-অক্সাইড, কার্বন-মনো-অক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড এগুলো জমে যায়।

তবে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিকজ্যাক চুল্লিতে সমাধান আসবে না। মাটি পুড়িয়ে ইট তৈরীর ধারা থেকে বেরিয়ে এসে ব্লক ইটের ব্যবহার শতভাগ করতে হবে। যার মূল উপাদান হবে সিমেন্ট, গুড়ো পাথর এবং নদীর তলীদেশে জমে থাকা অতিরিক্ত বালু ও পলিমাটি।

বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ইকবাল হাবিব বলেন, পরিবেশবান্ধব ইটভাটার ধুয়ো তুলে এই অত্যন্ত পরিবেশ ধ্বংসকারী বস্তুর উৎপাদন, বিপনন এবং ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

সেন্টার ফর হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চের নিরবাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবু সাদেক বলেন, ইটের বিকল্প শুধু ব্লক নয়, ইটের বিকল্প  কম্প্রেসড স্ট্যাবিলাইজড আর্ট ব্লক, কংক্রিট ব্লক, থারমাল ব্লক রয়েছে। এগুলো যেমন পরিবেশ বান্ধব, টেকশই বেশি এবং প্রচলিত ইটের চেয়ে দামেও কম।

বাংলাদেশে বর্তমানে অন্তত ৩০টি কোম্পানি তৈরি করছে ইটের বিকল্প ব্লক ইট। যা দিয়ে দেশের মোট ইটের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে অন্তত ২০-২৫ শতাংশ। এখাতে সংশিষ্টরা বলছেন, শতভাগ চাহিদা পূরণ করতে দরকার অন্তত ৩০০টি কারখানা।

কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি রক্ষা ও বায়ু দূষণ কমাতে বেশিরভাগ দেশই বন্ধ করেছে পোড়ামাটির ইটের ব্যবহার। দেরিতে হলেও, ২০২৫ সালের মধ্যে ধাপে-ধাপে সব সরকারি নির্মাণ কাজে ব্লক ইট ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকারও। পাশাপাশি রাজউক ও রিহ্যাবকে সম্পৃক্ত করে শিগগিরি বেসরকারিখাতেও এমন সিদ্ধান্তের পথেই হাটছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

চ্যানেল 24 বিশেষ খবর