channel 24

সর্বশেষ

  • নতুন মেয়াদে সভাপতি হওয়ার পর বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শেখ হাসিনার শ্রদ্ধা

  • বিজয় রুখতে বিএনপি প্রার্থীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে আ.লীগ: ফখরুল

  • হবিগঞ্জে গাছের সাথে বাসের ধাক্কায় ৩ জনের প্রাণহানি

  • সৌদিতে নবেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী চিহ্নিত

  • আইসিজের আদেশ: মেনে নেওয়ার আহবান গাম্বিয়ার; মায়নমারের প্রত্যাখ্যান

  • পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের শুভ সূচনা

ঘরের কাজ ভাগ করে নিলেই স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন নারীরা

ঘরের কাজ ভাগ করে নিলেই স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন নারীরা

ঘরের কাজ নারী-পুরুষ ভাগ করে নিলে, নারীরা অর্থনৈতিক কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন এবং স্বাবলম্বী হবেন। আর, আর্থিক স্বনির্ভরতা আসলে সমাজে নারীর সম্মান আপনা-আপনি প্রতিষ্ঠিত হবে। কমে যাবে নারীর প্রতি সহিংসতাও। এমন মত বিশেষজ্ঞ ও অধিকার কর্মীদের। তবে, এর জন্য সবার আগে দরকার, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন।

ঘর-গৃহস্থালিতে একজন নারীকে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ ধরণের কাজ করতে হয়।

সন্তান মানুষ করা, গবাদি পশুর পরিচর্যা, রান্না করা, কাপড় ধোয়া, কৃষি- এসব কাজে সব সময় তাদের ব্যস্ত থাকতে হয়। তবে, সকাল-সন্ধ্যা ঘন্টার পর ঘন্টা হাড়-ভাঙা খাটুনির পরও, মনে একটা গভীর ভাল লাগা কাজ করে, যখন দেখেন পরিবারের সবাই ভাল আছে।

কোথাও লেখা নেই, নারী একাই রান্না করবেন, সন্তান লালন-পালন করবেন, সেবাযত্ন করবেন, ঘর গোছাবেন ইত্যাদি। কিন্তু এসব কাজ নারীকেই করতে হয়। অধিকাংশ নারীও মনে করেন, এটাই তাদের নিয়তি।

তাঁরা বলেন, কষ্ট হতেই পারে তাতে কি, সংসারের কাজতো করতেই হবে, এটাই তো আমাদের জীবনের নিয়তি। এত কষ্ট করে তাও সম্মান পাওয়া যায় না।

নারীর এসব কষ্টসাধ্য কাজকে কাজই মনে করেন না অনেকে। পুরুষ শাসিত সমাজের দৃষ্টিতে, ঘরের কাজের আবার মূল্য কি? নারীকেই তো এগুলো করতে হবে।

গৃহকর্মের কোন স্বীকৃতি বা অর্থমূল্য না থাকায়, সমাজে নারীরা সব ক্ষেত্রে গুরুত্বহীন হয়ে পড়েন। তার প্রাপ্য সম্মানটুকু পান না, অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকারও হন।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, যেহেতু নারীর সংসারের কাজের কোন আর্থিক মূল্য নেই তাই তাঁর প্রতি দৃষ্টি ভঙ্গিটাও অন্য রকম হয়। তাঁর কোন মূল্য নাই, তাঁর কোন ভূমিকা নাই ইত্যাদি ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি থাকে। এর ফলে বিভিন্ন ধরনের সহিংসতাও দেখা দেয়। তাঁর প্রতি একটা মানসিক সহিংসতা থাকে, শারীরিক সহংসতাও থাকে।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলছেন, তাঁর কাজের এবং অবদানের যদি স্বীকৃতি সে পায় তাহলেই তাঁর প্রতি মর্যাদা বাড়বে, এবং মর্যাদা বাড়লেই তাঁর প্রতি সহিংসতা কমবে।

গৃহস্থালি কাজকে যখন কাজ মনে করা হবে, তখন নারীর সম্মান বাড়বে। একই সাথে কাজ ভাগ করে করার মানসিকতাও তৈরি হবে পুরুষের মনে। কাজ ভাগ করে নিলে, নারীর অমানবিক পরিশ্রম কিছুটা কমবে। ফলে নারীরাও সরাসরি অর্থনৈতিক কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার সময় ও সুযোগ পাবেন।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলছেন, গৃহস্থালি কাজের যে ভার সেটা যদি কিছুটা কমানো যায় তাহলে আশা করা যায় নারীশ্রম বাজারে আশার অবস্থানটা কিন্তু বাড়বে।
 
তবে এর জন্য সবার আগে দরকার দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম বলেন, ভাগ্যক্রমে আমরা যদি ইতিবাচক হিসেবে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে পারি, তবে একটি শিশু যখন বড় হবে সে, নারীদের যে ন্যায্য অধিকার আছে সেই অধিকার দিয়ে তাঁকে শ্রদ্ধা করতে পারবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

চ্যানেল 24 বিশেষ খবর