channel 24

সর্বশেষ

  • রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততার কারণেই ভারত যাননি স্বরাষ্ট্র-পররাষ্ট্রমন্ত্রী: কাদের

  • খালেদা জিয়াকে জামিন না দেয়ার সিদ্ধান্ত আদালতের নয়, সরকারের: রিজভী

  • কেরাণীগঞ্জের প্লাস্টিক কারখানার অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ আরও ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

  • ব্রিটেনের নির্বাচনে টিউলিপসহ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৪ নারীর জয়

  • যুক্তরাজ্যে নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল কনজারভেটিভ পার্টি

দিনে ১২-১৪ ঘণ্টা পরিশ্রম করেও নারীদের মেলে না প্রাপ্য সম্মান

দিনে ১২-১৪ ঘণ্টা পরিশ্রম করেও নারীদের মেলে না প্রাপ্য সম্মান

ভালোবাসা, আর হাড়-ভাঙা পরিশ্রমে সংসার আগলে রাখেন নারী। কিন্তু গৃহকাজের কোনো বাজারমূল্য না থাকায় অর্থনীতিতে নারীর কাজের স্বীকৃতি নেই। দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘন্টা পরিশ্রম করেও মেলে না প্রাপ্য সম্মান। তাই নারীর গৃহকাজের মূল্য বোঝাতে বিশেষ জরিপের দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীরা।

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার রাইল্যা গ্রামের বাসিন্দা হালিমা খাতুনের তিন মেয়ে। বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। এখন স্বামী ও দুই মেয়েকে নিয়ে তার সংসার। শীতের সকাল। কুয়াশার চাদরে মোড়ানো চারপাশ। পরিবারের সবাই যখন ঘুমিয়ে তখন জেগে ওঠেন হালিমা খাতুনের শুরু হয় জীবনের আরো একটি কঠিনতম দিনের।

মেয়েদের ঘুম থেকে জাগিয়ে শুরু করে দেন দিনের সবচেয়ে কঠিনতম কাজ রান্না করা। ফাঁকে ফাঁকে করতে হয় গবাদি পশুর পরিচর্যা ও গাভীর দুধ দোয়ানো। নাস্তা শেষে স্বামী যান মাঠে কাজ করতে। আর স্কুলের পথে পা বাড়ায় ছোট মেয়েটি।

এরপর কাপড় ধোয়া, খুটি-নাটি কাজ, দুপুরে রান্না, স্বামীকে কৃষি কাজে সহায়তা, হাঁস-মুরগি পালন- এমনি কাজের পর কাজ অবলিলায় করে যান তিনি।

একজন নারী তার সংসারে দিনে প্রায় ১২ থেকে ১৪ ঘন্টা কাজ করেন। শুধু কঠোর পরিশ্রমই নয় পরম মমতায় আগলে রাখেন পরিবারের সবাইকে। কিন্তু তাদের এই পরিশ্রমের কোন আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নেই। এদেশের পুরুষদের যদি প্রশ্ন করা হয় যে, আপনার স্ত্রী কি করেন? আর স্ত্রী যদি চাকরিজীবী না হন তাহলে উত্তরে তারা বলেন, কিছু করেনা।

অথচ নারীদের গৃহস্থালি সেবামূলক কাজের আনুমনিক অর্থনৈতকি মূল্য দেশের মোট জিডিপি আয়ের ৭৬ শতাংশের সমতুল্য।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, নারীরা ঘরের ভেতর যে কাজগুলো করেন সেগুলোর কোন বাজার মূল্য না থাকায় সেটা জিডিপিতে অর্ন্তভুক্ত হচ্ছে না।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, নারীদের কাজগুলো সমাজে উপস্থাপন করতে হবে। তাদের স্বীকৃতি দিতে হবে এবং নারীদের গৃহস্থালী কাজের মূল্য নির্ধারণ করতে হবে।   

বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যা নামে। রাতের খাবার তৈরি করে নিজে কতটুকু খেলেন তা না ভেবে সবাইকে খাইয়ে প্রতিদিনের মত ঘুমাতে যান হালিমা খাতুন। কে জানে পরের দিনের চিন্তায় হয়তো তার ঘুমও ঠিকভাবে আসবে না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

চ্যানেল 24 বিশেষ খবর