channel 24

সর্বশেষ

  • সংঘাত নয়, রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আলোচনা চলছে: প্রধানমন্ত্রী

  • মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন আধুনিক সময়ের গণহত্যা...

  • নেদারল্যান্ডসের আন্তর্জাতিক আদালতে মামলার শুনানিতে গাম্বিয়া...

  • রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিষয়ে মিয়ানমারের বক্তব্য মিথ্যা...

  • মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যা এখনও চলছে, রোধে ব্যবস্থা নিতে হবে

  • প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি: তারেক রহমান ও মির্জা ফখরুলসহ...

  • বিএনপির ১২ নেতার বিরুদ্ধে ফের মামলা

চট্টগ্রামের দুর্ঘটনা গ্যাস লিকেজ থেকেই: বিশেষজ্ঞরা

চট্টগ্রামের দুর্ঘটনা গ্যাস লিকেজ থেকেই: বিশেষজ্ঞরা

গ্যাস পাইপ লাইনের বিস্ফোরণে নয়, চট্টগ্রামের পাথরঘাটায় বড়ুয়া বিল্ডিংয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে গ্যাস লিকেজে। বিস্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন আগুনের সংস্পর্শ পেয়ে জমা হওয়া গ্যাস বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। তাদের মতে, অনেক দিনের পুরোনো গ্যাস সরবরাহ লাইনে তো ত্রুটি আছেই সেই সাথে বাসাবাড়ির গ্যাস লাইনগুলোও ত্রুটিপূর্ণ। বাড়ির মালিকরা এই লাইনগুলো রক্ষণাবেক্ষণে উদাসীন।

রোববার (১৭ নভেম্বর) সকালে চট্টগ্রামের পাঁচ তলা বড়ুয়া ভবনে, বিস্ফোরণের প্রাথমিক কারণ বলা হচ্ছে গ্যাস লাইন। কিন্তু বিস্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শকের মতে, বিস্ফোরণটি ঘটেছে বদ্ধ ঘরে গ্যাস জমে।

বিস্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক শামসুল আলম বলছেন, বদ্ধ অবস্থা ছাড়া বিস্ফোরণ ঘটবে না। পাইপে লিকেজ থাকলেও সেটি যদি খোলা জায়গায় থাকে তবে আগুন ধরলেও বিস্ফোরণ হবে না।

একই মত এই জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিমেরও। তিনি বলছেন, আমাদের যে ট্রান্সমিশন বা ডিস্ট্রিবিউশন লাইনগুলো রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে সে সবের বেশ কিছু জায়গায় আমরা জানি লিকেজ হচ্ছে। সেখানে আমরা দেখেছি, রাস্তায় আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে রাস্তায় আগুন জ্বলছে। সেখানে তো পাইপলাইন বাস্ট করে নাই। কারণ পাইপলাই আসলে বিস্ফোরিত হয় না। সেখানে যদি গ্যাস জমা থাকে তাহলে বিস্ফোরণ হতে পারে।

অর্থাৎ গ্যাসলাইন বিস্ফোরণ নয়, দুর্ঘটনার কারণ গ্যাস লিকেজ।

রাজধানী ঢাকা কিংবা বন্দর নগরী চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহে বসানো লাইনগুলো বহু পুরোনো। এতে লিকেজের খবর হরহামেশাই গণমাধ্যমে আসে। সাথে অবৈধ সংযোগের বিড়ম্বনা তো আছেই। বিদ্যুৎ, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুও স্বীকার করেছেন লাইনের ত্রুটির কথা।

তিনি বলেন, সমস্ত লাইনগুলোই এখন বিপদজনক। আমি বারবার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি আর পেট্রোবাংলাকে বলে আসছি কিন্তু তারা ইমিডিয়েট প্রজেক্ট নিচ্ছে না। যত্রতত্রভাবে লাইনগুলোর উপরেই বিল্ডিং নির্মাণ করছে। পাইলিং করতে যেয়ে গ্যাস লাইন ফুটো করে দিচ্ছে। কারো কোন সেন্স নাই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময় এসেছে সরবরাহ লাইন সংস্কারের। সেইসঙ্গে সচেতন হতে হবে বাসাবাড়ির মালিকদেরও। বাড়ির লাইনের ব্যাপারে তাদের উদাসিনতা, হতে পারে বড় দুর্ঘটনার কারণ।

বিস্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক শামসুল আলম বলেন, বাড়ির মালিকেরই মূল দায়িত্ব হল নিজের বাড়িগুলো ঠিকভাবে চেক করা। বদ্ধ জায়গায় গ্যাসলাইন না রেখে বাইরের দিকে মানে এমন ভাবে যেন পাইপ থাকে যেন লিকেজ হলেও গ্যাস জমতে না পারে। চুলার সংযোগের জায়গাটাও মাঝে মাঝে চেক করতে হবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিম বলেন, ঢাকা, চিটাগাং এবং অন্যান্য জায়গায় এইসব লাইনের বয়স মিনিমাম ১০ থেকে ৪০ বছর পর্যন্তও আছে। পুরনোগুলো রিপ্লেসমেন্টের একটা পরিকল্পনা আছে, কিন্তু রিপ্লেস করার আগেও তো আমাদেরকে রক্ষণাবেক্ষন করতে হবে।

গ্যাসের লিকেজ কমানো গেলে চট্টগ্রামের মতো দুর্ঘটনার আশঙ্কা যেমন কমবে, তেমনি বাঁচবে এ বাবদ জনগণের কোটি কোটি টাকার ব্যয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

চ্যানেল 24 বিশেষ খবর