channel 24

সর্বশেষ

  • ঈদের তৃতীয় দিনেও বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে ছিল লোকসমাগম

  • মুগদা হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকার ব্যয়ের বিষয়ে জানতে চায় দুদক

  • করোনার সমাধান সহজে নাও মিলতে পারে: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

  • কষ্টে বেঁচে আছেন বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষ, বাড়ছে পানিবাহিত রোগ

  • সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিহতের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বিএনপির বিবৃতি

  • কক্সবাজারে সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিহত: তদন্ত কমিটি কাল থেকে কাজ শুরু করবে

  • নিদিষ্ট সময়ে কোরবানির পশুর বর্জ্য পরিষ্কারে খুশি নগরবাসী

  • দাম না পেয়ে রাস্তায় চামড়া ফেলে দিলেন ব্যবসায়ীরা

  • ঈদ যাত্রায় করোনার সংক্রমণ বাড়তে পারে; আশঙ্কা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

  • চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ হয়েছে তিনলাখ

  • বর্জ্য অপসারণে এবার স্বস্তি মিলেছে চট্টগ্রাম মহানগরীতে

  • মেধা আর অদম্য শক্তিতে সংসারের হাল ধরলেন বিরল রোগে আক্রান্ত ফাহিমুল

  • নতুন মৌসুমে নেইমার ও মার্তিনেজকে কিনবে না বার্সেলোনা

  • ডিএনসিসির প্রতিটি এলাকা, শতভাগ বর্জ্যমুক্ত ঘোষণা

  • করোনায় দেশে আরও ৩০ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১৩৫৬

ইভিএমে ফল গড়াপেটার অভিযোগ: সত্যতা মিললেও নির্বিকার নির্বাচন কমিশন

ইভিএমে ফল গড়াপেটার অভিযোগ: সত্যতা মিললেও নির্বিকার নির্বাচন কমিশন

ফেব্রুয়ারির প্রথম দিনে অনুষ্ঠিত ঢাকা সিটি নির্বাচনে উত্তরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ইভিএমের ফল গড়াপেটার অভিযোগ উঠেছে। ওয়ার্ডটির সরকারদলীয় পরাজিত কাউন্সিলর প্রার্থী অভিযোগ করেছেন প্রকৃত ভোটসংখ্যার সাথে ইভিএমের ফলের কোন মিল নেই। এর সত্যতা যাচাই করেছে চ্যানেল টোয়েন্টিফোর। পাওয়া যায় অভিযোগের সত্যতা। রিটার্নিং কর্মকর্তার তথ্য- উপাত্তেও মিলেছে এর সত্যতা। তবুও চুপচাপ নির্বাচন কমিশন।

ঢাকা উত্তরের ৬ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ নেতা সালাউদ্দিন রবিন। দলের সমর্থন নিয়ে লড়েছেন সদস্য সমাপ্ত ইভিএমের সিটি নির্বাচনে। কিন্তু ফলাফল বিভ্রাটে হতাশায় ডুবেছেন তিনি। সালাউদ্দিনের অভিযোগ ১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে পাওয়া ফলাফলের হিসাব-নিকাশে তিনি জয়ী হলেও, রাতে নির্বাচন কমিশনের দেয়া ফলাফলে জেতানো হয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থী তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীকে।

৬ নং ওয়ার্ডের ২০৮ নং দ্বিগুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোট গনণা শেষে হাত লেখা ফলাফলে দেখা যায়, সালাউদ্দিন পেয়েছেন ১১৮ ভোট, আর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বাপ্পী ৬৫৮।

কিন্তু এর পর কৌশলে ওই কেন্দ্রে কেন্দ্রের ইভিএম এর ট্যাবের ফলাফল সংগ্রহ করেন সালাউদ্দিন। যাতে দেখেন, তার প্রাপ্ত ৬৫৮ ভোট দেয়া হয়েছে প্রতিপক্ষ তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর ঝুড়ি মার্কার নামে।

এবার নজর দেয়া যাক ওই কেন্দ্রের পাশের ২১০ নং কেন্দ্রে। হাতে লেখা ফলাফলে এই কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ২৪৮ ভোট দেখানো হয়েছে ঠেলাগাড়ি মার্কার আমজাদ হোসেন মোল্লাকে। আর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী ১ ভোট এবং ২৭ ভোট পেয়েছে সালাউদ্দিন রবিন। কিন্তু ট্যাবের কপি বলছে, এই কেন্দ্রের সর্বোচ্চ ২৪৮ ভোট পেয়েছেন সালাউদ্দিন রবিন। আর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী ২৭ ভোট ও ৪১ ভোট পেয়েছেন আমজাদ হোসেন মোল্লা।

এই ফলাফলের সত্যতা যাচাই করতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে চ্যানেল টুয়েন্টিফোর। রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাশেমের আপত্তি শুরুতেই, সিলগালা করার পর ফলাফল বের করার একমাত্র এখতিয়ার নির্বাচনী ট্রাইবুনালের। তাই আর ফলাফল যাচাইয়ের সুযোগ নেই।

এবার, উপস্থাপন করা হলো হাতে লেখা ফলাফল ও ইভিএম এর ট্যাবের ফলাফল কপি। স্বচ্ছতা যাচাইয়ে দুটি কেন্দ্রের ফলাফলের কপি তাৎক্ষনিক হাজির করলেন তিনি। কিন্তু বিপত্তি ঘটলো সেখানেও। হাতে লেখা কপির সাথে মিল পাওয়া গেলো না খোদ ইভিএম এর ফলে। ২১০ নং কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তার ফলাফলে আমজাদ মোল্লাকে ২৪৮ ভোট দেখানো হলেও রিটার্নিং কর্মকর্তা যে ইভিএম এর কপি সরবারহ করেছেন, এই ২৪৮ ভোট দেখানো হয়েছে তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর ঝুড়ি মার্কায়। এবার নিজেদেরে সরবারহ করা ফলাফলেই গোজামিলের চিত্র দেখে বিব্রত রিটার্নিং কর্মকর্তা নিজেই।

রিটার্নিং কর্মকর্তার তথ্যেই প্রমাণ হলো ইভিএম এর ফলাফলে কোথাও না কোথাও কারসাজি হয়েছে। তাহলে এই দায় কার?

কিন্তু দায় চাপালেও কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাভেদ শেখ বলছেন, তিনি ফলাফলে ভুল করেননি।

চুড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায় সালাউদ্দিন হেরেছেন ৭৮৮ ভোটের ব্যবধানে। কিন্তু ওই দুই কেন্দ্রের ফলাফলে যদি প্রতিপক্ষকে না দেওয়া হতো তবে, ভোটে জয় পেতেন, দাবি কমিশনার প্রার্থী রবিনের।

তিনি বলেন, এই ইভিএমে যারা কারসাজি করেছে, এদেরকে যদি এখন প্রতিরোধ করা না যায় তাহলে ভবিষ্যতে জাতীয় নির্বাচনে এই অর্থের বিনিময়ে অসাধু কর্মকর্তারা একটি সরকারকেও ফেলে দিতে পারে।

এই সব তথ্য উপস্থাপন করে ফলাফল স্থগিত ও পুর্নগণনার আবেদন করেন সালাউদ্দিন রবিন। কিন্তু তা নামঞ্জুর করেন নির্বাচন কমিশন।  

নির্বাচন কমিশন সচিব মো. আলমগীর বলেন, এখন তো আমরা কিছুই বলতে পারবো না যে রিটার্নিং কর্মকর্তার ভুল ছিল নাকি প্রিজাইডিং কর্মকর্তার ভুল ছিল। ট্রাইবুনালে যদি কোন অবজারভেশন দেয় তবেই আমরা সেখানে ব্যবস্থা নিতে পারবো।

এবারের ভোটে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে নির্বাচন কর্মকর্তাদের ভুলে হেরে যান আরেক প্রার্থী ঢাকা দক্ষিণে ৩১ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মো. আলমগীর। যদিও ইসির শুনাতিতে তা পরিবর্তন করা হয়। এছাড়াও বেশ কয়েকজন প্রার্থী ইভিএমর ফলাফল জালিয়াতি নিয়ে অভিযোগ করেছে নির্বাচন কমিশনে। কিন্তু সুরাহান হয়নি এখনো।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

জাতীয় খবর