channel 24

সর্বশেষ

  • টিভি পর্দায় আজকের খেলা

  • বরিশাল থেকে রাজধানীর উদ্দেশে ছেড়েছে তিনটি লঞ্চ

  • মডেল পিয়াসা গ্রেপ্তার

  • রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস

  • সিরাজগঞ্জে ব্রিজের অভাবে ২৫ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

  • বেড়াতে গিয়ে পিকাপের ধাক্কায় বাবার মৃত্যু

  • ভুয়া পরিচয়ে নিয়মিত টকশো করতেন ইশিতা!

  • বিধি-নিষেধে ঢাকায় কমেছে গ্রেপ্তার-জরিমানা

  • রংপুরে বখাটের ছুরিকাঘাতে আহত মাদরাসাছাত্রীর মৃত্যু

  • এবার এমপি শিমুলের বিরুদ্ধে জিডি করলেন সুজিত সরকার

  • এক স্বামীকে নিয়ে দুই বধূর টানাটানি

  • ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চিরুনি অভিযানের নির্দেশ

  • চতুর্থবারের মতো বিপিএল শুরুর সূচি দিলো বাফুফে

  • যুক্তরাষ্ট্র আর ড্রেসেলের শ্রেষ্ঠত্বে শেষ হলো অলিম্পিক সাঁতার

  • টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সমালোচনা নিয়ে বিরক্ত ডমিঙ্গো

আচরণই বলে দেবে আপনি কেমন

আচরণই বলে দেবে আপনি কেমন

আমরা সবাই জানি কথায় ও আচরণে যতটা সংযত হওয়া যায় ততটাই ভালো। তারপরও জীবনে চলার পথে এমন অনেক মানুষকে আমরা দেখি কথা আর কাজে তো মিল নেই আবার সামান্য ভদ্রতাও থাকে না। এখন কথা হলো সবাইতো আর এক মানসিকতার হয় না।

এমন অনেক মানুষ আছেন যারা আচরণ ভদ্রতাকে সাধারণ মানুষের দুর্বলতা মনে করে। আর এই সুযোগে কেউ কেউ সেই সাধারণ মানুষগুলোকে অপমান করে বসে। কখনও দেখা যায় এমনও হয় যা ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। 

আমাদেরকে সবসময় মনে রাখতে হবে যেন আমার কথায় বা আচরণে কেউ মনে কষ্ট না পায়।

কথায় ভালো আচরণে সদাচার হলে মানুষের জীবনটাই পাল্টে যায়। আসলে যা কিছু ভালো ও কল্যাণকর তাই শুদ্ধ। যা কিছু মন্দ, যা কিছু অকল্যাণকর তাই অশুদ্ধ। যা কিছু ন্যায় ও মানবিক তাই শুদ্ধ। যা কিছু অন্যায়, জুলুম ও অমানবিক তাই অশুদ্ধ। আর ঠিক এই কথাগুলোকে অনুসরণ করে আপনি আমি এবং সবাই জীবনযাপন করছি। এভাবেই এক প্রকার জীবন সংগ্রাম করে চলছি।

আপনি আমি সবাই চাই আমাদের সন্তান যেনো আগে ভালো কথা বলা আর সুন্দর আচরণ করতে শেখে। সন্তানকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে আগে জানাতে হবে ভালো-মন্দ সম্পর্কে, ন্যায়-অন্যায় সম্পর্কে, করণীয়-বর্জনীয় সম্পর্কে। নৈতিক অনৈতিক যাচাই করে নিতে হবে প্রতিটি কথা ও কাজকে।

একজন মানুষের যে কারো সাথেই হোক না কেনো কথা ও আচরণে অনেকগুলো শিষ্টাচার থাকতে হয়। আসুন দেখে আসি কি কি শিষ্টাচার জানা থাকা ভালো।

১. যে কারো কথা শোনার সময় আন্তরিক ও মনোযোগী হতে হবে।

২. ধীরে স্পষ্টভাবে শুদ্ধ ভাষায় এবং পরিমিত স্বরে কথা বলতে হবে।

৩. কোথায় কীভাবে কাকে কতটুকু কথা কার সামনে বলছেন তা খেয়াল রেখে বলুন। বলার ক্ষেত্রে কুশলী হোন।

৪. বয়স এবং সম্পর্কের ধরণ যেমনই হোক সবচেয়ে সুন্দর ও নিরাপদ সম্বোধন হচ্ছে ‘আপনি’।

৫. গায়ের জোরে নিজের মত ও সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে যাবেন না।

৬. প্রত্যেককে সম্মানসূচক সম্বোধনসহ অর্থবহ ভালো নামে ডাকুন। আলাপ আলোচনায় একাধিকবার নাম উল্লেখ করুন।

৭. আগ বাড়িয়ে বলার অভ্যাস ত্যাগ করুন।

৮. অনুমতি ছাড়া অন্যকে করা প্রশ্নের উত্তর নিজে দেবেন না।

৯. দুজনের কথার মাঝে কথা বলবেন না। কখনো বলে ফেললে ‘দুঃখিত’ বলুন।

১০. কারো কথা শোনার সময় অকারণে এদিক-ওদিক/মোবাইল স্ক্রিনের দিকে না তাকিয়ে তার প্রতি পূর্ণ মনোযোগ দিন।

১১. আলাপ-আলোচনার মাঝখানে ওঠার প্রয়োজন হলে অনুমতি নিয়ে উঠুন।

১২. বুঝতে বা শুনতে অসুবিধা হলে ‘হুঁ/ অ্যাঁ/কী' জাতীয় শব্দ না করে বলুন : জ্বী/দুঃখিত/দয়া করে আবার বলুন।

১৩. গুজব ও কানকথায় কান দেবেন না। যারা কানকথা ছড়ায় তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।

১৪. একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার সময় প্রত্যেকের দিকেই মাঝে মাঝে তাকান। তবে কারো দিকে অপলক তাকিয়ে থাকবেন না।

১৫. বাহুল্য কথা বর্জন করুন। অপ্রাসঙ্গিক ও অহেতুক কথাবার্তা আপনার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করবে।

১৬. অপরপক্ষকে তার বক্তব্য শেষ করতে দিন। তারপর আপনি বলুন।

১৭. কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে সঙ্গত কারণ ছাড়া নীরব থাকবেন না। এতে তাকে অবজ্ঞা করা হয়। কিছু না বললেও স্মিত হাসুন।

১৮. বাস্তব কারণে কখনো সত্য বলতে না পারলেও অহেতুক মিথ্যা বলবেন না। নীরব থাকুন।

১৯. কথায় কথায় শপথ করা, কসম কাটা বা অভিশাপ দেয়া থেকে বিরত থাকুন।

২০. বয়োজ্যেষ্ঠ কারো সাথে কথা বলার সময় তিনি দাঁড়ানো অবস্থায় থাকলে আপনিও দাঁড়ান। বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ও মুখভঙ্গিতে বিনয় প্রকাশ করুন।

২১. মুখের কাছে মুখ নিয়ে, গায়ে হাত দিয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকুন।

২২. জনসমক্ষে নিজের গুরুত্ব জাহির করার উদ্দেশ্যে আমন্ত্রিত অতিথি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কানে কানে কথা বলবেন না।

২৩. অপ্রাসঙ্গিক ও অর্থহীন কথাবার্তা, আলাপ, আড্ডা এড়িয়ে চলুন। আপনার সময় ব্যয় করুন আপনার রুটিন অনুসারে।

২৪. অপরিচিত কারো সঙ্গে কথা বলার সময় বোঝার চেষ্টা করুন- তিনি আপনার সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী কিনা।

২৫. ধর্মগ্রন্থ থেকে কোনো বাণী উদ্ধৃত করলে তার সুনির্দিষ্ট রেফারেন্স উল্লেখ করুন। কোরআনের বাণীকে ‘হাদীসে আছে’ অথবা হাদীসকে ‘কোরআনে আছে’-এ ধরনের কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। 

আসলে আপনার আচরণই বলে দেবে আপনি কেমন মানুষ। কথা ও আচরণে ধার্মিক না অধার্মিক। আসলে ধার্মিক যেমন দুরাচারী হতে পারে না, তেমনি দুরাচারীও কখনো ধার্মিক বলে গণ্য হতে পারে না। করণীয়-বর্জনীয়গুলো আন্তরিকতার সাথে যিনিই অনুসরণের চেষ্টা করবেন নিঃসন্দেহে তিনি হয়ে উঠবেন একজন ভালো মানুষ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

লাইফস্টাইল খবর