channel 24

সর্বশেষ

  • গাদ্দাফির ছেলের প্রার্থিতা বৈধ বললেন আদালত

  • কুয়েটে এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজমান

  • মহেশ বাবুর অস্ত্রোপচার

  • করোনা নিয়ে মিথ্যাচার করায় ‘চীনা নেটওয়ার্ক’ মুছে দিলো ফেইসবুক, ইনস্টাগ্রাম

  • দুর্গাপুরে চিনামাটির পাহাড়ে নেই টুরিজম ফ্যাসিলিটি

  • ঠেলা দিয়ে বিমান সরাচ্ছে যাত্রীরা, ভিডিও ভাইরাল

  • শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়ল বাঘ, শিক্ষার্থীকে আক্রমণ (ভিডিও)

  • বিশ্বে আবারও বাড়লো করোনায় আক্রান্ত ও মৃ ত্যুর সংখ্যা

  • টিকা নেয়ার পরও আক্রান্ত, ২৭ দেশে ওমিক্রন শনাক্ত

  • গ্যাস সিলিন্ডারে দগ্ধ ভাই-বোন মারা গেছেন

  • অভিমানে চেয়ারম্যানের দেয়া উপহার আগুনে পোড়ালেন সমর্থক

  • বিজয় দিবসে দেশব্যাপী শপথ বাক্য পাঠ করাবেন প্রধানমন্ত্রী

  • করোনার টিকা নিতে হবে টানা কয়েক বছর: ফাইজার প্রধান

  • চার বছর পর হিলি দিয়ে কয়লা আমদানি শুরু

  • নারী কেলেঙ্কারি: নাচোলের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার

প্রকাশ্যে নামাজের অনুমতি প্রত্যাহার, এগিয়ে আসছে স্থানীয় হিন্দুরাই

প্রকাশ্যে নামাজের অনুমতি প্রত্যাহার, এগিয়ে আসছে স্থানীয় হিন্দুরাই

সম্প্রতি ভারতের গুরুগ্রামে মুসলিমদের প্রকাশ্যে নামাজ পড়া নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে কয়েকটি কট্টর হিন্দুপন্থী সংগঠন। তাদের বাড়াবাড়িতে ৩৭টি স্থানের মধ্যে ৮টি স্থান থেকে নামাজ পড়ার অনুমতি প্রত্যাহার করে নেয় গুরুগ্রাম প্রশাসন। এমনকি কট্টরপন্থী হিন্দুরা জুমার দিন নামাজের স্থানে ধর্মীয় আচার পালন করে।

তবে ওইসব কট্টর হিন্দুদের এমন কর্মকাণ্ডে বিব্রত হয়েছেন এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু-মুসলিম মিলে সম্প্রীতির সঙ্গে বাস করে আসছেন তারা। তবে বিজেপির কট্টরপন্থী নেতাদের উস্কানিতে সেখানকার পরিস্থিতি দিনকে দিন খারাপ হচ্ছে। তুর্কি সম্প্রচারমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডে এ নিয়ে বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন করেছেন রিশব জৈন ও ফাতেহ গুরাম।

এদিকে নিপীড়নের শিকার মুসলিম ভাইদের পাশে দাঁড়িয়েছে এলাকাবাসী। স্থানীয় শিখরাও এসেছে এগিয়ে। মুসলিমদের নামাজ পড়ার সুযোগ দিতে গুরুদুয়ারা খুলে দেয় তারা। যদিও পরবর্তীতে কট্টর হিন্দুদের চাপে মুসলিমদের নামাজের সুযোগ দেয়া বাধ্য হয়ে বন্ধ করে দেয় শিখরা। ওসব কট্টর-সহিংস হিন্দুদের বিপরীতে রয়েছে উদার হিন্দুও। মুসলিমদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তারাও।

গুরুগ্রামের বাসিন্দা ৪৫ বছর বয়সী আলতাফ আহমেদ নামাজ পড়ার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে জানার পর হতবাক হয়ে যান। প্রথমে ভারত মাতা বাহিনী (বিএমভি) নামে এক উগ্রবাদী সংগঠন প্রকাশ্যে নামাজের বিরোধিতা করে। অথচ মসজিদের অভাবে দীর্ঘদিন থেকেই প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে প্রকাশ্যে নামাজ পড়ে আসছিলেন স্থানীয় মুসলিমরা।

আরও পড়ুন : ২০ তলা থেকে পড়ে উল্টো হয়ে ঝুলে ছিলেন তিনি (ভিডিও)

গুরুগ্রাম নাগরিক একতা মঞ্চের সহ-প্রতিষ্ঠাতা আলতাফ তখন মুষড়ে পড়েন এই বৈষম্য দেখে। প্রত্যেক মুসলিমের জন্য নামাজ গুরুত্বপূর্ণ এবং ইসলাম ধর্মের অন্যতম খুঁটি হওয়ার তা আদায় করতে না পারা নিয়ে আশঙ্কার মধ্যে পড়ে যান তিনি।

ভারত মাতা বাহিনী এবং সংযুক্ত হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি নামক দু’টি কট্টর উগ্রবাদী সংগঠন এ বিভেদ ছড়ানোয় দায়ী। সংগঠন দু’টি আবার কট্টর ডানপন্থী বিজেপি মদদপুষ্ট। তাই সংগঠন দু’টির চাপের মুখে গুরুগ্রাম প্রশাসন ৮টি স্থান থেকে নামাজের অনুমতি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়।

মুসলিমদের ওপর তাদের এমন নিপীড়ন দেখে এগিয়ে আসে স্থানীয় হিন্দু ও শিখরা। তারা মুসলিমদের নিজেদের জায়গায় নামাজ পড়ার অনুরোধ জানায়। তাদেরই একজন অক্ষয় যাদব। স্থানীয় এই বাসিন্দা নিজের দোকানই খুলে দিয়েছেন নামাজ পড়ার জন্য। আবার রাহুল দেব নামে এক সিনিয়র সাংবাদিক নিজের বাড়ির উঠানেই নামাজ পড়ার জন্য বলেছেন মুসলিমদের।

আরও পড়ুন : সিমেন্ট মিক্সার খেয়ে সৌদি প্রবাসীর আত্মহত্যার চেষ্টা

আর শিখরা তো গুরুদুয়ারাই খুলে দিয়েছিলেন। সেখানেও বাগড়া দেয় হিন্দুরা। শেরদিল সিং সিধু জানান, মুসলিম ভাইদের নামাজের জায়গা দেয়ায় হিন্দুদের রোষানলে পড়তে হয় তাদের। পরে মুসেলিম ভাইদের সে কথা জানালে তারা নিজেরাই গুরুদুয়ারায় নামাজ না পড়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

আলতাফ বলেন, যাদবের একটি অটোমোবাইল গ্যারেজ রয়েছে। সেখানে মুসলিমদের নামাজের জায়গা দেয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। আগামী রমজানেও সেখানে রাত জেগে ইবাদত বন্দেগী করার অনুমতি দিয়েছিলেন যাদব। এভাবে আরও অনেকে এগিয়ে এসেছেন মুসলিমদের পাশে।

এই সম্প্রীতির বন্ধনই ভারতবর্ষে বিরাজ করে আসছে যুগ যুগ ধরে। কিন্তু কিছু উগ্রবাদী মানুষ ও তাদের তৈরি সংগঠন ছড়াচ্ছে বিভেদ, বাড়াচ্ছে বৈষম্য। সহিংসতার বিষবাস্প ভরে দিচ্ছে হিন্দু-মুসলিমদের মনে। তাই সহিংসতা কিংবা বৈষম্য নয়, সবাই মিলে সম্প্রীতির এক পৃথিবী গড়ে তুলেতে পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ। 

টি/এইউ

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আন্তর্জাতিক খবর