channel 24

সর্বশেষ

  • মধ্যরাত থেকে যেসব এলাকায় মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ

  • যশোরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের হামলায় নৌকার ২০ কর্মী আহত

  • পান্থপথে ময়লার গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু : ডিএনসিসির সেই চালক গ্রেপ্তার

  • রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ক্রমবর্ধমান সহিংসতা সীমান্তের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে: প্রধানমন্ত্রী

  • আমতলীতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান রাফেজা বেগম

  • ২২ কোটি টাকা লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে আখ মাড়াই শুরু

  • শেরপুরে আ.লীগ নেতাকে বহিষ্কারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

  • করোনার নতুন ধরন ‘ভয়ংকর’, দেশে দেশে সতর্কতা

  • আকর্ষণীয় বেতনে চাকরি দিচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

  • নতুন সময়ে মাঠে গড়াবে দ্বিতীয় দিনের খেলা

  • সন্ত্রাসীদের কোনো ধর্ম নেই: ভারতের হাইকমিশনার

  • চরের অবশিষ্ট মানুষকে দ্রুত বিদ্যুৎ দিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

  • যাদের কারণে হুমকির মুখে শোয়েবের ১৮ বছরের রাজত্ব

  • পাকিস্তান ম্যাচ শুরুর আগে ভয়ে কাঁপছিলেন কোহলিরা: ইনজামাম

  • মারা গেলেন পৃথিবীর প্রবীণতম নারী

বিজ্ঞানিদের নতুন গবেষণায় মানবজাতির উৎস নিয়ে বিতর্ক

বিজ্ঞানিদের নতুন গবেষণায় মানবজাতির উৎস নিয়ে বিতর্ক

গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে পাওয়া কিছু পায়ের ছাপকে ৬০ লক্ষ বছরের পুরনো বলে মনে করা হয়। পৃথিবীর বুকে মানবসদৃশ কোনো প্রাণীর এটাই প্রাচীনতম চিহ্ন । কিন্তু সাধারণত যেটা মনে করা হয় যে - মানবজাতির উদ্ভব ঘটেছিল আফ্রিকায় এবং প্রায় ২০ লক্ষ বছর আগে। পরে তারা পৃথিবীর অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে। ক্রিট দ্বীপের আবিষ্কারের সাথে এই তত্ত্ব একেবারেই খাপ খায় না। তাই বৈজ্ঞানিকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে মানবজাতির উৎস সম্পর্কে এক নতুন বিতর্ক। 

এই পায়ের ছাপগুলো পোলিশ জীবাশ্মবিদ জেরার্ড গিয়েরলিনস্কি খুঁজে পেয়েছিলেন ২০০২ সালে । তখন থেকেই বিজ্ঞানী মহলে এগুলো পরিচিত ছিল 'ট্রাকিলোস ফুটপ্রিন্ট' নামে।

১৯৭৬ সালে তানজানিয়ায় পাওয়া লেটোলি ফুটপ্রিন্টস

কিন্তু নতুন এক জরিপে দাবি করা হচ্ছে- মানুষের পূর্বপুরুষদের অস্তিত্বের এ ধরনের যত প্রমাণ এ পর্যন্ত পাওয়া গিয়েছে, তার মধ্যে এটিই প্রাচীন।

অক্টোবর মাসের ১১ তারিখ সায়েন্টিফিক রিপোর্টস নামের এক জার্নালে এই গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়। 
মানবজাতির উৎস সম্পর্কে এতকাল যে ধারণা সর্বজনগ্রাহ্য ছিল তাকে চ্যালেঞ্জ করেছে নানা দেশের বিজ্ঞানীদের নিয়ে গঠিত গবেষক দলটির লেখা ওই নিবন্ধ।

এই তত্ত্বে বলা হয় মানুষের উদ্ভব ঘটেছিল আফ্রিকা মহাদেশেই, তবে তার পরে তাদের এক 'মহা অভিবাসন' ঘটে। মানুষেরা পৃথিবীর বাকি অংশে ছড়িয়ে পড়তে থাকে, যা শুরু হয়েছিল ২০ লক্ষ বছর বা তার কিছু কম সময় আগে।

এর আগে মানব-সদৃশ পায়ের ছাপের প্রাচীনতম প্রত্যক্ষ নমুনা বলে মানা হতো 'লেটোলি ফুটপ্রিন্টস'কে - যা ১৯৭৬ সালে পাওয়া গিয়েছিল তানজানিয়ায়।

কিন্তু পার আহলবার্গের দাবি- তানজানিয়ার পায়ের ছাপের চাইতেও প্রায় ২৫ লক্ষ বছর বেশি পুরোনো এই ট্রাকিলোস ফুটপ্রিন্টস।

গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের এই পায়ের ছাপ ৬০ লক্ষ বছরের পুরনো বলে মনে করা হয়।

মানবজাতির একটা ফ্যামিলি ট্রি বা বংশপরিচয় তৈরির ক্ষেত্রে আফ্রিকা পাওয়া নিদর্শনগুলোর ভুমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আফ্রিকায় গত ১০০ বছরে পায়ের ছাপ ছাড়াও প্রাক-মানব যুগের অসংখ্য ফসিল বা জীবাশ্ম পাওয়া গেছে।

এর একটি হচ্ছে 'সাহেলানথ্রোপাস'-এর মাথার খুলি। অনুমান করা হয় ৭০ লক্ষ বছর আগে তার বাস ছিল আফ্রিকায়। এটিই হচ্ছে আজ পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে পুরোনো হোমিনিন নমুনা। তুলনামূলকভাবে ইউরোপে এ ধরনের অস্থির জীবাশ্ম পাওয়া গেছে খুবই কম।

সেই গবেষণাপত্রটিতে আহলবার্গ এবং তার সহকর্মীরা বলেন, এই পায়ের ছাপগুলো হোমিনিনদের পায়ের ছাপের মত। কারণ এতে বুড়ো আঙুলটি যেভাবে অন্য আঙুলগুলোর কাছাকাছি হয়ে আছে - তার সাথে গরিলা বা শিম্পাঞ্জির মত অন্য 'প্রাইমেট' বা বানরজাতীয় প্রাণীদের পায়ের গড়নের মিল নেই।

আহলবার্গদের এই আবিষ্কারকে কিছু জীবাশ্মবিদ সংশয়ের চোখে দেখছেন। তারা বলছেন, এই পায়ের ছাপ বিশ্লেষণে অনুসৃত পদ্ধতি নিয়ে। কয়েকজন তো এমন কথাও বলেছেন যে এগুলো আসলে হয়তো কোন পায়ের ছাপই নয়।

যুক্তরাজ্যের বোর্নমাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং পায়ের ছাপ বিশেষজ্ঞ ম্যাথিউ বেনেট গ্রিসে ওই পায়ের ছাপগুলো পরীক্ষাকারী দলের সদস্য ছিলেন। কিন্তু এমনকি তিনিও এর মূল্যায়ন নিয়ে সন্দিহান।

তিনি বলেন, এগুলো খুবই কৌতুহলোদ্দীপক পায়ের ছাপের ফসিল, হয়তো কোনো দুপেয়ে প্রাণী এই ছাপ রেখে গিছে।

জীবাশ্মবিদরা মনে করেন যে ওরাংওটান, গরিলা, শিম্পাঞ্জী এবং মানুষ। যাদেরকে বলা হয় গ্রেট এপস (Great Apes) বা বৃহদাকার বানরজাতীয় প্রাণী। তাদের উদ্ভব ও বহুমুখী বিকাশ ঘটেছিল প্রায় ৫০ লক্ষ থেকে ২ কোটি ৩০ লক্ষ বছর আগে। এই কালপর্বটিকে বলা হয় মায়োসিন যুগ।

ট্রাকিলোস ফুটপ্রিন্টস নিয়ে প্রথম গবেষণাপত্র যখন বের হচ্ছে- সেই ২০১৭ সালেই জার্মান জীবাশ্মবিদ, টুবিংগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেডেলিন বোহম নিজেই একটি আবিষ্কারের কারণে সংবাদ শিরোনাম হয়েছিলেন।

তিনি ঘোষণা করেন, মানুষ এবং শিম্পাঞ্জীর "শেষ অভিন্ন পূর্বপুরুষ" আবিষ্কৃত হয়েছে - এবং তাকে খুঁজে পাওয়া গেছে আফ্রিকাতে নয়, ইউরোপে।

বোহম এবং একটি গবেষকদল দাবি করেন এই প্রাণীটির - যার নাম দেয়া হয়েছে গ্রেকোপিথিকাস - আবাসস্থল ছিল বলকান অঞ্চলে ৭০ লক্ষ ১৮ হাজার থেকে ১৭ লক্ষ ২৫ হাজার বছর আগের কোন এক সময়।

তার মানে এটি সাহেলানথ্রোপাসের চেয়েও পুরোনো এবং মানুষের যে সর্বপ্রাচীন পূর্বপুরুষ প্রথম সোজা দাঁড়িয়ে হাঁটতে পারতো বলে আজ অবধি মনে করা হয় - তা হচ্ছে এই সাহেলানথ্রোপাস।

এখন পর্যন্ত গ্রেকোপিথিকাসের দেহাবশেষ যা পাওয়া গেছে তা হচ্ছে একটি দাঁত এবং একটি চোয়ালের হাড়। হাড়টি পাওয়া গিয়েছিল গ্রিসে, ক্রিট থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরে।

বোহম বলেন, মানুষের বিবর্তনের ৫০ লক্ষ বছর আগের ইতিহাসকে আমাদের অনুসন্ধান চ্যালেঞ্জ করছে না, প্রশ্ন তুলছে তারও আগে কি হয়েছিল তা নিয়ে।

সংশয় ও বিজ্ঞান

ট্রাকিলোস ফুটপ্রিন্টস নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে - তাতে বিজ্ঞানীরা একটি ব্যতিক্রমী তত্ত্বকে কিভাবে দেখেন তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।

রবিন ক্রম্পটন বলেন, ট্রাকিলোস ফুটপ্রিন্টস নিয়ে তার সংশয় থাকলেও এ গবেষণাকে তিনি উড়িয়ে দিচ্ছে না। 

মেডেলিন বোহম এব্যাপারে একমত। তিনি বলছেন, মানবজাতির উৎস সম্পর্কে তত্ত্বের ক্ষেত্রে আগেও বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৯২৪ সালে যখন ২৮ লক্ষ বছরের পুরোনো 'তাউং শিশু' নামে পরিচিত একটি নবজাতকের দেহাবশেষ পাওয়া গিয়েছিল - তার পর "আফ্রিকা তত্ত্ব" দেয়া হলেও তা কিন্তু সাথে সাথেই ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়নি।

পায়ের ছাপ চুরি

ট্রাকিওস ফুটপ্রিন্টস নিয়ে যে শুধু বৈজ্ঞানিকরাই কৌতুহলী হয়ে উঠেছেন তাই নয়। ২০১৭ সালে তাদের আবিষ্কারের কথা ঘোষণার কয়েক সপ্তাহ পরই কিছু পায়ের ছাপ চুরি হয়ে যায়।

আটটি পায়ের ছাপ বাটালি দিয়ে পাথর থেকে খুঁড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। গ্রিক পুলিশ পরে একজন স্থানীয় হাইস্কুল শিক্ষককে এজন্য গ্রেপ্তার করে। পরে অবশ্য ফসিলগুলোও উদ্ধার করা হয়। 

সূত্র: বিবিসি বাংলা 

জে/

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আন্তর্জাতিক খবর