channel 24

সর্বশেষ

  • ব্রিটিশ পাসপোর্টে জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনি অঞ্চল বলায় ইসরায়েলে তোলপাড়

  • জুলাই থেকে বড় পরিসরে টিকাদানের প্রত্যাশা

  • বিনামূল্যে জমিসহ ঘর পাচ্ছেন আরও ৫৩ হাজার ৩৪০টি পরিবার

  • রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় খালেদা জিয়া বিদেশ যেতে পারছেন না: ফখরুল

  • বিএনপি ধ্বংসাত্মক অপশক্তির পৃষ্ঠপোষকতা করে: কাদের

  • খুলনা জেনারেল হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য চালু হচ্ছে ৭০ শয্যা

  • তামাকের ন্যায্যমূল্যসহ ৬ দফা দাবি তামাক চাষী ও ব্যবসায়িক সমিতির

  • চাঁদপুর সদর থেকে অজগরসহ ৮টি বন্যপ্রাণি উদ্ধার

  • স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১৩টি স্থানে পশুর হাট বসবে: তাপস

  • কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গাজীপুর পুলিশ সুপারের সভা

  • নবম বাংলাদেশি হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে শতক মিজানুরের

  • সেনাসদস্য মুকুলের মৃত্যুতে নবনিযুক্ত সেনাপ্রধানের শোক

  • ৭ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বসিকের সাবেক মেয়র কামাল জামিনে মুক্ত

  • পদ্মার পানিতে বিলীন পাটুরিয়া ২নং ঘাট, হুমকিতে বাকি চারটিও

  • মৌলভীবাজারে শ্লীলতাহানীর অভিযোগে ইমাম কারাগারে

প্রায় ২০০ বছর পর প্রথম মসজিদ চালু হলো এথেন্সে

প্রায় ২০০ বছর পর প্রথম মসজিদ চালু হলো এথেন্সে

সব জল্পনা ও কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রায় দু-শতাব্দী পর গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম মসজিদের উদ্বোধন করা হচ্ছে। শুক্রবার জুম্মার নামাজের মধ্য দিয়ে এ মসজিদের কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছে তুরস্কভিত্তিক গণমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড। তবে সেকেন্ড ওয়েভে ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো গ্রিসেও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব ও কঠোর স্বাস্থ্যবিধির মধ্য দিয়ে আপাতত স্বল্পসংখ্যক মুসল্লির উপস্থিতিতে এ মসজিদের কার্যক্রম শুরু করা হবে।

বলকান উপদ্বীপের সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত ৫০,৯৪৯ বর্গমাইলের মাঝারি আয়তনের দেশ গ্রিস। উত্তরে আলবেনিয়া, মেসিডোনিয়া ও বুলগেরিয়া, পূর্বে তুরস্ক ও এজিয়ান সাগর, দক্ষিণে ক্রেতান ও লিবিয়ান সাগর এবং পশ্চিমে আইয়োনিয়ান সাগর দ্বারা পরিবেষ্টিত এ দেশটি আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতার ভিত্তিভূমি হিসেবে পরিচিত। পাশপয়াশি গ্রিস পূর্বাঞ্চলীয় অর্থোডক্স খ্রিস্টানিটির প্রধান তীর্থভূমি হিসেবে সমাদৃত। সর্বশেষ ২০১৯ সালের জনগণনা অনুযায়ী দেশটিতে প্রায় এক কোটির মতো মানুষ বসবাস করেন যাদের মধ্যে শতকরা ৯০ ভাগের মতো মানুষ অর্থোডক্স খ্রিস্টানিটির অনুসারী। অর্থোডক্স খ্রিস্টানিটির পর দেশটির সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ ইসলাম ধর্মের অনুসারী যারা দেশটির মোট জনসংখ্যার দেড় শতাংশের মতো। 

গ্রিসে বসবাসরত ইসলাম ধর্মালম্বী মানুষের একটা বড়  অংশ তুর্কি  ও আলবেনিয়ান বংশোদ্ভূত। এছাড়াও বেশ কিছুসংখ্যক গ্রিকভাষী মানুষ র‍য়েছেন যারা জন্মগতভাবে মুসলিম। গ্রিসের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত থ্রেস দেশটির সর্ববৃহৎ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল এবং গোটা ইউরোপের মধ্যে থ্রেসই একমাত্র অঞ্চল যেখানে শরীয়আহ আইন চালু রয়েছে।  ১৯২৩ সালে স্বাক্ষরিত লুজার্ন চুক্তির ফলে দেশটিতে বসবাসরত মুসলিম জনগোষ্ঠীর সিংহভাগ মানুষকে তুরস্কে চলে যেতে হয়। বিপরীতক্রমে, তুরস্ক তথা এশিয়ান মাইনর অঞ্চলে ববসাস করা খ্রিস্টান ও ইয়াহুদি ধর্মালম্বী মানুষদেরকে গ্রিসে স্থানান্তর করা হয়। সত্তরের দশকের পর থেকে এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে অনেকেই অভিবাসী হিসেবে গ্রিসে পাড়ি জমাচ্ছেন যাদের মাঝে একটি বড় অংশের মানুষ ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী।   

মূলত তুরস্কের অটোমান সাম্রাজ্যের হাত ধরে গ্রিসে ইসলামের বিস্তৃতি ঘটে। ১৮২১ সালে এথেন্সসহ বর্তমান গ্রিসের বেশ কিছু অঞ্চল অটোমান শাসন থেকে নিজেদের মুক্ত করার জন্য স্বাধীনতার আন্দোলনের ডাক দেয়। অবশেষে ১৮২২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রথম হেলেনিক প্রজাতন্ত্র যার রাজধানী হিসেবে নির্বাচিত করা হয় এথেন্সকে। ১৮৩৩ সাল থেকে তদান্তীন হেলেনিক প্রজাতন্ত্রের সরকারের অর্থায়নে  এথেন্সে একটি মসজিদ নির্মাণের প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন এ অঞ্চলে বসবাস করা মুসলিম ধর্মালম্বী মানুষেরা। এমনকি ১৮৯০ সালে সরকারিভাবে এথেন্সে মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিলো। তবে বিভিন্ন সময়ে দেশটির অতি ডানপন্থী ও রক্ষণশীল রাজনৈতিক জোটগুলোর তীব্র বিরোধিতা, বিভিন্ন ধরণের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, অর্থোডক্স চার্চগুলোর বাধা এবং আর্থিক অনটনের মাঝে সুদীর্ঘকাল সেখানে মসজিদ নির্মাণের বিষয়টি আলোর মুখ দেখে নি। 

গ্রিসের সাথে তুরস্কের রাজনৈতিক বৈরিতা দীর্ঘদিনের। এ কারণে গ্রিসের অনেক সাধারণ মানুষও এতদিন পর্যন্ত এথেন্সে মসজিদ নির্মাণের বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলো। তাদের অনেকের মতে গ্রিসে নতুন করে কোনও মসজিদ নির্মাণ করার অর্থ পুনরায় দেশটিতে অটোমান সাম্রাজ্যের ইতিহাসের পুর্নজাগরণ ঘটানো। উল্লেখ্য যে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশগুলোর মাঝে এতোদিন পর্যন্ত এথেন্স ছিলও একমাত্র রাজধানী শহর যেখানে সরকারিভাবে কোনো মসজিদ ছিলো না।

গ্রিক সরকারের অর্থায়নে নির্মিত এ মসজিদটি তৈরি করতে আনুমানিক ৮,৮৭,০০০  ইউরোর খরচ হয়েছে। ২০১৬ সালে চূড়ান্তভাবে এ মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু করা হয় এবং ২০১৭ সালে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়। গ্রিসের শিক্ষা ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কোস্তাস গাভ্রোগলু গত সপ্তাহে এক রেডিও সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন এ মসজিদে একসাথে ৩৫০ মানুষ নামাজ আদায় করতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে এ মসজিদের নাম রাখা হয়েছে ভোতানিকোস মসজিদ। এথেন্সের হার্টখ্যাত সিনতাগমা স্কয়ার থেকে প্রায় চার কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে নৌবাহিনীর একটি পরিত্যক্ত ঘাঁটির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে এ মসজিদ। হয়েছে তবে গতানুগতিক মসজিদগুলোর থেকে কিছুটা ভিন্ন হওয়ায় বিশেষত কোনো ধরণের মিনার বা গম্বুজ না থাকায় অসন্তোষ জানিয়েছেন দেশটিতে বসবাসরত মুসলিম জনগোষ্ঠীর অনেকে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আন্তর্জাতিক খবর