channel 24

সর্বশেষ

  • নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সং ঘর্ষে নি হ ত ২

  • মুসলিম থেকে হিন্দু হলেন ইন্দোনেশিয়ার জাতির জনকের মেয়ে

  • বাংলাদেশ ম্যাচের আগে শক্তি বাড়াল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

  • আরিয়ানের তদন্তকারী সমীরের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ

  • আবাসিক হোটেল থেকে ঢাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত ম র দে হ উদ্ধার

  • গুনে গুনে পাঁচ গোল হজম করল বায়ার্ন মিউনিখ

  • আরিয়ান-কাণ্ডে নতুন মোড়: অন্যতম সাক্ষী কিরণ গোসাভি আটক

  • প্রেমে ব্যর্থ হয়েই সুমাইয়াকে খু ন করে মনির

  • স্ত্রীর ইচ্ছাপূরণে ১৯ লাখ টাকার গহনা দান করে দিলেন স্বামী

  • পাটুরিয়ায় কাত হয়ে যাওয়া ফেরির উদ্ধারকাজ ফের শুরু

  • দৌলতখানে নৌকা সমর্থিত প্রার্থীর অফিসে ভাঙচুর

  • একই রাতে হোঁচট খেল বার্সা-রিয়াল

  • কলকাতায় ‘বঙ্গবন্ধু সংবাদ কেন্দ্র’ উদ্বোধন করবেন তথ্যমন্ত্রী

  • সাম্প্রদায়িক হামলায় অস্ট্রেলিয়ায় প্রবাসীদের মানববন্ধন

  • রামেকে ক রো না য় ৫ জনের প্রাণহানি

কুড়িগ্রামে করোনাকালে বেড়েছে বাল্যবিবাহ

কুড়িগ্রামে করোনাকালে বেড়েছে বাল্যবিবাহ

উত্তরের জেলা কুড়িগ্রাম দারিদ্র্য আর বাল্যবিবাহ ইস্যুতে বরাবরই থাকে শীর্ষে। নদনদী ও চরের জেলায় বাল্যবিবাহ হয়ে থাকে সব সময়। কিন্তু অতিমারি করোনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বন্ধ থাকার সময়ে জেলায় ব্যাপকহারে বাল্যবিয়ে হওয়ার তথ্য আসছে। প্রায় দেড় বছর পর গেল ১২ সেপ্টেম্বর সারাদেশের মত কুড়িগ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে খোলার পর থেকে প্রকাশ পাচ্ছে 'চোখ কপালে' ওঠার মতো সংখ্যা।

জেলা শিক্ষা অফিস বলছে, বিদ্যালয় খোলার পরদিনই জেলার ১০টি বালিকা বিদ্যালয়ের খবর নেয়া হয়। তাতে করোনার শুরুতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থেকে গত ১২ সেপ্টেম্বর খোলার মধ্যে ওই ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২০৩ টি ছাত্রীর বিয়ে হয়ে গেছে। এরমধ্যে জেলা সদরের পাঁচটি বিদ্যালয়ের ৬৩ ছাত্রীর বিয়ে হয়েছে করোকালের বন্ধে। বিষয়টিকে বড়ই উদ্বেগজনক বলছেন সচেতন মহল।

কুড়িগ্রাম সদরের হলোখানা ইউনিয়নের সারডোব উচ্চ বিদ্যালয় ধরলার খুব কাছেই। বিদ্যালয়টির নবম শ্রেণির নয় ছাত্রীর মধ্যে করোনাকালের বন্ধে বিয়ে হয়েছে আটজনেরই। বিদ্যালয় খোলার পর থেকে নবম শ্রেণির একমাত্র ছাত্রী নার্গিস নাহার। সে ছেলে সহপাঠীদের সাথে ক্লাস করছেন। কিন্তু আটজনের বিয়ের খবরে নিজের পড়ালেখা নিয়ে তার শঙ্কা কাটছে না। বিদ্যালয়টির দশম শ্রেণির তিনজন, ষষ্ঠ শ্রেণির এক, সপ্তমের দুই ও অষ্টম শ্রেণির চারজনের গোপনে বিয়ের খবর পাওয়া গেছে।

নার্গিস জানায়, স্কুল খোলার খবরে স্বস্তি ফিরেছিল তার। দীর্ঘদিন বাড়িতে থাকার পর পড়ালেখাটা স্বাভাবিক হতে চলেছে জেনে আনন্দে ভাসে মন। করোনার বিধি-নিষেধ আর উদ্বেগ শঙ্কা কেড়ে নিয়েছিল সরল বন্ধুত্বের সকল দিক। তারও সমাপ্তি ঘটছে। দীর্ঘদিন পর সহপাঠীদের সাথে দেখা আর ক্লাসের হইহুল্লোড় তো হবেই। সরকারি ঘোষণার পর থেকে আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় ছিল স্কুলে গেলেও দেখা মেলেনি বাকি আট ছাত্রীর। পরে একে একে খোঁজ নিয়ে জানা যায় আট জনেরই বিয়ে হয়ে গেছে স্কুল বন্ধের সময়ে। বাকি আছে সে একাই। নার্গিস বলেন, স্কুলে অনেক্ষণ থাকার পরও কেউ আসেনি। পরে একজনের সাথে কথা বললে জানতে পাই তাদের বিয়ের খবর। আমার মনটা খারাপ হয়ে যায়। এমন খবর শুনলে পরিবার থেকে আমাকেও বিয়ে দিতে চাইবে। তবে পড়াশুনা শেষ করে বিয়ে করবে বলে পরিবারকে জানানোর কথা জানিয়েছে নার্গিস নাহার।

উদ্বেগে শিক্ষক ও অন্যান্য অভিভাবকরাও। এ পর্যন্ত শিক্ষার্থীর ৫০ শতাংশ উপস্থিত হয়নি। সহকারী শিক্ষক আব্দুল মজিদ বলেন, নবম শ্রেণির ৩৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৯ জন মেয়ে ছিল। এখন একজন আসছে। খুবই দুঃখজনক বিষয়। বিয়েগুলো গোপনে হওয়ায় জানা যায়নি। প্রধান শিক্ষক ফজলে রহমান সরকার বলেন, বিদ্যালয়ের ২২৫ জন শিক্ষার্থী। অর্ধেকের বেশি উপস্থিত হচ্ছে। শিক্ষকরা দলগতভাবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে পাশের উত্তর হলোখানা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নয় ছাত্রীর বিয়ে হয়েছে করোনায় বন্ধের সময়ে।

স্থানীয় সিরাজুল ইসলাম বলেন, নদীভাঙা এলাকায় মেয়ে বেশি বড় হলে লোকজন আসে না। বেশি পড়ালে বেশি যৌতুক লাগে। এজন্য কম বয়সে বিয়ে দেয় মেয়েকে। বুলবুলি বেগমও বলেন, 'মেয়েক মেট্রিক পাশ করালে ছেলে আইএ পাশ খোঁজা লাগে। তখন তো গাড়ি বা টাকা দেয়া লাগে। কয়জন দিব্যার পায়?'

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৪ ছাত্রী বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে। দেড় বছরের মধ্যে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী বিয়ের পর মা হয়েছেন। তারা সবাই বর্তমানে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত। সহকারী শিক্ষক গোলাম রব্বানী বলেন, করোনার সময়ে যোগাযোগ কম ছিল। সে কারণে খবরগুলো পরে জানা গেছে। বেশিরভাগ মেয়ের গোপনে দূরে আত্মীয়ের বাড়িতে বিয়েগুলো হয়।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক মো. মেহেবুব হাসান বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিনে জেলার ১০টি বালিকা বিদ্যালয় থেকে তথ্য নেয়া হয়েছে। তাতে দেখা গেছে বন্ধের সময় ওই ১০টি প্রতিষ্ঠানে ২০৩ জন মেয়ে বাল্য বিয়ের শিকার হয়েছে। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিয়ের পরিসংখ্যান দ্রুত পাওয়া যাবে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুল আলম জানান, সদরের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে পর্যবেক্ষণ করে ৬৩ মেয়ের বিয়ের খবর পাওয়া গেছে। যা সত্যিই উদ্বেগজনক। এ প্রাপ্ত তথ্যমতে, শতকরা ১৩ ভাগ শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে।

অন্যদিকে বাল্যবিয়ে রোধে কাজ করা একটি বেসরকারি সংস্থার তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। জেলায় বাল্যবিয়ের চিত্র রয়েছে আগের মতোই। করোনা সংকটের দীর্ঘ সময়ে ঘটে যাওয়া বিয়েগুলোর সংখ্যা একবারে পাওয়ায় বেশি মনে করা হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া বাল্যবিয়ের তথ্য থেকে আগের তুলনায় খুব একটা বেশি নয়।

তারা বলছে, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ৪৫ মাসে জেলায় বাল্যবিবাহ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে ৩ হাজার ২২টি। এতে গড়ে প্রতি বিয়ে হওয়ছে ৬৭টিরও বেশি। আর করোনাকালে গত বছরের মার্চ থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ১৮ মাসে বাল্যবিয়ে হয়েছে ছয়শ’ নয়টি।

সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী করোনার সময় প্রতি মাসে গড়ে বিয়ের খবর মিলেছে ৩৪টির মতো। তবে বাস্তবতার সাথে হিসাবটির মিল নেই বলে মত দিয়েছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্ট অনেকে।

আরকে

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

দেশ 24 খবর