channel 24

সর্বশেষ

  • রাজধানীতে গৃহবধূর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

  • ২০২২ সালের মধ্যে দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

  • আফগানিস্তান ইস্যুতে বাতিল হল সার্ক পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

  • নেতাকর্মীদের সাথে ৫ম দিনের মতো বৈঠকে বিএনপি

  • ১০ মাসেই রাজশাহী মেডিকেলের চেহারা বদলেছেন ব্রি. জে. শামীম ইয়াজদানী

  • খুলনায় যৌতুক মামলায় সিআইডি কর্মকর্তা কারাগারে

  • চাঁদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালকসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

  • সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পদ্মার ইলিশ

  • আইনি কাঠামোতে আসছে ই-কমার্স খাত

  • মহেশখালিতে রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফল পাল্টে দেয়ার অভিযোগ

  • সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কমিশনকে সর্বাত্মক ক্ষমতা দেয়া হবে: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

  • ভোটার তালিকায় নেই লোকমান, অর্ধশতাধিক নতুন মুখ

  • একাধিকবার গর্ভপাত, মাতৃত্বের স্বাদ বঞ্চিত গৃহবধূর আদালতে মামলা

  • পরিবারে বাল্য বিয়ে থাকলে ভিজিডি নয়: সংসদীয় কমিটি

  • চ্যানেল 24 ও সমকাল কার্যালয়ে এমপি নিক্সন

বাবার প্রতি ছেলের নিষ্ঠুরতা

বাবার প্রতি ছেলের নিষ্ঠুরতা

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার মাটিহাঁস গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ও বিত্তবান ব্যবসায়ী আব্দুস সালামকে তার একমাত্র ছেলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর থেকে বিতাড়িত করে শারিরিকভাবে নির্যাতনেরও অভিযোগ উঠেছে। তিনি এখন সবকিছু থেকে অধিকার বঞ্চিত হয়ে প্রতিবেশীদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। বাবার প্রতি ছেলের এমন নিষ্ঠুর আচরণে ক্ষুব্ধ আত্বীয়-স্বজন ও গ্রামবাসীরা।

স্থানীয়রা জানান, আব্দুস সালাম বিবাহিত জীবনে এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের জনক। তিনি ছেলে ও মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন। তিনি আগে গ্রামে গৃহস্থালির কাজ করতেন। ২০১১ সালে গ্রামের বাড়ির আবাদি জমিজমা সবকিছু বিক্রি করে ছেলেকে নিয়ে ইলেকট্রনিক্স ব্যবসা শুরু করেন। অল্পদিনের মধ্যে পুঁজি বদল করে ফেলেন। তিনি দুঁপচাচিয়ায় একটি চারতলা বাড়ি করেন। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে তাঁর সুখের সংসার ছিল।

আরও পড়ুন: দেশে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী 

স্ত্রীর পরার্মশে একমাত্র ছেলে শাহিন আলমে নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান- বাসা ও ক্ষেতলাল পৌরশহরের দোকানঘরসহ সব সম্পত্তি উইল করে দিয়েছিলেন। এরপর প্রথম স্ত্রীর শারীরিক অসুস্থতায় কারণে আব্দুস সালাম দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় বিয়ের পর আব্দুস সালামের সুখের সংসারে অশান্তি শুরু হয়। আব্দুস সালামকে তার ছেলে মারধর করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসা থেকে বের করে দিয়েছেন। এখন সহায়-সম্পদ সবকিছু হারিয়ে প্রতিবেশীদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

ভুক্তভোগী আব্দুস সালাম জানান, যে ছেলেকে কষ্ট করে মানুষ করেছি, আজ সেই ছেলে নিজের বাবাকে মারধর করে কিছু সম্পদের জন্য। এইটা মেনে নিতেই তার কষ্ট হচ্ছে। তাই আর অন্য কোন বাবাকে ছেলের হাতে নির্যাতন সইতে না হয় এজন্য তিনি নিজের সন্তানের শাস্তি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, সখের বশে আমার সব সম্পদ ছেলের নামে  উইল করে দিয়েছি। আমাদের সংসার জীবন সুখেই কাটছিল। হঠাৎ করেই কয়েক বছর ধরে প্রথম স্ত্রী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর মৌখিক অনুমতি নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলাম। এরপর থেকেই আমার সুখের সংসারে অশান্তি নেমে এসেছে। এখন ছেলে আমাকে মারধর করে আমার কষ্টের গড়া বাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বিতাড়িত করেছে। এখন আমার মাথা গোঁজারও কোনো স্থান নেই।

আব্দুস সালামের বড় ভাই আরাম আলী জানান, আমার ছোট ভাই আব্দুস সালাম তার প্রয়োজনে দ্বিতীয় বিয়ে করেছে। এই অপরাধে আমার ভাতিজা শাহিন আলম তার বাবাকে মারধর করে বাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বের দিয়েছে। সে এখন আমাদের কাছে এসে আশ্রয় নিয়েছে। আমরা ভাতিজাকে অনেক বুঝিয়েছি। কিন্তু সে আমাদের কোনো কথায় শোনেনি।
       
মাটিহাঁস গ্রামের প্রতিবেশী জামাল উদ্দিন বলেন, সালাম চাচা একজন ভালো ব্যবসায়ী। তিনি গ্রামের বাড়ি পুকুর ও জমি-জমা বিক্রি করে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন সেটা আমাদের গ্রামের সবাই জানে। সালাম চাচাকে তার ছেলে বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উইল করে দিয়েছিলেন। এখন সালাম চাচাকে তার ছেলে বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বিতাড়িত করেছেন -এটা শুনে আমরা প্রথমে বিশ্বাসই করিনি। পরে দেখি ঘটনাটি সত্য। এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা।

আব্দুস সালামের ছেলে শাহিনুর আলম জানান, আমার বাবা আপনাদের সঠিক কথা বলেননি। আমার মা সুস্থ আছেন। তিনি মায়ের অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। আমাদের সুখের সংসারে অশান্তির সৃষ্টি করেছেন। তিনি আমার মাকে মারপিট করেছেন। এ জন্য মা থানায় অভিযোগও করেছেন। আমার বাবার কোন সম্পদ আমাকে দেননি। নিজেই ব্যবসা করে সম্পদ করেছি। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে চলে গেছেন। এখন দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বাসায় উঠতে চাইছেন। এ কারণে আমরা কেউ তাকে বাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আসতে দেইনি।

ক্ষেতলালের বড়াইল ইউপি চেয়ারম্যান আবু রাশেদ আলমগীর জানান, বিয়ে করার কারণে আব্দুস সালামকে তার ছেলে বের করে দিয়েছে। একথা শোনার পর খুব কষ্ট পেয়েছি। সালাম খুব বড় ব্যবসায়ী। ছেলের উচিত ছিল পারিবারিকভাবে বিষয়টির একটি সম্মানজনক সমাধান করার।

ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ নিরেন্দ্রনাথ মন্ডল জানান, বিষয়টি তিনি জানেন না, অভিযোগ পেলই ব্যবস্থা নিবেন।

একেএম/

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

দেশ 24 খবর