channel 24

সর্বশেষ

  • সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম করোনায় আক্রান্ত

  • মোরশেদ খানের দেশত্যাগে নানা প্রশ্ন; ঘটনার তদন্ত চায় দুদক

  • প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত সুদ ছাড়ের প্রণোদনা পাবে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো

  • করোনাকালে ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গ্রাহকদের ক্ষোভ

  • লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিকে হত্যা: বাচ্চু মিলিটারি ৫ দিনের রিমান্ডে

  • পঞ্চগড়ে বজ্রপাতে বাবা ছেলেসহ ৩ জনের মৃত্যু

  • বাস-লঞ্চে উধাও স্বাস্থ্যবিধি

  • স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করায় এমভি প্রিন্স লঞ্চ জব্দ

  • লকডাউন শেষে মুক্ত হলো আকাশপথ, চলছে উড়োজাহাজ

  • লিবিয়ায় নিহতদের স্বজনরা মুক্তিপণের টাকা হাজী কামালকে দিয়েছিলেন

  • হিলি রেলপথ দিয়ে ভারত থেকে দ্বিতীয় দফায় পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে

  • না ফেরার দেশে চলে গেলেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলমের বাবা

  • লেনদেন বাড়লেও দুই স্টক এক্সচেঞ্জে বড় দরপতন

  • ২৬ বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কঠোর নিন্দা জানিয়েছে লিবিয়ার সরকার

  • 'আমেরিকায় বর্ণবৈষম্য করোনা ভাইরাসের চাইতেও ভয়ংকর'

বাহাত্তরে বঙ্গবন্ধুর টাঙ্গাইল সফরে ১ লাখ ৪ হাজার অস্ত্র জমা দেন মুক্তিযোদ্ধারা

বাহাত্তরে বঙ্গবন্ধুর টাঙ্গাইল সফরে ১ লাখ ৪ হাজার অস্ত্র জমা দেন মুক্তিযোদ্ধারা

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি টাঙ্গাইল যান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এ সময় তাকে স্বাগত জানান মুক্তিযোদ্ধারা। পরে জাতির জনকের কাছে অস্ত্র জমা দেন কাদেরিয়া বাহিনীর ১৮ হাজার মুক্তিযোদ্ধা ও ৭২ হাজার স্বেচ্ছাসেবক। সেদিনের গল্প শুনবো মুক্তিযোদ্ধা এনায়েত করিমের কাছে।

২৪ জানুয়ারি টাঙ্গাইলের ইতিহাসে গৌরবময় ঐতিহাসিক অন্যতম একটি দিন। ১৯৭২ সালের এই দিনে কাদেরিয়া বাহিনীর উদ্যোগে জাতির জনক স্বাধীন বাংলার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে মুক্তিযোদ্ধারা প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার অস্ত্র জমা দেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকার বাইরে এদিন প্রথম টাঙ্গাইলে এসেছিলেন। কাদেরিয়া বাহিনীর ১৮ হাজার মুক্তিযোদ্ধা ও ৭২ হাজার স্বেচ্ছাসেবক এই দিনে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাগত জানান।

এদিন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার শেষ সীমানা গোড়াই থেকে টাঙ্গাইল শহরে বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানিয়ে নিয়ে আসা হয় নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে। মির্জাপুরের গোড়াই থেকে টাঙ্গাইল শহর পর্যন্ত রাস্তার দুইপাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধুকে অভিবাদন জ্ঞাপন করেছিলেন প্রায় দশ হাজার মুক্তিযোদ্ধা। বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানাতে টাঙ্গাইলের প্রবেশদার মির্জাপুরের গোড়াইয়ে একটি স্বাগত তোরণ তৈরি করা হয়েছিল। সকল অপেক্ষার প্রহর শেষ করে সেদিন সকাল ১০টায় বিশাল গাড়ি বহরের লাইনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গাড়ি গোড়াই স্বাগত তোরণের সামনে এসে পৌঁছায়। 
প্রিয়নেতা ও জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে একনজর দেখার জন্য এবং তাঁর ভাষণ শোনার জন্য সড়কের দুই ধারে নেমেছিল জনতার ঢল, আনন্দে উদ্বেলিত হয়েছিল জনতা। টাঙ্গাইল শহরের পুরাতন বাসষ্ট্যান্ডের কাছে শিবনাথ হাইস্কুল মাঠে বঙ্গবন্ধুর গাড়ি এসে থামে। তারপর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যাওয়া হয় শহরের বিন্দুবাসিনী স্কুল মাঠে অস্ত্র জমা দেয়ার অনুষ্ঠানে। ১৮৮০ সালের ৩ এপ্রিল বিন্দুবাসিনী বালক উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই স্কুলে কাদেরিয়া বাহিনীর প্রধান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী তাঁর ব্যবহৃত স্টেনগানসহ নানা ধরণের প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার অস্ত্র জমা দিয়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে।

অস্ত্র জমা দেয়া অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা স্বরূপ বিন্দুবাসিনী স্কুল মাঠে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল নানা ধরনের ১০ হাজার অস্ত্র। বঙ্গবন্ধু ও কাদের সিদ্দিকী মঞ্চে ওঠার পর প্যারেড কমান্ডার মেজর হাকিম মুক্তিযোদ্ধাদের সতর্ক করে সশন্ত্র অভিবাদন জানান। পরে অস্ত্র সমর্পণের প্রতীক হিসেবে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর ব্যবহৃত স্টেনগান প্রসারিত দুই হাতে সামরিক কায়দায় মেজর আব্দুল হাকিম মঞ্চের দিকে এগিয়ে গিয়ে এনায়েত করিমের হাতে অস্ত্রটি তুলে দেন। এনায়েত করিম প্রসারিত দুইহাতে স্টেনগানটি নিয়ে সামরিক কায়দায় মার্চ করে মঞ্চে উঠলে কাদের সিদ্দিকী তাঁর ব্যবহৃত অস্ত্রটি হাতে তুলে নেন। তারপর কাদের সিদ্দিকী সামরিক কায়দায় হাঁটু গেড়ে বসে স্টেনগানটি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর পায়ের সামনে রাখেন। কাদের সিদ্দিকী হাঁটু গেড়ে বসার সাথে তাল মিলিয়ে মাঠের সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো তিন হাজার মুক্তিযোদ্ধাও হাঁটু গেড়ে বসে যার যার অস্ত্র মাটিতে রাখেন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর চোখে অঝর ধারায় জল গড়িয়ে পড়ে।

এরপর বঙ্গবন্ধু স্কুল মাঠে সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখা বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ঘুরে ঘুরে দেখেন।

অস্ত্র পরিদর্শন শেষে বঙ্গবন্ধু কান্না জড়িত কণ্ঠে বললেন, “আমি তোমাদের সালাম জানাই। ৩০ লক্ষ মা, ভাই-বোন শহিদ হয়েছেন, আমি তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। আমি তোমাদের হাতে অস্ত্র দিয়ে যেতে পারি নাই। শুধু হুকুম দিয়ে গিয়েছিলাম। তোমরা হানাদারদের হাত থেকে অস্ত্র কেড়ে নিয়ে বিজয় সূর্যকে ছিনিয়ে এনেছো। তোমাদের তুলনা হয় না। বিশ্বে খুব কম এমন গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস আছে। তোমাদের সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক, রক্তের বন্ধন।"

বক্তৃতা শেষে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যাওয়া হলো পুলিশ প্যারেড ময়দানে (বর্তমানে শহিদ স্মৃতি পৌর উদ্যান) নতুন শহিদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার জন্য। পুলিশ প্যারেড ময়দানে শহিদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেখানে দুই মিনিট নিরবতা পালন করে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

এরপর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যাওয়া হয় টাঙ্গাইল পার্ক ময়দানে (বর্তমানে টাঙ্গাইল স্টেডিয়াম)। সেখানে জনসভায় জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোকজন এসে উপস্থিত হয়। পার্ক ময়দান ছাড়িয়ে আশেপাশের গাছপালা ও বাড়ি-ঘরের ছাদেও বিপুল মানুষের সমাগম হয়। লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় পুরো টাঙ্গাইল শহর।

১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি দুপুর বেলা টাঙ্গাইলের ইতিহাসে সর্বকালের সর্ববৃহৎ জনসভায় বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এটাই রাজধানী ঢাকার বাইরে প্রথম জনসভা ছিল। সেই জনসভায় প্রায় ১০ লাখ লোকের সমাগম হয়েছিল বলে ধারণা করেন মুক্তিযোদ্ধারা।

বঙ্গবন্ধুর কাছে অস্ত্র জমা দেয়ার অনুষ্ঠানে ৫০ হাজারের অধিক মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধারা অশ্রসিক্ত অবস্থায় উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

দেশ 24 খবর