channel 24

সর্বশেষ

  • মধ্যরাত থেকে যেসব এলাকায় মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ

  • যশোরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের হামলায় নৌকার ২০ কর্মী আহত

  • পান্থপথে ময়লার গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু : ডিএনসিসির সেই চালক গ্রেপ্তার

  • রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ক্রমবর্ধমান সহিংসতা সীমান্তের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে: প্রধানমন্ত্রী

  • আমতলীতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান রাফেজা বেগম

  • ২২ কোটি টাকা লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে আখ মাড়াই শুরু

  • শেরপুরে আ.লীগ নেতাকে বহিষ্কারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

  • করোনার নতুন ধরন ‘ভয়ংকর’, দেশে দেশে সতর্কতা

  • আকর্ষণীয় বেতনে চাকরি দিচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

  • নতুন সময়ে মাঠে গড়াবে দ্বিতীয় দিনের খেলা

  • সন্ত্রাসীদের কোনো ধর্ম নেই: ভারতের হাইকমিশনার

  • চরের অবশিষ্ট মানুষকে দ্রুত বিদ্যুৎ দিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

  • যাদের কারণে হুমকির মুখে শোয়েবের ১৮ বছরের রাজত্ব

  • পাকিস্তান ম্যাচ শুরুর আগে ভয়ে কাঁপছিলেন কোহলিরা: ইনজামাম

  • মারা গেলেন পৃথিবীর প্রবীণতম নারী

চট্টগ্রামের শিবির ক্যাডার কক্সবাজারে নৌকার মাঝি

চট্টগ্রামের শিবির ক্যাডার কক্সবাজারে নৌকার মাঝি

মোয়াজ্জেম মোর্শেদ চট্টগ্রাম মহানগরের এক সময়ের দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার হিসেবে পরিচিত। ২০১৪ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মীর ওপর হামলা ও অপহরণের মূলহোতা তিনি। অথচ সেই মোয়াজ্জেম মোর্শেদই কক্সবাজারের নৌকার মাঝি।

আসন্ন ইউপি নির্বাচনে রামু উপজেলার রশিদ নগরের ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী তিনি। তিনি রশিদ নগরের নৌকার কাণ্ডারি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকেও সমালোচনা ঝড় উঠেছে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি বলেন, মোয়াজ্জেম মোর্শেদ চট্টগ্রামের ভয়ংকর এক আতংকের নাম। তিনি চট্টগ্রাম কলেজ ও মহানগরে শিবিরের দুর্ধর্ষ ক্যাডার হিসেবে পরিচিত। ওই ক্যাডারের হাতে একসময় নিয়মিত মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির লোকজন মার খেত। তার অত্যাচারে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কলেজেও যেত পারত না। তার নেতৃত্বে চট্টগ্রাম ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি মাহামুদুল করিমকে অপহরণ করে টর্চার সেলে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালায় শিবির ক্যাডাররা। সেদিন ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ মোয়াজ্জেম মোর্শেদসহ তিনজন শিবির ক্যাডারকে আটক করে। পুলিশের হাত থেকে ছাড়া পেয়েই চট্টগ্রাম থেকে পালিয়ে কক্সবাজার যায় ওই ক্যাডার।

চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহামুদুল করিম বলেন, ‘আমি সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ২০১০ সালে চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হই। সে সময় মোয়াজ্জেম মোর্শেদ চট্টগ্রাম কলেজ শিবির অন্যতম নীতি নির্ধারক ও ক্যাডার ছিলেন। আমি কলেজে ছাত্রলীগের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করার কারণে মোর্শেদ আমাকে কয়েক দফা সরাসরি হুমকি দেয়। কিন্তু তার হুমকি না মানায় প্রথমে ২০১১ সালের জুলাইতে আমার ওপর হামলা করে তুলে নিয়ে আমার পা ভেঙ্গে দেয়। সেখানে আমাকে প্রচণ্ড মারধর করে আমার বাসার ঠিকানা নেয়। পরে আমার বাবা-মাকেও হুমকি দেয় মোয়াজ্জেম মোর্শেদ। তাদের কারণে আমি কলেজে নিয়মিত যেতে পারতাম না। কিন্তু ২০১৩ সালে ২৯ অক্টোবর আমি পরীক্ষা দিতে গেলে বিকেল ৫টার দিকে আমাকে হল থেকে তুলে নিয়ে যায় মোয়াজ্জেম মোর্শেদ ও তার দলবল। প্রথমে আমাকে তারা তখন নির্মাণাধীন স্টাফ ভবনে নিয়ে মারধর করে। এরপর সেখানে লোক জমায়েত হতে শুরু করলে আমাকে সোহরাওয়ার্দী হলের তখনকার পরিত্যক্ত হিন্দু হোস্টেল নিয়ে আমার আঙুলের নখ তুলে আমাকে গুরুতর জখম করে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রাখে। পরে কয়েকটি থানার পুলিশ পুরো হল ঘেরাও করে আমাকে উদ্ধার করে । এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে মোয়াজ্জেম মোর্শেদসহ তিনজনকে আটক করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রশিদ নগরে নৌকা প্রতীক পাওয়া মোয়াজ্জেম মোর্শেদ আমার ওপর হামলাকারী শিবির ক্যাডার। বিষয়টি কতটা দুঃখজনক বলে বুঝাতে পারব না। এদিকে এক সময়ে শিবির ক্যাডার নৌকার মনোনয়ন পাওয়ায় ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় চলছে।’

চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের রাজনীতি করা ও কক্সবাজার শহর কৃষক লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক শাহাদাত হোসাইন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘রামুর রশিদ নগর ইউনিয়নের নৌকার মাঝি মোয়াজ্জেম মোর্শেদ সেদিন চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল হককে শিবিরের কর্মীদের নিয়ে হত্যা চেষ্টার উৎসবে মেতেছিল, আজ নৌকার মাঝি কেমনে হলো? ধিক্কার জানাই যারা তাকে নৌকার মনোনয়ন দিয়েছে। চট্টগ্রাম কলেজের সোহরাওয়ার্দী হোস্টেলে থাকা শিবিরের ক্যাডার যদি নৌকার মাঝি হয়, এটা আওয়ামী লীগের জন্য অশনি সংকেত নয় কি?’

এছাড়া নুরুল আজিম রনির দেয়া ফেসবুক পোস্ট ৮২টি শেয়ার হয়েছে। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘চট্টগ্রাম কলেজে পড়াশুনা করার সময় মোয়াজ্জেম মোর্শেদ ছিল শিবিরের দায়িত্বশীল নেতা। কলেজে ছাত্র শিবিরের রাজত্ব চলাকালে মাহমুদুল করিমকে (বর্তমান কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি) ধরে নিয়ে গিয়ে টর্চার সেলে চালায় নির্যাতন। কলেজ শিবিরমুক্ত হওয়ার পর চট্টগ্রাম থেকে পালিয়ে নিজ জেলা কক্সবাজারে ফিরে যায়। এরপরই দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার থেকে ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে পুনর্জন্ম হয়। আর সে পরিচয় গ্রহণের কয়েক বছরের মধ্যেই রামু উপজেলার একটি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনের জন্য নৌকার মনোনয়ন পেয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, স্থানীয় নেতারা দুই চার বছরের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখে কাউকে পছন্দ করলে—তার কাছে বোন বিয়ে না দিয়ে নৌকার জন্য সুপারিশ করবে কেন?’

এ বিষয়ে রশিদ নগরের নৌকার কাণ্ডারি মোয়াজ্জেম মোর্শেদ বলেন, ‘আমি ২০১০ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে বের হয়েছি। তাই এর পরে কি হয়েছে সেখানে আমার জানা নেই। আমি মাহামুদুল করিম নামের কাউকেই চিনি না। ওই কলেজে কেউ মোর্শেদ নামে আমাকে চিনে না। সেখানকার সবাই আমাকে জিনান নামে ডাকত।

তিনি আরও বলেন, ‘কক্সবাজার কলেজে অনার্স পরার সময় আমি ছাত্রলীগ করেছি। কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্রলীগের প্রথম কমিটি আমার। এছাড়া ২০১৮ সাল থেকে বঙ্গবন্ধু আইন ও ছাত্র পরিষদের অ্যাডভোকেট নোমান ও নাজিম কমিটির কক্সবাজার জেলা সভাপতি আমি। কাজেই একটি মহল আমার জয় ঠেকাতেই পরিকল্পিত অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

রামু উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নীতিশ বড়ুয়া বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ছাত্রলীগে ও যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। মোর্শেদ নৌকা প্রতীক পাওয়ার আগ পর্যন্ত আমি তার নামই শুনিনি।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রামুর রশিদ নগরের মঞ্জুর মোর্শেদের ছেলে মোয়াজ্জেম মোর্শেদ ২০১৭ সালে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন অনুষদে ৬ষ্ঠ ব্যাচের ছাত্র হিসেবে ভর্তি হয়। তবে সেখানে কখনো তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতি করেনি। কিন্তু জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি আসার পর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম সাদ্দাম হোসাইনকে খালাত ভাই দাবি করে নিজেকে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সংযুক্ত করার চেষ্টা করেন।

এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম সাদ্দাম হোসাইন বলেন, ‘মোয়াজ্জেম মোর্শেদ আমার খালাত ভাই নয়। আমার পাশের ইউনিয়নের ছেলে। আমি সভাপতি হওয়ার পর তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। আমার নামে বিভিন্ন জায়গায় ব্যানার ফেস্টুনও দেয়। কিন্তু আমি খবর নিয়ে জানতে পারি তিনি অতীতে কখনো ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িতে ছিল না। বরং শিবিরের ক্যাডার হিসেবে বিভিন্ন সময়ে কাজ করেছে বলে প্রমাণ পাই। পরবর্তীতে আমি তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেই। এছাড়া দলীয় প্রোগ্রামেও তার আসা নিষিদ্ধ করি।’

এস/এইউ

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

চট্টগ্রাম 24 খবর