channel 24

সর্বশেষ

  • নিয়ন্ত্রণে বাড্ডার আগুন

  • আপেল যখন বিপদের কারণ!

  • হজমের সমস্যা সমাধানের কার্যকরী ৬ উপায়

  • অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে নারী উদ্যেক্তারা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

  • বাড্ডায় ফার্নিচারের দোকানে আগুন

  • নাটক-সিরিয়ালে ‘আলিঙ্গন’ নিষিদ্ধ করলো পাকিস্তান

  • ড. সমীর কুমার সাহাকে বিজ্ঞান সম্মাননা দিয়েছে পথিকৃৎ ফাউন্ডেশন

  • নীরব ঘাতক কিডনি রোগ: প্রতিকার ও করণীয় (ভিডিও)

  • ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক-শ্রমিক

  • ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৯

  • সময়ের সাথে দীর্ঘতর হচ্ছে টিসিবি পণ্যের ক্রেতার সারি

  • ‘পীরগঞ্জে হামলার মূল হোতা সৈকত ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারী’

  • খন্দকার মোশতাকের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের দাবিতে সমাবেশ

  • প্রকৃতির কোলে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছেন শ্রাবন্তী

  • আফগানিস্তান পুনর্গঠনে বেতন ছাড়াই কাজ করছেন একদল স্বাস্থ্যকর্মী

স্বামী-স্ত্রীর উপার্জনে বৈষম্যের কারণ কী?

স্বামী-স্ত্রীর উপার্জনে বৈষম্যের কারণ কী?

পরিবারে উপার্জনক্ষম স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে স্বামীর উপার্জন বরাবরই বেশি। শুধু ভারতীয় উপমহাদেশ নয়, বিশ্বের বেশির ভাগ পরিবারে সাধারণত এমনটাই দেখা যায়। এবার গবেষণাতেও উঠে এসেছে একই রকম তথ্য। বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের সেন্টার ফর পাবলিক পলিসির গবেষণায় দেখা গেছে অর্থ উপার্জনের দিক থেকে অধিকাংশ স্ত্রীরা তাদের স্বামীদের চেয়ে কম আয় করেন।

পরিবারের ভেতরে স্বামী-স্ত্রীর মজুরিতে বৈষম্যের এ বৈশ্বিক গবেষণা করেছেন সংস্থাটির দুই গবেষক হেমা স্বামীনাথন ও দীপক মালগান। ১৯৭৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিশ্বের ৪৫টি দেশে বিদ্যমান তথ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো এ ধরনের গবেষণা করেন তারা। গবেষণায় সাড়ে ২৮ লাখ পরিবারের ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী দম্পতিদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য দিয়ে এ জরিপ করা হয়।

হেমা স্বামীনাথন বলেন, ‘প্রথাগত দারিদ্র্যের ক্ষেত্রে পরিবারকে একটি একক হিসেবে দেখা হয়। সাধারণ ধারণা হলো একটি পরিবারের মধ্যে উপার্জন করা হয় এবং সমানভাবে বণ্টন করা হয়। তবে দেখা যায় পরিবারই বড় অসমতার একটি জায়গা, আর সেটিই আমরা প্রকাশ করতে চেয়েছি।’ পরিবারকে ‘একটি কালো বাক্স’ হিসেবে উল্লেখ করে হেমা স্বামীনাথন বলেন, ‘এর ভেতরে আমরা কখনো তাকাই না। আমরা যদি এর ভেতরে না তাকাই, তাহলে পরিবর্তন হবে কীভাবে?’

তবে স্বামীনাথন ও মালগান ভারতীয় উপমহাদেশের বাইরে বৈশ্বিক চিত্রটাও দেখাতে চেয়েছেন। তারা বলেন, উদাহরণ হিসেবে সব সময় নর্ডিক দেশগুলোকে লিঙ্গসমতার বাতিঘর মনে করা হয়। তবে সেখানকার অবস্থা কেমন? সেখানে বাড়িতে কি সম্পদ ও কাজকে সমভাবে বণ্টন করা হয়? গবেষকেরা বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে সামগ্রিক বৈষম্য ও অভ্যন্তরীণ বৈষম্য নিয়ে কাজ করেছেন। তাদের ফলাফল অনুসারে, লিঙ্গবৈষম্য দেশজুড়ে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এবং ধনী-দরিদ্র সব ধরনের পরিবারের মধ্যে বিদ্যমান।

দীপক মালগান বলেন, ‘সাম্প্রতিক তথ্যের ধারা থেকে বোঝা যায়, যখন দম্পতির উভয়ই চাকরি করেন, তখন এমন একটি দেশও নেই, এমনকি ধনী বা সবচেয়ে উন্নত অংশেও নয়, যেখানে স্ত্রীরা তাদের স্বামীর মতো উপার্জন করেন। এমনকি নর্ডিক দেশগুলো, যেখানে বিশ্বে সর্বনিম্ন লিঙ্গবৈষম্যে দেখা যায়, সেখানেও এ ক্ষেত্রে সব জায়গায় নারীর অংশ ৫০ শতাংশের কম।’

গবেষণায় স্ত্রীরা কেন কম উপার্জন করেন, এর কারণ হিসেবে কয়েকটি বিষয় তুলে ধরা হয়। গবেষকদ্বয়ের মতে, স্ত্রীদের কম উপার্জনের কিছু সর্বজনীন কারণ রয়েছে। সাংস্কৃতিকভাবে পুরুষকে দেখা হয় রুটিরোজগারের মূল হিসেবে, আর নারীকে গৃহিণী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অনেক নারী সন্তান জন্মের পর বিরতি নেন অথবা বেতনভুক্ত কাজও ছেড়ে দেন। সেই সঙ্গে বিশ্বের অনেক জায়গায় একই কাজের জন্য পুরুষের তুলনায় নারীকে কম মজুরি দেওয়ার বাস্তবতা রয়ে গেছে। 

অবৈতনিক গৃহকর্ম ও যত্নশীলতা এখনো নারীর দায়িত্ব হিসেবে আরোপিত আছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ২০১৮ সালের প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বব্যাপী নারীরা মোট কর্মঘণ্টার ৭৬ দশমিক ২ শতাংশ বিনা মূল্যে সেবা দিয়ে থাকেন, যা পুরুষের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি। আর এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশে এটি বেড়ে ৮০ শতাংশে দাঁড়ায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবৈতনিক যত্নের কাজ হচ্ছে নারীর শ্রমশক্তিতে প্রবেশ, টিকে থাকা ও অগ্রগতিতে প্রধান বাধা। একজন নারীর কম আয়ের অর্থনৈতিক পরিণতিও অনেক সময় ভালো হয় না।

হেমা স্বামীনাথন বলেন, গৃহিণী হিসেবে স্ত্রীর অবদান অদৃশ্য, অথচ নগদ দৃশ্যমান। সুতরাং একজন স্ত্রী যখন উপার্জন করেন, নগদ অর্থ আনেন, তখন একটি নির্দিষ্ট মর্যাদা ভোগ করেন। এটি তার অবস্থান উন্নত করে এবং পরিবারের মধ্যে তার কণ্ঠ জোরালো হয়। বর্ধিত উপার্জন তাঁর আলোচনার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, একটি দর-কষাকষির হাতিয়ার দেয়, এমনকি অপমানজনক পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার একটি বিকল্প পথ দেয়।

তবে ১৯৭৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পরিবারের ভেতরের এই বৈষম্য ২০ শতাংশ কমেছে যা লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণে আশার আলো দেখাচ্ছে। তবে এখনো যা আছে, তা অনেক। সেই হার কমাতে সচেষ্ট হতে হবে বলে মনে করেন এই গবেষকদ্বয়।

সূত্র: বিবিসি

এসিএন/

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

বিজনেস 24 খবর