channel 24

সর্বশেষ

  • ক্রিকেটারদের চেয়ে নির্বাচকের দায়িত্ব কঠিন: মিনহাজুল আবেদীন

  • নিজেকে প্রমাণ করেই বিশ্বকাপে জায়গা পেলেন আবু জায়েদ রাহি

  • মির্জা ফখরুল সংসদে থাকলে বিরোধীদল আরও শক্তিশালী হতো: কাদের

  • প্রিয়াংকা হত্যায় দোষীদের বিচার দাবিতে মানববন্ধন

  • ঢাকা মেট্রোতে টিকিট ছাড়া কোনো বাস চলবে না: সাঈদ খোকন

  • মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে আটক ১

  • ধানের ন্যায্য দাম নিয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

  • ধানের ন্যায্য দামের দাবিতে কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা দাহ

  • ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান

  • রূপপুর প্রকল্পে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন পান সরকারি স্কেলে

  • স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর ভেন্টিলেটর দিয়ে ফেলে দেয় পুলিশ!

  • খুলনায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে পাটকল শ্রমিকদের অবস্থান কর্মসূচি

  • সঠিক ওজন নিশ্চিতে ভালো মানের যন্ত্রপাতি ব্যহার করতে হবে: শিল্পমন্ত্রী

  • যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধে জড়ালে ইরান ধ্বংস হয়ে যাবে: ট্রাম্প

  • ফলের বাজারে কেমিক্যাল মেশানো রোধে মনিটরিং টিম গঠনের নির্দেশ

স্টিভ জবস, আবিষ্কারের অনুপ্রেরণা

স্টিভ জবস, আবিষ্কারের অনুপ্রেরণা

বিশ্বজুড়ে অ্যাপলের আইফোন এমনই এক ব্র্যান্ড যার হাত ধরে অ্যাপলের জন্ম তিনি আধুনিক প্রযুক্তির পথিকৃত স্টিভ জবস। কানেক্টিং ডট বা বিন্দু মেলানোতে বিশ্বাসী ছিলেন তিনি তা সে জীবনেরই হোক কিংবা প্রযুক্তির। বলতেন, এলোমেলো বিন্দুগুলোকে এক করতে পারলে সেগুলোই তৈরি করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ। শুধু দরকার প্রবল ইচ্ছা শক্তি।

'Your time is limited. So dont waste it living someone else life' স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে নিজের জীবনের এই মূল মন্ত্রের কথা বলেছিলেন অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস।

আরও: সরকারের ১০টি ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পের ৮০ শতাংশ অর্থই বিদেশি ঋণ

চকবাজার ট্রাজেডি: আগুনের উৎস গোডাউনটির মালিকের পরিচয় জানে না পুলিশ

কি হবে পৃথিবীতে যদি মাত্র ৫ সেকেন্ড অক্সিজেন না থাকে!

দেশের প্রথম আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্ট সোস্যাল সিআরএম কমইঞ্জিন

১৯৫৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের স্যান ফ্রান্সিসকোতে জন্মেছিলেন স্টিভ। তার মা-বাবা ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া জোয়ান শাইবেল এবং সিরিয়া বংশোদ্ভূত জন জান্দালি। তাকে দত্তক নেন পল এবং ক্লারা জবস নামে এক দম্পতি। যাদেরকে নিজের আসল বাবা-মা মনে করেন স্টিভ জবস। বাবা পল ছোট বেলায় স্টিভকে নিজের গ্যারেজে থাকা ইলেক্ট্রনিক্স নিয়ে পরীক্ষা চালাতে উৎসাহিত করেন। আর সেই থেকেই ইলেক্ট্রনিক্স যন্ত্রপাতি তৈরি ও নকশার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন জবস।   

ক্যালিফোর্নিয়ায় শিক্ষা জীবন শুরু করেন স্টিভ জবস। ভর্তি হন ওরেগনের রিড কলেজে। স্টিভের ভাষায়, কলেজ শেষ করতে তার মা-বাবার সারা জীবনের জমা করা অর্থের পুরোটাই নাকি খরচ হয়ে যেতো। আর প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় তেমন আগ্রহও পাচ্ছিলেন না তিনি। তাই কলেজ ড্রপ করেন। আগ্রহী হয়ে ওঠেন ক্যালিগ্রাফির প্রতি। ভর্তি হয়ে যান ক্যালিগ্রাফি শিখতে। বলেন, সেজন্যই নাকি অ্যাপলের কম্পিউটারের টাইপিংয়ের বিভিন্ন ধরণের এবং স্পেস যুক্ত করা হয়। যা ব্যাপক জনপ্রিয় হয় অ্যাপল ব্যবহারকারীদের মধ্যে।

১৯৭৪ সালে আত্মিক মুক্তির সন্ধানে ভারতের বিভিন্ন আশ্রমে ঘুরেছেন স্টিভ জবস। সেসময় কয়েক মাসের সফরে বৌদ্ধ ধর্ম এবং প্রাচ্যের আত্মা সম্পর্কিত দর্শনে উদ্বুদ্ধ হন তিনি। পরে মজা করে বলেছিলেন, বিল গেটস আরো উদার হতে পারতেন যদি তিনি একবারের জন্য ভারতের আশ্রমগুলো ঘুরে আসতেন।  

১৯৭৬ সালে কম্পিউটার টেকনিশিয়ান স্টিভ উজনিয়াক প্রথম অ্যাপল আই কম্পিউটার তৈরি করেন। পরে উজিনয়াক এবং রোনাল্ড ওয়েইনির সাথে মিলে এর উন্নয়ন ঘটান স্টিভ জবস। প্রথম অ্যাপল আই কমিম্পউটার বিক্রি হয়েছিলো স্টিভ জবসের বাবার গ্যারেজ থেকে।

পরের কয়েক বছরে, হোম কম্পিউটারের চাহিদা বাড়লে অ্যাপল কম্পিউটার ব্যাপকভাবে প্রসার লাভ করে। ১৯৮৪ সালে প্রথম ম্যাকিনটস কম্পিউটার তৈরি করেন স্টিভ জবস। এটা ছিলো বাণিজ্যিকভাবে সফল প্রথম হোম কম্পিউটার যাতে গ্রাফিক্যাল ইউসার ইন্টারফেস ব্যবহার করা যেতো। পরে যা হোম কম্পিউটারের মাইলস্টোন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

স্টিভ জবসের এমন অনেক সাফল্যের পরও তার সাথে দ্বন্দ্ব ছিলো অ্যাপল কোম্পানীর অন্য কর্মকর্তাদের সাথে। যার জেরে ১৯৮৫ সালে নিজের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানী থেকেই ব্যবস্থাপকের পদ থেকে বরখাস্ত করা হয় জবসকে। পরে অবশ্য জবস বলেছিলেন যে, অ্যাপল থেকে বরখাস্ত হওয়া তার জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিলো। যা তাকে নতুন করে আবিষ্কারক হতে সাহায্য করেছিলো।

অ্যাপল ছাড়ার পর নেক্সট কম্পিউটার প্রতিষ্ঠা করেন জবস। তবে এটি তেমন সফল ছিলো না। ১৯৯০ সালে নেক্সট সফটওয়্যার অ্যাপল এবং আইটিউন্স স্টোরে ওয়েব-অবজেক্টর এর ফ্রেমওয়ার্ক হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

তবে কানেটিং ডট এ যিনি বিশ্বাস করেন তিনি তো আর হাল ছেড়ে দেয়ার মানুষ নন। জবসকে সাফল্য আর সুনাম এনে দেয় কম্পিউটার গ্রাফিক্স ভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রযোজক প্রতিষ্ঠান পিক্সার। ডিসনির সাথে মিলে টয় স্টোরি, এ বাগস লাইফ এবং ফাইন্ডিং নিমো'র মতো হিট এনিমেশন সিনেমা তৈরি করে পিক্সার।  

১৯৯৬ সালে ৪২৯ মিলিয়ন ডলারে নেক্সট কিনে নেয় অ্যাপল। জবসকেও ফিরিয়ে নেয়া হয় অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী হিসেবে। তবে ততদিনে, বাজারে মাইক্রোসফটের কাছে বানিজ্যের দৌড়ে অনেক পিছিয়ে পড়েছে অ্যাপল।

নতুন করে দায়িত্ব নেয়ার পর অ্যাপলকে রীতিমতো ঢেলে সাজান স্টিভ জবস। বন্ধ করে দেন অনেক প্রজেক্ট। চালু করেন নতুন পণ্য, বহনযোগ্য মিউজিক ডিভাইস আইপড। এটি অ্যাপলের জন্য বিপ্লব নিয়ে আসে। ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মিউজিক রিটেইলার হয় আইটিউন্স যা থেকে ৬ বিলিয়ন গান ডাউনলোড করা হয় এবং বিক্রি হয় ২০০ মিলিয়ন আইপড।

২০০৭ সালে আইফোনের মাধ্যমে সফলভাবে মোবাইল ফোন মার্কেটে প্রবেশ করে অ্যাপল। আইপডের বৈশিষ্ট্য নিয়ে মাল্টি ফাংশন এবং টাচ স্ক্রিন নিয়ে বিশ্বে সর্বোচ্চ বিক্রিত ইলেক্ট্রনিক পণ্যে পরিণত হয় আইফোন। ২০১০ সালে স্টিভ জবস নিয়ে আসেন আইপ্যাড যা আসলে ট্যাবলেট কম্পিউটার।

স্টিভ জবসের নেতৃত্বে এতোসব অর্জন নিয়ে অ্যাপল যুক্তরাস্ট্রের নাম্বার ওয়ান কোম্পানী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এনিয়ে ওয়েইনি গ্রেজকিকে উল্লেখ করে জবস বলেছিলেন, তার মতোই তিনিও অতীতে নয় বরং ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতেই পছন্দ করেন।

১৯৯১ সালে লরেন পাওয়েলকে বিয়ে করেন স্টিভ জবস। তিন সন্তান রয়েছে এই দম্পতির। ২০০৩ সালে প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সার ধরা পরে তার। ২০০৯ সালে লিভার প্রতিস্থাপন করা হয় স্টিভের। অসুস্থ্যতার কারণে ২০১১ সালের আগস্টে অ্যাপল ছাড়েন তিনি। ক্যান্সার পরবর্তী জটিলতা থেকে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে একই বছরের অক্টোবরে মারা যান স্টিভ জবস।

এক সাক্ষাৎকারে স্টিভ জবস বলেছিলেন, ২৩ বছর বয়সে এক লাখ ডলার, ২৪শে এক কোটি ডলার আর ২৫ বছর বয়সে ১০ কোটি ডলারের মালিক ছিলেন তিনি। কিন্তু তা কখনোই গুরুত্বপূর্ণ ছিলো না। কারণ টাকার জন্য আসলে কোন কাজই করেননি তিনি। তাই করেছেন যা ভালোবেসেছেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

তথ্য প্রযুক্তি খবর