channel 24

ব্রেকিং নিউজ

  • ব্যাংক লুটকারীদের দুধ কলা দিয়ে পুষছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

  • ঋণ খেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের...

  • সার্কুলারের কার্যকারিতার ওপর হাইকোর্টের স্থিতিবস্থা

অবশেষে কি মিলল প্লাস্টিক ধ্বংসের উপায়?

অবশেষে কি মিলল প্লাস্টিক ধ্বংসের উপায়?

প্রতিদিনই ভয়াবহ আকারে বাড়ছে প্লাস্টিকের ব্যবহার আর উৎপাদন। গবেষকরা বলছেন, বর্তমান হারে প্লাস্টিকের ব্যবহার চলতে থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ পৃথিবীতে প্লাস্টিক বর্জ্যের পরিমাণ দাড়াবে ১২ বিলিয়ন টনে। আর এ সময়ের মধ্যে বিলুপ্ত হতে পারে সমুদ্রের ৯৫ শতাংশ প্রাণী। অথচ প্লাস্টিকবিহীন আমাদের দৈনন্দিন জীবনও তো অচল। দীর্ঘদিন ধরে তাই অপচনশীল এ দ্রব্যটিকে ধ্বংসের উপায় খুঁজছিলেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি একরকম অপ্রত্যাশিতভাবেই তারা উদ্ভাবন করেছে এমন একটি ফাংগাস যা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই প্লাস্টিককে ধ্বংস করে ফেলতে পারে। তবে কি অবশেষে মিলেছে পরিবেশ বাচানোর উপায়?

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে প্লাস্টিকের ব্যবহার। এক হিসেবে দেখা গেছে, বিশ্বে প্রতি মিনিটে ১০ লাখের বেশি প্লাস্টিক বোতল বিক্রি হয়। এরমধ্যে মাত্র ১৪ শতাংশ রিসাইকেল করা হয়। আর বাকি পুরোটাই থেকে যায় পরিবেশে।

আপনি জানেন কি? এ পর্যন্ত তৈরি হওয়া সব প্লাস্টিকই কোন না কোন আকারে পৃথিবীতে রয়ে গেছে। প্লাস্টিক অপচনশীল। অর্থ্যাৎ মাইক্রো অর্গানিজম বা অনুজীবরা একে নষ্ট করতে পারেনা। তাই প্লাস্টিক ধ্বংস হতে বা মাটির সাথে মিশে যেতে চারশো বছর সময় লেগে যায়।

এবার আসি, আমাদের পরিবেশে কি পরিমাণ প্লাস্টিক রয়েছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, পৃথিবীর সাগরে প্রায় দেড়শ মিলিয়ন মেট্রিক টন প্লাস্টিক ছড়িয়ে পড়েছে। আর প্রতি বছর নতুন করে মিশে যাচ্ছে আরো ৮০ লক্ষ মেট্রিক টন প্লাস্টিক। এরমানে দাড়ায়, আমরা প্রায় প্রতি মিনিটে এক ট্রাক করে প্লাস্টিক ফেলছি সমুদ্রে।

পরিবেশ বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, আসছে দশ বছরের মধ্যেই সাগরে মিশে যাবে আড়াইশো মিলিয়ন মেট্রিক টন প্লাস্টিক। আর ২০৫০ সাল নাগাদ বিষয়টি এমন দাড়াবে যে সমুদ্রে মাছের চেয়ে প্লাস্টিকের সংখ্যা বেশি থাকবে।

তবে আশা দেখাচ্ছে, অ্যাসপার-জিলাস টুবিনজেনসিস নামের প্লাস্টিক খেকো ফাংগাস। পাকিস্তানের একটি ময়লার স্তুপ থেকে আলাদা করা হয় এই ফাংগাসকে। গবেষণায় মাত্র দুই মাসে পলিয়েস্টার পলিউরেথিন নামের বহুল ব্যবহৃত প্লাস্টিককে ছোট ছোট টুকরায় বায়োডিগ্রেড করতে পেরেছে এটি। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অনেক কাজে এই প্লাস্টিক ব্যবহৃত হয়।

তবে প্লাস্টিক ধ্বংস করতে পারে এমন ওরগানিসম আবিস্কার এটিই প্রথম নয়। ২০১৬ সালে, প্লাস্টিক খেকো ব্যাকটেরিয়া, ইডেওনেলা সাকায়েনসিস আবিষ্কার করেন জাপানের একদল বিজ্ঞানী। দুটি এনজাইম ব্যবহার করে এ ব্যাকটেরিয়া, বহুল ব্যবহৃত পলিইথিলিন টেরেপ-থালেটকে পুরোপুরি ভেঙ্গে ফেলতে পারে। পানি আর কোমল পানীয়র বোতল তৈরির জন্য পিইটি ব্যবহার করা হয়। আর পৃথিবীর মোট প্লাস্টিকের ছয় ভাগের এক ভাগই এই পিইটি।  

জাপানের প্লাস্টিক খেকো ব্যাকটেরিয়ার এনজাইমের কাঠামো নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষার সময় একদল গবেষক অপ্রত্যাশিত ভাবে শক্তিশালী এনজাইম আবিষ্কার করেন। যা কয়েক দিনের মধ্যে একটি প্লাস্টিককে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করতে পারে। সাধারণ এনজাইম থেকে ২০ ভাগ দ্রুত কাজ করে এটি। গবেষকদের আশা, আরো পরীক্ষা নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে এ এনজাইমের কার্যক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব।

গবেষকদের দাবি, প্লাস্টিক বর্জ্য সমস্যার সমাধানে বড় ভূমিকা রাখবে এটি। তবে আমাদের অসচেতনার কারণে পরিবেশে যে বিপুল পরিমাণে প্লাস্টিক বর্জ্যের সৃষ্টি হয়েছে তা থেকে পরিত্রাণে আরো গবেষণা দরকার বলে মনে করছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

তথ্য প্রযুক্তি খবর