channel 24

সর্বশেষ

  • জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে যোগ দিতে...

  • নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে যাত্রাবিরতিতে লন্ডনে প্রধানমন্ত্রী

  • কক্সবাজারের উদ্দেশে সড়ক পথে আ.লীগের সাংগঠনিক সফর শুরু...

  • নির্বাচনে জনপ্রিয় ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেয়া হবে: কুমিল্লায় সেতুমন্ত্রী

  • রেলপথের মতো সড়কপথের প্রচারণাতেও ব্যর্থ হবে আ.লীগ: রিজভী

  • ২০১৮'র শেষ অথবা ২০১৯'র শুরুতে জাতীয় নির্বাচন: সিইসি...

  • আইনগত ভিত্তি পেলেই ইভিএম ব্যবহার করা হবে

  • নরসিংদীতে ব্রহ্মপুত্র নদে নৌকাডুবি; ভাইবোনসহ ৩ জনের মৃত্যু

ভুল বোঝাবোঝিতেই কি গেলো ৫০ প্রাণ?

ভুল বোঝাবোঝিতেই কি গেলো ৫০ প্রাণ?

রানওয়ে ফাঁকা না থাকায় আকাশেই ঘুরতে থাকে ইউএস বাংলার বিমানটি। অবতরণের জন্য কন্ট্রোল রুমের সাথে বারবার যোগাযোগ করা হয়। সবশেষে অবতরণের অনুমতি পেলেও পরক্ষণেই নির্দেশনা আসে অবতরণ না করার কিন্তু ততক্ষণে সময় যা চলে যাওয়ার চলে গেছে। চিরতরে হারিয়ে গেলো ৫০টি প্রাণ!

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার ৩৩৮ মিটার উঁচু সংকীর্ণ উপত্যকার ওপর অবস্থিত নেপালের একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি। সমুদ্রপৃষ্ঠের উপরের আকাশে বিমানকে বারবার ঘুরানোটাও ছিল অনেক কঠিন। কেননা,  উড়োজাহাজ যতই উপরে ওঠে, বাতাসের ঘনত্ব ততই কমতে থাকে।
তবে, বিমানবন্দরের এটিসি থেকে ইউএসবাংলা এয়ারলাইন্সের বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের পাইলটকে অবতরণের জন্য দুইবার দুই রকম নির্দেশনা দেওয়ার প্রমাণ মিলেছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুই রকম নির্দেশনার বিভ্রান্তেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার সৃষ্টি। যে ঘটনার নির্মম সাক্ষী হয়ে রইলো ৫০ জন ব্যক্তির মৃত্যু, সাথে পরিবারগুলোর বুক খালি করা হাহাকারের স্মৃতি। ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়া ওই অডিও শুনে অনেকেই মন্তব্য করছেন, এটা পুরোপুরি এটিসির ভুল। তাদের ভুলের এমন মারাত্মক মাশুল গুনতে হলো বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্টদের।
কন্ট্রোল রুম থেকে ইউএস বাংলার পাইলটকে প্রথমে বিমানবন্দরের ডানদিকের রানওয়েতে (০২) অবতরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।  নির্দেশনা অনুযায়ী, পাইলট উড়োজাহাজটি বিমানবন্দরের ডান দিকে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান কন্ট্রোল রুমে। কিন্তু ডানদিকে রানওয়ে খালি না থাকায় তিনি আবার কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এসময় তাকে ভিন্ন বার্তা দেওয়া হয়। পাইলট আগের অবস্থানে দুই নম্বর রানওয়ে ফ্রি করার জন্য কন্ট্রোল রুমের কাছে অনুরোধ জানান। কিন্তু তাকে আবারও ভিন্ন বার্তা দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পর পাইলট রানওয়ে ফ্রি করার জন্য আবারও অনুরোধ করেন।  এর পরপরই উড়োজাহাজটি থেকে বিকট শব্দ পাওয়া যায়।  উড়োজাহাজটি ত্রিভুবন বিমানবন্দরের পাশের একটি মাঠে আছড়ে পড়ে।
এদিকে নেপালের ইংরেজি দৈনিক ‘নেপালি টাইমস’ ইউটিউবে কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে পাইলটের শেষ কথোপকথনের অডিও রেকর্ড দেওয়ার পর অধিকাংশ শ্রোতাই মন্তব্য করেন, ‘কন্ট্রোল রুম থেকে ভুল বার্তা দেওয়ার কারণেই ককপিটে দ্বিধায় পড়েন পাইলট’। একজন মন্তব্য করেন, ‘০২ আর ২০ এর দ্বিধায় গেল এতোগুলো প্রাণ!’
উন্নত রাডার প্রযুক্তির ব্যবহারের সুযোগ কম থাকায় স্থানটিতে পাইলটকে খালি চোখে দেখে বিমান চালাতে হয়। যাকে বলা হয় ‘নন-প্রিসিশন ল্যান্ডিং’ (Non-Precision Landing)। এছাড়া ত্রিভুবন গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর হওয়া সত্ত্বেও এর রানওয়ে রয়েছে মাত্র একটি। তাই প্রায় ক্ষেত্রেই উড়োজাহাজকে অবতরণের জন্যে অপেক্ষায় থাকতে হয়। কিন্তু সেই মুহুর্তে বিরূপ আবহাওয়া থাকলে সেই প্রতিক্ষা ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
বিমান দুর্ঘটনার জন্য কুখ্যাত নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দর। পাহাড় ঘেরা এই বিমানবন্দরটি কাঠমাণ্ডু উপত্যকায় শহর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে। ৬০ বছরের পুরনো বিমানবন্দরটিতে এ পর্যন্ত ৭০টি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। যাতে প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশিসহ প্রায় ৭শ মানুষ।

এলএইচএ

সর্বশেষ সংবাদ

চ্যানেল 24 বিশেষ খবর