আর ফেরা হলো না তাদের...

"আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ছে শরীর, ভেসে যাচ্ছিল আর্তনাদের চিৎকার…কে কি করবে, কেমনভাবে নিজেদের জীবনকে বাঁচাবে তারা…দাউ দাউ করে জ্বলছিল তাদের শরীর।উপায় না পেয়ে বিমান থেকে তিনজন মানুষ হঠাৎ করেই লাফ দেয়।পরিস্থিতি তখন ভয়াবহ।এর মধ্যে কিছু মানুষ আমাকে বের করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যায়।" মঙ্গলবার নেপালের সংবাদমাধ্যম হিমালয়ান টাইমস’এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে শাহরিন জানিয়েছিলেন সেই মর্মান্তিক ঘটনার কথা। ইউএস বাংলার বিধ্বস্ত বিমান থেকে সেদিন সৌভাগ্যবশত প্রাণে বেঁচে যান বাংলাদেশের নাগরিক শাহরিন আহমেদ।

পেশায় শিক্ষক শাহরিন ভ্রমণের উদ্দেশেই ইউএস বাংলার বিমানে করে মুক্ত আকাশে বিচরণ করেছিলেন তিনি। কিন্তু বেদনার স্মৃতিতে ইচ্ছেটা আগুনে পুড়েই ঝলসে গেলো।নেপালের ত্রিভুবনের সীমানা থেকে হাসপাতালের করিডোরেই বেঁধে যায় ভ্রমণপিপাসু মনের আঙিনা।চোখে শুধু ভাসছে মানুষের পুড়ে যাওয়ার দৃশ্য।শাহরিনের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে হাসপাতালের চিকিৎসক নাজির খান বলেন, ‘তার ডান পায়ে মারাত্মক জখম রয়েছে। তাকে আমরা পর্যবেক্ষণে রেখেছি। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেই সেখানে অস্ত্রোপচার করা হবে। এছাড়া রোগীর পেছনেও ১৮ ভাগ পুড়ে গেছে।’  

ভাগ্যের সহায় তিনি বেঁচে গেলেও ফেরা হলো না দাদার মরদেহ দেখতে যাওয়ার উদ্দেশে রওনা দেওয়া টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজের নেপালী ছাত্রী শ্রেয়া ঝা’র।দুপুর আড়াইটার দিকে নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে বিমানটি দুর্ঘটনায় পতিত হলে অন্যদের সঙ্গে তারও মৃত্যু হয়।

অবশেষে না ফেরার দেশেই চলে গেলেন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার রকিবুল হাসান। স্ত্রী এমরানা কবির মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।ছেলের মৃত্যুর খবর মাকে এখনো জানানো হয়নি। ছেলের মৃত্যু সংবাদ যাতে মায়ের কানে না  পৌঁছতে পারে পারে সেজন্য রকিবুল ইসলামের ঢাকার বাসায় (কাজিপাড়া) ডিশ লাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। ছুটি কাটাতেই নেপালে যাচ্ছিলেন এই দম্পতি। সারাক্ষণ মাকে আগলে থাকা এই ছেলে আর মায়ের আচঁলে নয় পৃথিবীর সর্বগ্রাসা নিয়মে লুকিয়ে গেলো। 

মুক্ত আকাশে আর বিমান চালিয়ে বিচরণ করা হবে না ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজটির প্রধান বৈমানিক আবিদ সুলতানের। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার ইউ-এস বাংলার মহাব্যবস্থাপক জনসংযোগ কামরুল ইসলাম  তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

দু’বছরের শিশু কন্যা ইনাইয়া ইসলামকে রেখেই মৃত্যুর পথে সঙ্গী হয়েছেন বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজের কেবিন ক্রু নাবিলা। মেয়েকে বুয়ার কাছে রেখে ফ্লাইটে উঠেন নাবিলা। আদর করে নাবিলা মেয়েকে ডাকতেন ইয়া পাখি।

শোকের মাতম চলছে স্বজনদের মধ্যে। ছেলের শোকে ফয়সালের মা শামসুন্নাহার বেগম অচেতন প্রায়। ফয়সালের বাবা সামসুদ্দিন সরদার 'বাবা, আমার বুকে আসো বাবা' বলে বিলাপ করছেন। মায়ের হাতে রান্না করা গরুর মাংসের খিচুড়ি খুবই পছন্দ ছিল ফয়সালের। মা শামসুন্নাহার বেগম মাঝে মাঝে জ্ঞান ফিরে পেলে সেই খিচুড়ির কথা মনে করেই আহাজারি করছেন। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বৈশাখীর স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন ফয়সাল আহমেদ। 

এদিকে, নেপালে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিধ্বস্তের ঘটনায় স্ত্রী তাহিরা তানভীন শশী নিহত হলেও স্বামী ডা. রেজওয়ানুল হক শাওন বেঁচে আছেন। আহত অবস্থায় নেপালের ওম হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন। 

নেপালে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে গত ১০ মার্চ রাজশাহী থেকে ঢাকার আসেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত যুগ্মসচিব হাসান ইমাম, তার স্ত্রী এইচএন বিলকিস বানু ও বন্ধু ব্যাংক কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম। আজ সোমবার (১২ মার্চ) ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের ওই বিমানে করে রওনা হন তারা। তবে কাঠমান্ডুতে বিমান বিধ্বস্তের পর তাদের কোনও খোঁজ পাচ্ছেন না স্বজনরা।

নেপালে বিধ্বস্ত ইউএস বাংলার এয়ারলাইন্সের বিমানে থাকা সিলেটের জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজের ১৩ শিক্ষার্থীর স্মরণে তিন দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আবেদ হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিজের জীবন উৎসর্গ করে নেপালি ১০ যাত্রীকে বাঁচিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন বাংলাদেশের বাণিজ্যিক বিমানের প্রথম নারী পাইলট পৃথুলা রশিদ। এ কারণে নেপালের গণমাধ্যম পৃথুলাকে আখ্যায়িত করেছে ‘ডটার অব বাংলাদেশ’ নামে। পৃথুলা রশিদ ছিলেন গত সোমবার নেপালর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স উড়োজাহাজের সহকারী পাইলট।

 

এলএইচএ

 

Last modified on 13-03-2018 08:06:20 PM

চ্যানেল 24

387 South, Tejgaon I/A
Dhaka-1208, Bangladesh
Email: newsroom@channel24bd.tv
Tel: +8802 550 29724
Fax: +8802 550 19709

Save

Save

Like us on Facebook
Satellite Parameters
Webmail

Save

Save

Save

Save

Save

Save

Save

Save

Save

Save

Save

Save

Save