সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আসক্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের বিকাশ ক্ষমতা

ফেইসবুক, হোয়াটঅ্যাপের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আসক্তি শিশুদের বিকাশে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এমন মত ব্রিটিশ গবেষকদের। 'Life in Likes' নামে যুক্তরাজ্যের নতুন একটি গবেষণা বলছে, ফেইসবুকে লাইক বৃদ্ধির মতো তুচ্ছ ইস্যু ভয়াবহ মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে, শিশুদের উপর। শুধু তাই নয়, ক্লিনিক্যাল সাইক্লোজি জার্নাল বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে আত্মহত্যারও অন্যতম কারন সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আসক্তি। এ বিষয়ে সোস্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান প্রযুক্তিবিদদের।

 

তথ্য-প্রযুক্তি'র অবাধ প্রবাহে দিনকে দিন শিশু-কিশোরদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে, মুঠোফোন কিংবা ট্যাব। 

ইউটিউবে ভিডিও দেখার পাশাপাশি ফেইসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে তারা। আর এ সুযোগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে

গড়ে উঠছে, ডিজিটাল কিডস ক্লাব। শিশুরা অভ্যস্ত হয়ে উঠছে, অন্য এক জগতের সঙ্গে। 

চিলড্রেন'স কমিশনার ফর ইংল্যান্ডে'র নতুন গবেষণা বলছে, কোমলমতি শিশুদের বিকাশে মারাত্মক অন্তরায় ফেইসবুকের মতো সামাজিক মাধ্যম। প্রাইমারির গণ্ডি পেরিয়ে মাধ্যমিকে যাচ্ছে-এমন ৩২ শিশুর ওপর গবেষণা চালায়, সংস্থাটি। 

Life in likes বা 'লাইকেই জীবন' শিরোনামের এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বয়স বাড়ার সাথে সাথে শিশুরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দিকে ঝুঁকে পড়ে, যেখানে তাদের বন্ধুদের পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানানোর চাপ বাড়ে। এমনকী নিজেদের পোস্টে লাইক পাওয়া না পাওয়ার বিষয়টিও প্রভাব ফেলে তাদের ওপর।  

অভিভাবকরদের সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নানা ধরনের চাপ নিতে সক্ষম নয় কোমলমতি শিশুরা। 

 <অ্যানি লংফিল্ড, চিলড্রেনস কমিশনার, ইংল্যান্ড>

<৬ থেকে ৭ বছর বয়সী শিশুদের ডিজিটাল লিটারেসি শেখা বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। এতে করে তারা তারা স্কুলে বসেই অনলাইন নিরাপত্তার বিষয়ে শিখতে পারবে। এমনকি মানসিক নানা চ্যালেঞ্জ বিষয়েও ধারনা পাবে।>  

যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিনিক্যাল সাইক্লোজি জার্নালের প্রতিবেদন বলছে, শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ভয়াবহ ক্ষতির কারণ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আসক্তি। প্রায় ৫ লাখ শিশুর ওপর জরিপ চালিয়ে সংস্থাটি বলছে, এর প্রভাবে গেল এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে আত্মহত্যা বেড়েছে রেকর্ড পরিমাণ। প্রতি এক লাখে ৫ জন মেয়ে, আর ১৪ জন ছেলে শিশুর আত্মহত্যার কারণ সামাজিক মাধ্যম। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন, অভিভাবকরাও। 

<আমাদের শৈশবে এ ধরনের কোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছিলো না। বর্তমানে ব্যস্ত অভিভাবকরা যখন কর্মক্ষেত্রে থাকেন, সেসময়টায় হয়ত শিশুদের সঙ্গি হিসেবে কাজ করে সামাজিক মাধ্যম, এর বাইরে তেমন সুফল দেখি না।>  

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কোম্পানিগুলোকে এ বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। 

১৩ বছরের আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অনেক সাইটে অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ না থাকলেও, অনেক বয়স লুকিয়ে সেই সুযোগ নিচ্ছে। 

 

চ্যানেল 24

387 South, Tejgaon I/A
Dhaka-1208, Bangladesh
Email: newsroom@channel24bd.tv
Tel: +8802 550 29724
Fax: +8802 550 19709

Save

Save

Like us on Facebook
Satellite Parameters
Webmail

Save

Save

Save

Save

Save

Save

Save

Save

Save

Save

Save

Save

Save