channel 24

সর্বশেষ

  • এমপিদের উপজেলা পর্যায়ে দলীয় প্রার্থী না হতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ: কাদের

  • পর পর রেল দুর্ঘটনার পেছনে চক্রান্ত আছে কি না, তা তদন্ত হবে: প্রধানমন্ত্রী

  • হলি আর্টিজান মামলার রায় যেকোনো দিন

  • রোহিঙ্গা গণহত্যার পূর্ণ তদন্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সম্মতি

  • বিশ্বকাপ বাছাই: ওমানের কাছে ৪-১ গোলে হারলো বাংলাদেশ

প্রতিদিন গড়ে অলস বসে থাকছে ৪০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র; আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে খরচ

প্রতিদিন গড়ে অলস বসে থাকছে ৪০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র; আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে খরচ

প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৪০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র অলস বসে থাকে দেশে। যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়িয়ে দিচ্ছে উৎপাদন খরচ। ফলে সবশেষ অর্থবছরে কোনো কেন্দ্রে এক ইউনিট বিদ্যুতের জন্য খরচ হয়েছে ৮১ টাকা। অথচ বিক্রি মূল্য ৬ টাকার নিচে। আর এসব অব্যবস্থাপনা সামাল দিতে বছরে ৮ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি যাচ্ছে পিডিবির মাধ্যমে।

সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ির বড়াল নদীর তীরে অবস্থিত প্যারামাউন্ট-বিট্র্যাক এনার্জির মালিকানাধীন ডিজেল চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ২শ' মেগাওয়াট। কেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় মাস কয়েক আগে। কিন্তু ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চালু থাকার সময়ে সেখানে এক ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে প্রতিষ্ঠানটির খরচ হয়েছে ৮১ টাকা। যা ওই বছরের গড় উৎপাদন খরচের প্রায় ১৪ গুণ।

পিছিয়ে নেই এগ্রিকো পাওয়ার লিমিটেডের মালিকানাধীন কেরাণীগঞ্জের ১শ মেগাওয়াট ক্ষমতার কেন্দ্রেরও। প্রতি ইউনিটের জন্য গুণতে হয়েছে প্রায় ৭৬ টাকা। এছাড়া, ৭৩ টাকা উৎপাদন খরচ ছিল ৩শ মেগাওয়াটের এপিআর এনার্জির। মূলত জ্বালানির বাইরে অন্য খাতগুলোর মাত্রাতিরিক্ত ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে এই হার।

বিদ্যুত ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল আলম বলেন, 'সরকার বিদ্যুত উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নয়। মুল্যটা বিবেচনা করে নয়। বিদ্যুত ব্যবসায়ীদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করারা জন্য করেছে। এই সত্য কথা আমরা মেনে নিয়েই সমস্যা সমাধান করতে এগিয়ে যাই, তবে সমস্যা সমাধান হবে।'

বিদ্যুত ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ম তামিম বলেন, 'রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট যতগুলো আছে, যেগুলোর চুক্তি শেষ হয়ে যাচ্ছে, সেগুলোর চুক্তি রিনিউ করা। কারণ সরকারের কোন বাধ্যবাধকতা নাই। প্রথমত তাদের দেয়া হয়েছে ৩ বছরের। সরকারের কারণে সেটা ৩ থেকে ৬ বছর করা হয়েছে। বাড়তি যে চুক্তিগুলো দেয়া হচ্ছে সেগুলো বাতিল করে দেয়া উচিত।'

উৎপাদন খরচ বাড়ার পেছনে বড় কারণ, কেন্দ্রগুলো নিয়মিত চালু না থাকা। পিডিবির হিসাবেই গড়ে সেই সংখ্যা অন্তত ৫০টি। যার কারণ হিসেবে দেখানো হয় গ্যাস সঙ্কট অথবা চাহিদা না থাকা। ফলে উৎপাদনহীন কেন্দ্রের চাপ গিয়ে পড়ছে অন্যগুলোর ওপর। এছাড়া জ্বালানি মিশ্রণ পরিকল্পনা কাজ না করায়, বড় ব্যবধান থাকছে বিদ্যুৎ কেনা এবং বিক্রি দামের মধ্যে। আর এই ঘাটতি মেটাতে প্রতি বছর ৮ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে সরকারকে পিডিবির মাধ্যমে।

বিদ্যুত ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, 'আমরা প্রতি বছর কিন্তু কিছু কিছু জায়গা থেকে রিটায়্যারমেন্ট করছি। কিছু কিছু জায়গায় রেখে দিচ্ছি। কারণ ওইসব জায়গায় পকেট তৈরি হয়ে আছে। ওইসব জায়গায় পাওয়ার নেয়াটাও এখন দুষ্কর। দাম হয়ে যাবে।'

পিডিবি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ বলেন, 'এই মুহুর্তে এ ব্যাপারে কিছু করার নেই কিছু কিছু বিদ্যুতকেন্দ্র বন্ধ হচ্ছে গ্যাসের জন্য। গ্যাস যদি পেতাম তাহলে বলতাম যে বসে আছে।'

এক বছরের ব্যবধানে ডিজেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ইউনিটপ্রতি খরচ বেড়েছে ৩ টাকার বেশি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

চ্যানেল 24 বিশেষ খবর