channel 24

ব্রেকিং নিউজ

  • অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসা: রাজধানীর গুলশানে ঢাকা মহানগর...

  • দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ ভূঁইয়া আটক...

  • মতিঝিলে ফকিরেরপুল ইয়ংমেনস ক্লাবে অভিযানে আটক ১৪২

খুলনার কয়রায় রোগীদের ৭০ থেকে ৮০ ভাগই আমাশয়ে আক্রান্ত

খুলনার কয়রায় রোগীদের ৭০ থেকে ৮০ ভাগই আমাশয়ে আক্রান্ত

খুলনার কয়রা উপজেলায় রোগীদের ৭০ থেকে ৮০ ভাগই আমাশয়ে আক্রান্ত। এখানকার ৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে মিলেছে এ তথ্য। লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সঙ্কট এজন্য দায়ী। প্রান্তিক মানুষের এই দুর্দশা লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে কমিউনিটি ক্লিনিক। তবে, উপকূলীয় অঞ্চলে পরিস্থিতি দিন দিন জটিল করে তুলছে জলবায়ু পরিবর্তন।

লবণাক্ততার প্রভাবে বিপর্যস্ত উপকূলের জনগোষ্ঠীর জন্য এক চিলতে আশার প্রতীক যেন কমিউনিটি ক্লিনিক। একটা সময় ছিল যখন প্রাথমিক চিকিৎসার অভাবে অসুখ-বিসুখ শরীরে নিয়েই বাঁচতে হতো গ্রামের মানুষকে। তবে, এখন পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। যেকোন স্বাস্থ্যসেবার জন্য তারা ছুটে আসেন কমিউনিটি ক্লিনিকে। বিনামূল্যে দেয়া হয় ৩২ ধরনের ওষুধ।

গোবিন্দপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে আসা একজন সেবাগ্রহীতা সাকিনা বলেন, "জ্বর, গ্যাস্ট্রিক, আমাশয়.. যখন যে অসুখ থাকে তার ওষুধ দেয় এখান থেকে।"

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কমিউনিটি ক্লিনিক কেমন ভূমিকা রাখছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুলনার কয়রা উপজেলার ৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রতিদিন সেবা নেন গড়ে ৪০ জন। এর মধ্যে ৭০-৮০ ভাগই আমাশয় রোগে আক্রান্ত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চর্মরোগ এবং তার পরের অবস্থানে আছে গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টিহীনতা।

চৌকুনী কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপ মেরাজুল ইসলাম বলেন, "প্রতিদিন গড়ে ৩০-৩৫ জন আসেন, তার মধ্যে ১৫-২০ জনই আমাশয় রোগ নিয়ে আসেন।"

আর বতুল বাজার কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপ উম্মে হানি জানান, "প্রায় সব রোগীই বলেন, তাদের আমাশেয়ের সমস্যা আছে।" 

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্যও একই কথা বলছে।

"বহির্বিভাগে যত রোগী আসে, তার মধ্যে ৭০-৮০ ভাগ আসেন আমাশয়ের সমস্যা নিয়ে। এর মূল কারণ, বিশুদ্ধ পানির অভাব।"- বলছিলেন, কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার সুশান্ত কুমার পাল। 

আমাশয় একটি পানিবাহিত রোগ। উপকূলীয় অঞ্চলে ভূ-উপরিস্থ ও ভূ-গর্ভস্থ পানি লবণাক্ত হওয়ায় অধিকাংশ মানুষ বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারেন না। 

বাঁশখালী কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা অঞ্জনা মণ্ডল বলেন, "টিউব ওয়েল এর পানি খাই, সেটা লবণাক্ত। পুকুরের পানি খাই, অনকে সময় ফোটানো হয়না। তার জন্য আমাশয় হতে পারে। আবার বৃষ্টির পানিও সঠিকভাবে সংগ্রহ করা হয়না, রোগ-জীবাণু থাকে।"

গত ৩৫ বছরে উপকূলীয় এলকায় লবণাক্ত জমির পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ২৭ ভাগ। একই সময়ে বেড়েছে ভূ-উপরিস্থ ও ভূ-গর্ভস্থ পানির লবণাক্ততার তীব্রতা ও বিস্তৃতি।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভবিষ্যতে রোগ-বালাই আরো বাড়বে। সেই পরিস্থিতি মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে কমিউনিটি ক্লিনিক। সেজন্য দরকার এর আধুনিকায়ন। 

প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে ১ জন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রভাইডার বা সিএইচসিপি আছেন, যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চ মাধ্যমিক থেকে স্নাতক। তাদের দেয়া হয়েছে ৩ মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণ। এবং তাদের সাথে আছেন ১ জন স্বাস্থ্য সহকারী ও ১ জন পরিবার কল্যাণ সহকারী।

"আমাদের আরো প্রশিক্ষণ দরকার। সেই সাথে আরো উন্নত মানের ওষুধ সরবরাহ দরকার।"- বলছিলেন আর বতুল বাজার কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপ উম্মে হানি।

আর বাঁশখালী কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি এসএম আকতারুজ্জামান বলেন, "যেহেতু আমাশয় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি, তাই রোগের ওষুধ বেশি সরবারাহ দরকার।"  

কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী জানালেন, বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। বলেন, "উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার সমস্যা ও রোগের ধরণ যেহেতু ভিন্ন, তাই সেটা বিবেচায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থা দ্রুতই নেব। আর প্রশিক্ষণও বিশেষ এলাকার জন্য আলাদা হওয়া দরকার। আমরা সেটারও ব্যবস্থা করবো।"

একই সাথে এসব এলাকায় যদি বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়, তাহলে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব অনেকাংশেই কমিয়ে আনা যাবে।

ভিডিওটি সাবটাইটেলসহ দেখতে ক্লিক করুন এখানে

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

চ্যানেল 24 বিশেষ খবর