channel 24

সর্বশেষ

  • ব্যর্থ সরকার মানুষকে বাঁচাতে কাজ করছে না: রিজভী

  • সার্কাসের হাতির মতো সমালোচনার বৃত্তে বিএনপি: কাদের

  • সরকারি ব্যবস্থাপনায় করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেবে না আনোয়ার খান হাসপাতাল

  • এক রুবেলের বদলে আরেক রুবেল জেল! দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ

  • সরকারি বীজে পাট চাষ করে বিপাকে নাটোরের কৃষকরা

  • ঢাকায় বাড়ছে যানবাহনের চলাচল

  • ভুল পদ্ধতিতে তৈরি হ্যান্ড স্যানিটাইজার শরীরের জন্য ক্ষতিকর

  • টিসিবির পণ্য উপজেলা পর্যায়েও বিক্রির ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের

  • জাতীয় পরিচয়পত্র সেবায় নতুন সংকট; অনলাইনে প্রতারণার ফাঁদ

  • যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ: আটক অর্ধশতাধিক, ওয়াশিংটনে সেনা মোতায়েন

  • করোনায় ব্রাজিলে একদিনে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২৬২ জনের মৃত্যু

  • করোনার উচ্চ সংক্রমণ ঝুঁকিতে দেশের সব বিমানবন্দর

  • রাজধানীতে জেকেজি হেলথ কেয়ার কর্মীদের বিক্ষোভ

  • বরগুনায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিএফের চাল চুরিসহ নানা অভিযোগ

  • যমুনা ও তিস্তার ভাঙনে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে নদীপাড়ের বাসিন্দারা

আইনি গ্যাঁড়াকলে ১০৪ বছরের বৃদ্ধা

আইনি গ্যাঁড়াকলে ১০৪ বছরের বৃদ্ধা

এক দুদিন নয়। দীর্ঘ সতের বছর ধরে অস্ত্র মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে চলেছেন প্রায় শতায়ু এক বৃদ্ধা। কিন্তু মামলার কোনো অগ্রগতি নেই। বয়সের ভারে নূজ্য রাবেয়া খাতুন তাই আর পেরে উঠছেন না। বয়বৃদ্ধ নারীর পুলিশ আর নিম্ন আদালতের এমন নিষ্ঠুর আচরণে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। বুধবারের মধ্যে এ ব্যাপারে ডিএমপি কমিশনারকে ব্যাখ্যাও দিতে বলা হয়েছে।

বাঘে ধরলে ১৮ ঘা, আর পুলিশ ধরলে নাকি ৩৬ ঘা!

সত্যিই, কখনো-কখনো আইনি গ্যাড়াকল মানবতাকে এমনভাবে বন্দি করে, যেখান থেকে মুক্তি মেলে না শতায়ু এই বৃদ্ধারও।

রাবেয়া খাতুন ২০০২ সালে কারওয়ান বাজারের কাজীপাড়ায় পান বিক্রি করতেন। সেসময় একদিন ওই এলাকায় মাদকসেবীদের ধরতে যান তেজগাঁও থানার এক দারোগা। স্বাক্ষী দেয়ার কথা বলে সেখান থেকে ধরে নিয়ে আসেন থানায়। পরে রাবেয়া খাতুনসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা দেয় অবৈধ অস্ত্র ও গুলি রাখার অভিযোগে।

রাবেয়া খাতুন বলেন, 'দারোগা বলল যে, আপা আমার লগে একটু থানায় লন, আমনেরে আমি এক্ষন দিয়ে যাব। খালি একটা সাক্ষি দিবেন। সে থানায় নিয়ে আমাকে কোন জিজ্ঞাসাও করে নাই। রাখছে খুব যত্নের সহিতে। আমারে একটা মশার কামড় খাইতে দেয়নাই। সকালে শুনি যে আমার নামে অস্ত্র কেইস দিছে।'

ওই মামলার দুই আসামী জামিন নিয়ে লাপাত্তা। মারা গেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তাও। আর রাবেয়া খাতুন! ৬ মাস জেলে থাকার পর গত ১৭টি বছর ধরে হাজিরা দিয়ে চলেছেন নিম্ন আদালতে। বয়স ও নানা রোগের ভারে এখন আর পেরে উঠছেন না।

ক্রন্দনরত অবস্থায় রাবেয়া খাতুন বলেন, 'সাজানো কেইস দিয়ে আজ ১৮টা বছর; জামাই-মেয়ের কাছে থাকি। যে জামাই-মেয়ের কাছে থাকে...'

এমন বয়বৃদ্ধ নারী কী করে অস্ত্র মামলার আসামী হয়, আর সেই মামলার কোনো অগ্রগতিই বা নেই কেনো? গণমাধ্যমের এমন খবর নজরে আসে হাইকোর্টের। রাবেয়া খাতুনকে আনা হয় উচ্চ আদালতে। এ বিষয়ে আগামী বুধবারের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে ডিএমপি কমিশনারকে।

শুনানি শেষে রিটকারী আইনজীবী আশরাফুল আলম নোবেল বলেন, ২০১৯ সালের এপ্রিলের ২০ তারিখে মামলাটি স্থগিত হয়েছে। হাইকোর্ট এটি স্থগিত করে। এরপরও সংশ্লিষ্ট আদালত মালাটি চালিয়ে যাচ্ছে। সেজন্য আগামী বুধবারে (৩ জুলাই) সংশ্লিষ্ট জজকে হাইকোর্ট বিচারক ডেকেছেন। কেন উচ্চ আদালতের আদেশকে অবজ্ঞা করে মামলা চালাচ্ছেন। পাশাপাশি পুলিশ কমিশনার সাহেব আগামী বুধবারে জানাবেন জুলহাস বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে।

তিনি আরও বলেন, রাবেয়া খাতুনকে মামলাটির আর হাজিরা দিতে হবে না বলে জানিয়েছেন আদালত।

রাবেয়ার বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা প্রসঙ্গে হাইকোর্ট বলেছেন, নিম্নআদালত মামলাটি ইচ্ছাকৃতভাবে অবহেলা করেছে। আদালত বিস্ময় প্রকাশ করেন, ১০৪ বছরের নারীকে হাজিরা দিতে বছরের পর পর কোর্টে আসা নিয়েও।

নিউজটির ভিডিও-

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

চ্যানেল 24 বিশেষ খবর