channel 24

সর্বশেষ

  • ঢাবি ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ...

  • পলাতক ৭৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

  • রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফেরত না পাঠালে নিরাপত্তা ও...

  • স্থিতিশীলতা ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা প্রধানমন্ত্রীর

  • ঋণখেলাপিদের সুবিধা দিতে পাগল হয়ে গেছে...

  • বাংলাদেশ ব্যাংক: হাইকোর্ট; প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে আদেশ কাল

  • ১৯৮৯ সালের হত্যা মামলা: ৩ মাসের মধ্যে নিস্পত্তির নির্দেশ হাইকোর্টের...

  • ২৮ বছর পর মামলা সচল হওয়ায় সাগেরা মোর্শেদের পরিবারের সন্তুষ্টি

  • ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী...

  • অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল ও জব্দে দুদকের চিঠি

  • দুই সাংবাদিককে ভিন্ন ভাষায় তলবকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে...

  • বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ কমিশনের; চিঠির অবমাননাকর অংশ...

  • বাদ না দিলে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা গণমাধ্যমকর্মীদের

  • আসামে নাগরিকত্ব ইস্যু: খসড়া তালিকা থেকে ১ লাখ ২ হাজার...

  • ৪৬২ জনকে বাদ দিয়ে নতুন তালিকা প্রকাশ

"আমরা শিক্ষার জন্য ক্ষুধার্ত"


১৬ বছরের যুবক কেফায়েত উল্লাহ। বসবাস কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। লেখাপড়া করতো স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে। কিন্তু বিদ্যালয় থেকে তাকে সহ তার অনেক সহপাঠীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কারণ তারা রোহিঙ্গা। এমন তথ্য দিয়ে খবর প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।

রয়টার্সের সাথে আলাপকালে কেফায়েত জানায়, 'একদিন আমাদের স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমাদের ডাকে। এরপর প্রধান শিক্ষক বলেন, আমাদের কাছে আদেশ এসেছে, রোহিঙ্গা শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার অধিকার এখানে নেই। এরপর আমরা কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে যাই।'

২০১৭ সালের শেষের দিকে প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে নির্যাতিত হয়ে বাংলাদেশে আসে। এর আগেও অনেক রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসে। কেফায়েতের মতো অনেকের জন্ম হয়েছে বাংলাদেশের ভূখন্ডে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের অনেক দেশ শরনার্থীদের যোগ্যতা অর্জনের জন্য স্থানীয় স্কুলে লেখাপড়া করার সুযোগ দেয়। কিন্তু বাংলাদেশ অধিকাংশ রোহিঙ্গাদের শরণার্থী হিসেবে মর্যাদা দেয় নি। এমনকি ক্যাম্পে জন্ম নেয়া শিশুদের জন্ম সনদ দেয়া হয়না ফলে তাদের আইনী অবস্থান এখনও অপরিস্কার।

নাম প্রকাশ করার শর্তে ২১ বছরের এক যুবক জানান, অনেক রোহিঙ্গা শিক্ষার্থীরা হতাশ। নাম প্রকাশ না করার কারণ হিসেবে যুবকটি জানান, সে বাংলাদেশি হিসেবে লেখাপড়া করছে। সে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চায়।

যুবকটি জানান, "হ্যাঁ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা আমাদের পরিচয় দেই। আমরা কিছু শিক্ষা পেয়েছি। কিন্তু এখন আমরা কোথায় যাবো?বিশ্বের এ বিষয়ে ভাবা উচিত। আমরা যদি শিক্ষা না পাই তাহলে আমাদের ভবিষ্যত শেষ হয়ে যাবে। আমরা শিক্ষার জন্য ক্ষুধার্ত"

লেদা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক বলছিলেন, "এরকম সিদ্ধান্তে আমরা দুঃখিত এবং হতাশ। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “ সরকার রোহিঙ্গাদের সবই দিচ্ছে, তাহলে শিক্ষা নয় কেন"?

গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, "রোহিঙ্গাদের স্কুলে যাওয়া আমাদের দেশ এবং জনগণের জন্য নিরাপদ নয়”
রিফিউজি রিলিফ অ্যান্ড রিপ্যাটরিয়েশন কমিশনের প্রধান আবুল কালাম জানান, ”পরিস্থিতি বর্ণনা করে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।"

চিঠিতে আবুল কালাম উল্লেখ করেছেন, "রোহিঙ্গা শিশুদের বিদ্যালয়ে শিক্ষা গ্রহণের হার বেড়ে গেছে। কিছু অসৎ জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় রোহিঙ্গারা ভুয়া বাংলাদেশী পরিচয়পত্র গ্রহণ করেছে। তাই পরামর্শ দেয়া হয়েছে,কোন রোহিঙ্গা শিশু যেন ক্যাম্পের বাইরে বা বাংলাদেশের অন্য কোথাও শিক্ষা নিতে না পারে সেজন্য যেন কঠোরভাবে তা মনিটর করা হয়"।

প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, "তাদের বাংলাদেশের স্কুলে ভর্তির সুযোগ দেয়া হবে না, কারণ তারা বাংলাদেশের নাগরিক না"

তবুও অনেক রোহিঙ্গা শিশু, মিয়ানমারা থেকে আনা বা স্থানীয় বাজার থেকে কেনা বইয়ের মাধ্যমে গোপনে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে।

ইউনিসেফের কমিউনিকেশন অফিসার ক্যারেন রেইডি জানান, "যদি আমরা এইসব শিশুদের শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ দিতে না পারি, তাহলে হয়তো  আমরা শিশুদের একটি প্রজন্ম হারিয়ে যেতে দেখবো"।

১৫ বছরের যুবক মোহাম্মদ ইউনুস জানায়, স্কুলের খরচ মেটানোর জন্য সে ইটভাটায় কাজ করে। কারণ তার পরিবার সেই খরচ বহন করতে পারে না।
আর কেফায়েত উল্লাহর স্বপ্ন গ্রাজুয়েশন শেষ করে সে সাংবাদিক হয়ে তার সম্প্রদায়কে সাহায্য করার।

সে জানায়, "যখন দেখি স্থানীয়রা সুন্দর, নিরিবিলি পরিবেশে লেখাপড়া করছে তখন আমাদের দুঃখ হয়। এখন আমরা সবসময় চিন্তিত থাকি, আমরা কী করবো।?"

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

চ্যানেল 24 বিশেষ খবর