channel 24

সর্বশেষ

  • সরকারের পতন ঘটাতে দুর্নীতিবাজদের ঐক্য হয়েছে...

  • ইন্টারনেটে অপপ্রচার রোধ ও শিশুদের সুরক্ষায় ডিজিটাল আইন...

  • যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

  • জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত টিকবে না: ওবায়দুল কাদের

  • মালদ্বীপের নির্বাচনে জয়ের দাবি বিরোধী প্রার্থী ইব্রাহিম সলিহর

  • এশিয়া কাপ: আফগানিস্তানকে ৩ রানে হারিয়ে...

  • ফাইনালের সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখলো বাংলাদেশ...

  • স্কোর: বাংলাদেশ ২৪৯/৭, আফগানিস্তান ২৪৬/৭...

  • মোস্তাফিজের ওভার ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট: মাহমুদুল্লাহ

ওরা ফিরেছে ঠিকই কিন্তু ঘরে ফেরা হলো না...

ওরা ফিরেছে ঠিকই কিন্তু ঘরে ফেরা হলো না...

"এ লাশ আমরা রাখবো কোথায় ? তেমন যোগ্য সমাধি কই ? ...তাইতো রাখি না এ লাশ/আজ মাটিতে পাহাড়ে কিম্বা সাগরে, হৃদয়ে হৃদয়ে দিয়েছি ঠাঁই।" সুদূর পানে চেয়ে থেকে অবশেষে অপেক্ষার অবসান ঘটলো স্বজনদের। চোখের পানি শুকিয়ে গেছে কিন্তু বুক ভরা কান্নার জোয়ারে এখনও ভাটা পড়েনি।  কথা দিয়েছিল তারা ফিরে আসবে, এসেছে ঠিকই কিন্তু ঘরে ফিরতে তারা ফেরেনি। ফিরেছে চিরনিদ্রায় শায়িত হওয়ার ঘরে, স্বজনদের ছেড়ে না ফেরার দেশে।

কি করে সইবে স্বামী-সন্তান হারানো বেদনার শোক, কি করে শান্ত হবে মা! বোন কি পারবে ভাই হারানো শোকের বেদনা ভুলে থাকতে হয়তো স্মৃতিই একমাত্র সম্বল বেঁচে থাকার। যে স্মৃতি বারবার কাঁদিয়ে তুলবে স্বজনদের আবারা সে স্মৃতিকে আঁকড়িয়েই বেঁচে থাকবে পরিবার-পরিজন।
নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ২৩ বাংলাদেশির জানাজা শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। বিকেল ৪টার পর ২৩ বাংলাদেশির মরদেহ নিয়ে ঢাকায় পৌছায় বিমানবাহিনীর বিশেষ ফ্লাইট। বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ২৮ মিনিটে ত্রিভুবন বিমানবন্দর ছাড়ে মরদেহবাহী বিমানটি। হয়রত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর, মরদেহগুলো নিয়ে যাওয়া হয় আর্মি স্টেডিয়ামে। এর আগে নেপালে বাংলাদেশ দূতাবাসের আঙিনায় হয় প্রথম জানাজা।
নিহতদের স্বজনদের আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠে ঢাকা আর্মি স্টেডিয়াম। গোটা স্টেডিয়াম যেন শোকের আবহে ঢেকে গেছে। এর আগে প্রিয়জনের লাশ নিতে স্টেডিয়ামের ৪নং গেইট দিয়ে একে একে সবাই ভেতরে প্রবেশ করেন।
ছেলের লাশের অপেক্ষায় মা নূরজাহান বেগম নির্মম প্রতীক্ষায় অপেক্ষা করেন আর্মি স্টেডিয়ামে। মায়ের পাশে বসে ছোট বোন লাকি শুধু কান্না করতে থাকে। নূরজাহার বেগম আবার বলতে থাকেন, ‘ছেলে আমারে বলেছিল- মা প্লেন থেকে নেমেই ফোন দেব। কতো খুশি নিয়ে গেছিল। আর ফোন দিলো না।’ বাকরুদ্ধ নিহত ইউএস-বাংলার ক্রেবিন ক্রু খাজা হোসেনের খালা সূরাইয়া মনিরা ও শাশুড়ি ফৌজিয়া রহমান। নিহতের স্ত্রী সাদিয়া রহমানও ইউএস-বাংলায় চাকরি করেন। তাদের বিয়ে হয়েছিল এক বছর দুই মাস আগে।
মায়ের মরদেহ নিতে বড় বোন কাকনের সঙ্গে আর্মি স্টেডিয়ামে এসেছিলেন উত্তরা উইমেন্স মেডিকেল কলেজে পড়ুয়া কণা।আখতার বেগমের মরদেহ গ্রহণের জন্য তার দুই মেয়ে কাকন ও কনা এবং নিহতের খালাতো বোন মিনারা বেগম ও ভাগ্নে সাকিব আসেন। তারা জানিয়েছেন, মরদেহ রাজশাহী উপশহরে নিয়ে যাওয়া হবে আজই। আখতার বেগমের মরদেহ আসলেও স্বামী নজরুলের মরদেহ কবে আসবে কেউ এখনো নিশ্চিত নন।
নিহত ক্রেবিন ক্রু শারমিন আক্তার নাবিলার লাশ নিতে আসেন স্বামী হাসান ইমাম এবং মেয়ে হিয়া (২)। এদিকে, শোকে কাতর নিহত ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানের পরিবারের অনেকেই অসুস্থ থাকায় পরিবারের পক্ষ থেকে আসেন বেয়াই মো. আলীউর রহমান শেখ।
নিহত ফার্স্ট অফিসার পৃথূল রমীদের মা মাহফুজা, বাবা কাজল, বড় খালা ফিরোজা আক্তার বেলা ২টা ৪৫ মিনিটে আর্মি স্টেডিয়ামে আসেন। তারা সবাই কাঁদছিলেন। আহত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আলিমুন্নাহার অ্যানিকে তার স্বামী-সন্তানের মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে। আহত মেহেদীই অ্যানিকে জানিয়েছেন যে, এই পৃথিবীতে তার স্বামী প্রিয়ক ও সন্তান তামাররা প্রিয়ন্ময়ী আর নেই।এরই মধ্যে অ্যানিকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ করে ইউএস-বাংলার ব্যবস্থাপনায় শ্রীপুরে স্বামীর বাড়িতে নেওয়া হচ্ছে। মেহেদীও রিলিজ নিয়ে প্রিয়কের জানাজায় থাকবেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ ৬৭ জন যাত্রী ও চার ক্রু নিয়ে বিধ্বস্ত হয় ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজটি। এতে মারা যান ৫১ জন। বিমানে বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন ৩৬ জন। নিহতদের মধ্যে ২৬ জন বাংলাদেশি যাদের ২৩ জনের লাশ শনাক্ত করা হয়েছে।

এলএইচএ

সর্বশেষ সংবাদ

জাতীয় খবর