channel 24

সর্বশেষ

  • নুসরাত হত্যা: সাইবার ট্রাইব্যুনালে ফেনীর সোনাগাজীর সাবেক ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে রায় ২৮ নভেম্বর

  • সড়ক পরিবহন আইন স্থগিতসহ ৯ দফা দাবিতে...

  • কর্মবিরতিতে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ...

  • দেশের বিভিন্ন স্থানে পণ্যবাহী যান ও বাস চলাচল বন্ধ...

  • জনগণকে দুর্ভোগে না ফেলতে মালিক-শ্রমিককে সেতুমন্ত্রীর অনুরোধ

  • রাত ৯টায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিকদের বৈঠক

  • নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের আগের কমিটিই বহাল...

  • সভাপতি খায়রুল আনম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম

  • ১৫৯ দুর্নীতিবাজের তালিকা করেছে দুদক: চেয়ারম্যান

  • বিমানে আমদানি করা পেঁয়াজের প্রথম চালান রাত ১টায় ও...

  • কাল সন্ধ্যা ৬টায় দ্বিতীয় চালান আসবে: বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

  • সাগিরা মোর্শেদ হত্যার রহস্য উন্মোচনের ফলে বেশি সচেতন যেনো...

  • আইনের ফাঁকফোকরে প্রকৃত আসামিরা পার না পায়: হাইকোর্ট

  • এখন থেকে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট স্পষ্ট করে লেখার নির্দেশ

  • ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ট্রেন দুর্ঘটনায় ৩টি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিল...

  • তূর্ণা এক্সপ্রেস সিগন্যাল অমান্য করায় দুর্ঘটনা...

  • চালক, সহকারী চালক ও গার্ডের দায়িত্বে গাফিলতি ছিল: রেলমন্ত্রী

  • অবৈধ সম্পদ অর্জন: ঢাকা দক্ষিণের বহিষ্কৃত ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর...

  • মমিনুল হক সাঈদের বিরুদ্ধের দুদকের মামলা

যশোরের যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ৫ আসামিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

যশোরের যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ৫ আসামিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

১৯৯৫ সালে যশোর জেলার কেশবপুরের মহাদেবপুরে গ্রামের আব্দুস সামাদ হত্যা মামলায় পাঁচ আসামির জামিন বাতিল করে তাদেরকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে আপিল আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার ১৪ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেব নাথ। আর বাদি পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনিরুজ্জামান রুবেল। অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এএম আমিন উদ্দিন।

এর আগে ১৯৯৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি রাত ১টার সময় যশোর জেলার কেশবপুরের মহাদেবপুরে গ্রামের আব্দুস সামাদের ঘরে অস্ত্রসহ একদল দুর্বৃত্ত প্রবেশ করে এবং সামাদকে ঘর থেকে জোর করে ধরে নিয়ে যায়। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজির মো. নজর আলী শেখ তার ছেলে সামাদকে মমিনপুর রেজিস্ট্রার বেসরকারী প্রাইমারি বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন। সামাদের উভয় পায়ের হাটুর নীচে গুরুতর কাটা, রক্তাক্ত জখম এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত অবস্থায় তাকে কেশবপুর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু সামাদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে খুলনার ২৫০ বেড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর ঘটনার পরদিন (২ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৬টা ২০ মিনিটে তাকে খুলনার ২৫০ বেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৭ টা ২০মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

এরপর ৩ ফেব্রুয়ারি সামাদের বাবা বাদি হয়ে সাতজনকে আসামী করে কেশবপুর থানায় হত্যা মামলায় দায়ের করেন। এ অবস্থায় মামলা তুলে নিতে বাদির পরিবারের ওপর সন্ত্রাসীরা অস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে তারা ফিরে যায়। এদিকে মামলাটির তদন্ত শেষে ১৯৯৬ সালের ২৩ জানুয়ারি ১২জনকে অভিযুক্ত করে পুলিশ চার্জসিট দাখিল করে।

আসামীরা হলেন- রফিক ওরফে রফিকুল ইসলাম, আলতাফ হোসেন, সিরাজুল ইসলাম, দ্বীন মোহাম্মাদ ওরপে দ্বীনু ওরফে মিন্টু, শাহাদাৎ ওরফে মেঝ, রাজ্জাক, তোরাপ, জাকির হোসেন, সোহরাব হোসেন, রাজ্জাক কাগুচি, রফিক এবং আমজাদ হোসেন। তবে মামলা চলাকালে আসামী আমজাদের মৃত্যুর কারণে তার নাম চার্জসিট থেকে বাদ পড়ে।

মামলার পর এজাহারভূক্ত আসামী আলতাফ ও রফিকুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে তারা ৯ মাস জেল খেটে জামিনে বের হন। এছাড়াও পরবর্তীতে আসামী রাজ্জাক, সোহরাব, জাকির এবং তোরাব জামিন নিয়ে বেরিয়ে যান। তবে এরপর থেকে আসামী আলতাফ, রফিকুল, রাজ্জাক, সোহরাব, জাকির এবং তোরাবকে আর জেল খাটতে হয়নি। পাশাপাশি আলতাফ কারাগারে থাকাবস্থায় মারা যায়।  

মামলাটির ওপর যশোরের দ্রুত বিচার ট্রাইব্রুনালে বিচার শুরু হলেও পরবর্তীতে মামলাটি খুলনার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর ২০১৫ সালের ১৯ আগষ্ট অভিযুক্ত ১১ আসামী যাবজ্জীবন সাজা দিয়ে ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে মামলা তুলে নিতে বাদির পরিবারের ওপর হামলার ঘটনায় প্রত্যেক আসামিকে ১০ বছরের সাজা ও জরিমানা দেওয়া হয়।

পরে ওই একই বছর রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা হাইকোর্টে আপিল আবেদন করে আসামি রফিকুল, রাজ্জাক, সোহরাব, জাকির এবং তোরাব আপিল শুনানি চলাকালে ২০১৬ সালে হাইকোর্ট থেকে জালিয়াতি করে জামিন নেয়। জামিনের নথিতে তারা ৯ মাসের জেলের থাকার তথ্য ৯ বছর দেখিয়ে জামিন পান। পরে ২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ওই জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে আসামিদের জামিন স্থগিত করে আসামিদেরকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।

আপিলের আদেশের পর আসামিরা আত্মসমর্পণ করলে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারিক আদালত। এরপর দীর্ঘ ২ বছর ৫ মাস কারাভোগের পর আসামিরা পুনরায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন জানায় এবং চলতি বছরের ১৫ মে জামিন পেয়ে তারা কারামুক্তি পান। তবে ওই আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল দায়ের করে। যার ধারাবাহিকতায় মামলাটি আজ সোমবার (১৪ অক্টোবর) আপিল বিভাগের শুনানি শেষে ওই পাঁচ আসামীকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

জাতীয় খবর