channel 24

সর্বশেষ

  • ছাত্রলীগের এমন ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য লজ্জার: ভিপি নুর

  • জঙ্গিবাদ-মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

  • শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শোভন-রাব্বানীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: কাদের

  • ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি নষ্ট হলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায়...

  • পুনরুদ্ধারে কাজ করার অঙ্গীকার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের

  • আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের জন্য সতর্কবার্তা: শেখ সেলিম

  • ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এমন সিদ্ধান্ত: ঢাবি উপাচার্য

  • পুলিশের সেবা নিতে গিয়ে কেউ যেন হয়রানি না হয়: ডিএমপি কমিশনার

  • রংপুর-৩ উপনির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে আওয়ামী লীগের সাথে...

  • আলোচনা হয়েছে, কালকের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: রাঙ্গা

  • ৩ মাসের মধ্যে পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত হতে হবে সব বিমা কোম্পানিকে...

  • অর্থমন্ত্রীর সাথে বৈঠক শেষে আইডিআরএ চেয়ারম্যান

  • ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ নিয়ে টিআইবির বিবৃতিতে কোম্পানির ভাবমূর্তি...

  • ক্ষুণ্ন হওয়ায় প্রতিবাদ জানিয়েছে বেক্সিমকো গ্রুপ

মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো সিন্ডিকেটের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করলে ব্যবস্থা

মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো সিন্ডিকেটের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করলে ব্যবস্থা

মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোতে অনিয়ম ও ১০ এজেন্সির সিন্ডিকেট তদন্তে গঠিত কমিটি প্রতিবেদন দাখিল না করলে ওই কমিটির বিরুদ্ধেই আদালত অবমাননার দায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করেছেন হাইকোর্ট। বুধবার (২১আগস্ট) বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষে প্রতিবেদন দাখিলে সময় চাওয়ায় ওই কমিটিকে পুনরায় আগামী ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেধে দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তদন্তের বিষয়ে কমিটিকে পাঁচটি কার্যপরিধি ঠিক করে দিয়েছেন আদালত।

এসব কার্যপরিধি হলো-

এক. সিন্ডিকেটটা চালু ছিল ১০ মার্চ ২০১৭ থেকে ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত। এই দুই বছরে কোন কোন রিকুটিং এজেন্সী শ্রমিক পাঠাতে পেরেছে সে তথ্য  দিতে হবে। এতে যদি দেখা যায় এই ১০ এজেন্সি ছাড়া অন্য কেউ  শ্রমিক পাঠাতে পারেনি, তাহলেই প্রমাণ হয়ে যায় তাদের একটি সিন্ডেকেট ছিল।
দুই. মাইগ্রেশন খরচ বাবদ প্রতিজন শ্রমিক থেকে কত টাকা উত্তোলন করা হয়েছে, তা জানাতে হবে। কেননা, মাইগ্রেশন খরচ সরকার নির্দিষ্ট করে দিয়েছে ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা করে। তারপর এটাকে একটু বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করে নির্ধারণ করে সার্ভিস চার্জ নিতে পারে। কিন্তু দেখা গেছে প্রত্যেক শ্রমিক থেকে চার লাখ করে নেওয়া হয়েছে। এ দুই বছরে বিদেশে গেছে ২ লাখ ৮৫ হাজার শ্রমিক। তার মানে কয়েক’শ কোটি টাকার ব্যাপার। তাই তদন্ত করে দেখতে হবে, এজেন্সিগুলো কত টাকা নিয়েছে।   
তিন. মালয়েশিয়া থেকে যখন সিদ্ধান্ত আসলো, ১০ এজেন্সির মাধ্যমেই শ্রমিক পাঠাতে হবে। তখন এখান থেকে প্রতিবাদ করা হয়েছে। ওই প্রতিবাদে সম্মুখিন হয়ে এই মামলার ১১ নম্বর বিবাদী নুর আলী, যিনি এই সিন্ডিকেটের মাষ্টারমাইন্ড, তিনি সরকারের কাছে একটা প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তাতে তিনি বলেছিলেন, ‘এক একজন সিন্ডিকেটের আরও ২০ জন করে রিক্রুটিং এজেন্সী অন্তর্ভূক্ত তাতে ২’শ জন হয়ে যায়। এই ২’ শ জনের মাধ্যমে আমরা পাঠাবো। ধীরে ধীরে সবাইকে তাতে যুক্ত করবো।’ তখন সরকার বিষয়টি অনুমোদন করেছে। কিন্তু আমরা (হাইকোর্ট) এটাকে তদন্ত করে দেখতে বলেছি যে, সব এজেন্সি মিয়ে শ্রমিক পাঠিয়েছিল, নাকি শুধু ১০ এজেন্সি পাঠিয়েছে।
চার. মালেয়শিয়ায় বা বিদেশে শ্রমিক পাঠাতে হলে শ্রমিকদের মেডিকেল পরীক্ষা করতে হয়। মালেয়শিয়ার জন্য ২৬টি মেডিকেল সেন্টার খোলা হয়েছিল। এই ২৬ টির মধ্যে ৮টি ছিল সিন্ডিকেটের। দেখা গেছে, যেখানে মেডিকেল পরীক্ষার ফি ছিল ১ হাজার ৫’শ থেকে ২ হাজার টাকা। কিন্তু তারা নিয়েছে ৫ হাজার ৩’শ টাকা করে। পাঠিয়েছে ৩ লাখ শ্রমিকের মত। আর মেডিকেল পরীক্ষা করানো হয়েছে ৫ লাখ শ্রমিকের। যারা যেতে পারেননি তাদের মেডিকেল পরীক্ষার টাকা ফেরতও দেওয়া হয়নি। এই মেডিকেল সেন্টারের মাধ্যমে কত টাকা আদায় হয়েছে, সেটাও তদন্ত করে আদালতকে জানাতে হবে।
পাঁচ. জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ইসরাফিল আলমসহ চারজন সংসদ সদস্য সিন্ডিকেটের বিষয়ে তদন্ত করতে মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন। বেসরকারি চ্যানেল এটিএন বাংলার একটি টকশো’তে ইসরাফিল আলম বলেছিলেন, ‘বিষয়টির তদন্ত হওয়া উচিৎ।’ তাই শ্রমিকদের থেকে যে টাকা নেয়া হয়েছে সেটা পাঁচার হয়েছে কিনা, তাও তদন্ত করে জানাতে হবে।

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশিদ আলম খান। আর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষে ছিলেন শেখ জালাল উদ্দিন।

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যকার চুক্তি উপেক্ষা করে ১০ টি এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বঞ্চিত অপর ১০টি এজেন্সী হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। পরে ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো নিয়ন্ত্রণকারী ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেট ও এসব সিন্ডিকেটের অনিয়ম তদন্তে আন্ত:মন্ত্রণালয় কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। সেই আদেশের ধারাবাহিকতায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করে। এরপর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে কয়েকদফা সময় আবেদন করায় আদালত অসেন্তাষ প্রকাশ করেন এবং পুনরায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে আগামী ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেধে দেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

জাতীয় খবর