channel 24

ব্রেকিং নিউজ

  • চ্যারিটেবল মামলা: খালেদা জিয়াকে জামিন দেননি আপিল বিভাগ...

  • মেডিকেল রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে উন্নত চিকিৎসার নির্দেশ

তারেকের এপিএসের সমর্থনে ফার্স্ট ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান হলেন আ.লীগ এমপি

তারেকের এপিএসের সমর্থনে ফার্স্ট ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান হলেন আ.লীগ এমপি

অর্থের কাছে বিকিয়ে যায় রাজনৈতিক মতাদর্শ। এর প্রমাণ দিলেন আওয়ামী লীগের এমপি ইসরাফিল আলম। মুদ্রাপাচারের দায়ে জেলে থাকা তারেক রহমানের এপিএস মিয়া নুরুদ্দিন অপুর পরিবর্তে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। আর যে কোম্পানির মনোনয়ন নিয়ে চেয়ারম্যান হয়েছেন, সে কোম্পানিও মুদ্রাপাচারের দায়ে অভিযুক্ত। এমন কোম্পানির মনোনয়ন নিয়ে কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হওয়ার বিষয়টিকে অনৈতিক ও অগ্রহণযোগ্য মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নির্বাচনের কয়েকদিন আগে ২৫ ডিসেম্বর মতিঝিলের একটি অফিস থেকে পাচারের জন্য রাখা টাকাসহ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। এরপর এই মামলার অভিযুক্ত মূল হোতা তারেক রহমানের এপিএস মিয়া নূরুদ্দিন অপুকে গ্রেপ্তার করে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ঘটনার সূত্র ধরে, অপারচর ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লি, আলফাবেট এসোসিয়েট লি, রাকাস ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লি, কাসরাজ ট্রেডিং লি. নামে চারটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্দে মুদ্রাপাচারের প্রমাণ পায় সিআইডি। নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের নামে এ চারটি প্রতিষ্ঠান খুলে হাজার কোটি টাকা লোপাটের উদ্দেশ্যে ফাস্ট ফাইন্যান্সের প্রায় ২৭ শতাংশ শেয়ার কিনে চেয়ারম্যান হন নুরুদ্দিন অপু। তাকে গ্রেপ্তারের আটকের পর এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের এক খুঁজে বেড়াচ্ছে সিআইডি।

কিন্তু, বিস্ময়কর হলো, গত ২৯ জুন নুরুদ্দিন অপুর আলফাবেট এসোসিয়েট লি. থেকে মনোনয়ন নিয়ে ফাস্ট ফাইন্যান্সের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক চলাকালে হাজির হন আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত এমপি ইসরাফিল আলম। ঐ বৈঠকেই তিনি প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এসময় সাথে ছিলেন নুরুদ্দিন অপুর কাসরাজ লি. থেকে মনোনয়ন পাওয়া আওয়ামী লীগ কর্মী আমাতুন নূর ও অপারচর ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল থেকে মনোনয় পাওয়া আরেক আওয়ামী লীগ কর্মী মাসুদ হোসেন খান।

এই ঘটনার বিষয়ে বহু চেষ্টা করেও ইসরাফিল আলমের সাথে যোগযোগ করা যায়নি। তার মুঠোফোন নম্বরে ফোন করা হলেও ব্যক্তিগত সহকারী পরে কথা বলবেন জানান। তবে, এরপর আর তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মনোনীত পরিচালক পরির্তন করতে পর্ষদ সভার আগে নোটিশ দেয়া ও এজেন্ডাভুক্ত করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এক্ষেত্রে মানা হয়নি কিছুই। আরো বিস্ময়কর হলো পর্ষদ সভায় কেন্দ্রিয় ব্যাংকের একজন পর্যবেক্ষক থাকলেও তিনি কোন আপত্তি তুলেননি। তবে, পর্যবেক্ষকের প্রতিবেদন ও পর্ষদ সভার বিবরণী পেলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কেন্দ্রিয় ব্যাংক।

একজন মুদ্রাপাচারকারীর পক্ষে তার প্রতিষ্ঠান রক্ষায় সরকারের একজন এমপি জড়িয়ে পড়ার বিষয়টিকে অর্থের কাছে রাজনৈতিক আদর্শের পরাজয় হিসেবেই দেখছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ।

তার মতে, আইন সবার জন্য সমান। তাই ইসরাফিল আলমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

একই সাথে ইসরাফিল আলমকেও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগের পরামর্শও দেন তিনি।

বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে-

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

জাতীয় খবর