channel 24

ব্রেকিং নিউজ

  • অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসা: রাজধানীর গুলশানে ঢাকা মহানগর...

  • দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ ভূঁইয়া আটক...

  • মতিঝিলে ফকিরেরপুল ইয়ংমেনস ক্লাবে অভিযানে আটক ১৪২

বালিশ নিয়ে তুলকালাম: তদন্ত রিপোর্ট চেয়েছেন হাইকোর্ট

বালিশ নিয়ে তুলকালাম: তদন্ত রিপোর্ট চেয়েছেন হাইকোর্ট

পাবনার রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প এলাকায়কর্মকর্তা কর্মচারিদের থাকার জন্য গ্রীনসিটি আবাসন পল্লীর বিছানা, বালিশ, আসবার পত্র অস্বাভাবিক মূল্যে কেনা ও তা ভবনে তোলার ঘটনায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালতের অবকাশকালীন ছুটির পর অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের মাধ্যমে এ প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। একইসঙ্গে এ সংক্রান্ত রিটের শুনানি মুলতবি রেখেছেন আদালত।

বিচারপতি তারিক উল হাকিম ওবিচারপতি মো. সরওয়ারদীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সোমবার (২০ মে) এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে বলেন, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের দূনীর্তির যে অভিযোগ উঠেছে তা তদন্তের জন্য ইতিমধ্যেই দুইটি কমিটি গঠন করেছে সরকার। তাই এ মূহুর্তে আদালতের হস্তক্ষেপ করা ঠিক হবে না।

এর আগে গতকাল ১৯ মে পাবনার রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প এলাকায়কর্মকর্তা কর্মচারিদের থাকার জন্য গ্রীনসিটি আবাসন পল্লীর বিছানা, বালিশ, আসবার পত্র অস্বাভাবিক মূল্যে কেনা ও তা ভবনে তোলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী  ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হকসুমন জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি করেন।

রিটে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সচিব,পাবনার গণপূর্ত অফিসার সহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।

ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেন, সম্প্রতি রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রপ্রকল্পের গ্রীনসিটি আবাসন পল্লীর ভবনের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা ও তা ভবনেতোলায় অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে গত ১৬ মে দৈনিক ‘দেশ রূপান্তর’সহ ভিভিন্নপত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

রিটকারী আইনজীবী জানান, ওইসব প্রতিবেদন সংযুক্ত করে এই ঘটনার বিচার বিভাগীয়তদন্ত চেয়ে এ আবেদনটি করা হয়েছে।

সুমন বলেন, 'ওই প্রকল্পের জন্য গ্রীন সিটি আবাসন পল্লীর কর্মকর্তা কর্মচারিদেরথাকার জন্য যে ভবন সেখানকার ফার্নিচার থেকে শুরু করে অন্যান্য জিনিস অস্বাভাবিকদামে কেনা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তা ভবনে তোলায়ও  অস্বাভাবিক খরচ দেখানো হয়েছে। রিটআবেদনে বিষয়টি উল্লেখ করে বলেছি,  এটি তদন্ত করার জন্য একটি বিচার বিভাগীয়তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চেয়েছি।'

পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকল্পের কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের থাকার জন্য গ্রীনসিটি আবাসন পল্লীতে ২০ তলা ১১টি ও ১৬ তলা ৮টি ভবন হচ্ছে। এরই মধ্যে ২০ তলাআটটি ও ১৬ তলা একটি ভবন নির্মাণ সম্পনন্ন হয়েছে। ২০ তলা ভবনের প্রতিটি ফ্ল্যাটেরজন্য প্রতিটি বালিশ কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে পাঁচ হাজার ৯৫৭ টাকা। আর ভবনে বালিশওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা। প্রতিটি রেফ্রিজারেটর কেনার খরচ দেখানো হয়েছে৯৪ হাজার ২৫০ টাকা। রেফ্রিজারেটর ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ৫২১টাকা। একেকটি খাট কেনা দেখানো হয়েছে ৪৩ হাজার ৩৫৭ টাকা। আর খাট ওপরে ওঠাতেখরচ দেখানো হয়েছে ১০ হাজার ৭৭৩ টাকা।

প্রতিটি টেলিভিশন কেনায় খরচ দেখানো হয়েছে ৮৬ হাজার ৯৭০ টাকা। আর টেলিভিশন ওপরেওঠাতে দেখানো হয়েছে ৭ হাজার ৬৩৮ টাকার খরচ। বিছানার খরচ ৫ হাজার ৯৮৬ টাকাদেখানো হয়েছে। তা ভবনে তুলতে খরচ দেখানো হয়েছে ৯৩১ টাকা। প্রতিটি ওয়ারড্রোবকিনতে খরচ দেখানো হয়েছে ৫৯ হাজার ৮৫৮ টাকা। আর তা ওঠাতে দেখানো হয়েছে ১৭হাজার ৪৯৯ টাকার খরচ। এরকম বৈদ্যুতিক চুলা, বৈদুতিক কেটলি, রুম পরিস্কারের মেশিন, ইলেকট্রিক আয়রন, মাইক্রোওয়েভ ইত্যাদি কেনাকাটা ও ভবনে তুলতে অস্বাভাবিক খরচদেখানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

জাতীয় খবর