channel 24

সর্বশেষ

  • মানিকগঞ্জের পুখুরিয়ায় বাসচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা-ছেলে নিহত

  • ভোটারদের কেন্দ্রে আনার দায়িত্ব প্রার্থীর, ইসির নয়: সিইসি

  • উন্নয়ন করতে গিয়ে গরিবের ক্ষতি করা যাবে না: প্রধানমন্ত্রী

  • দায়িত্ব নিচ্ছেন ডাকসুর ভিপি নুর; অফিস বুঝে পেতে চিঠি...

  • ডাকসু নির্বাচন সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তে কমিটি; ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন

  • ঢাকায় পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যর্থতা স্বীকার ডিএমপি কমিশনারের

  • ছাত্র আন্দোলনে উসকানি বিএনপির দেউলিয়াত্বের প্রমাণ: হানিফ

  • পদ্মাসেতুর জাজিরা প্রান্তে আজ বসানো হচ্ছে না অষ্টম স্প্যান

  • এমপিওভুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে...

  • সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছে শিক্ষকরা

  • সড়ক দুর্ঘটনায় সিরাজগঞ্জ, খুলনা ও নরসিংদীতে ৩ স্কুলশিক্ষার্থী নিহত

  • রাজধানীর কল্যাণপুরে তেলবাহী লরির ধাক্কায় মাদ্রাসা শিক্ষক নিহত

‘যৌন হয়রানি মামলা তুলে নিতে এম এম সেকান্দারের লোকজন হুমকি দিচ্ছে’

‘যৌন হয়রানি মামলা তুলে নিতে এম এম সেকান্দারের লোকজন হুমকি দিচ্ছে’

যৌন হয়রানির মামলার আসামি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একুশে টিভি’র বরখাস্ত হওয়া প্রধান প্রতিবেদক এম এম সেকান্দার জামিন পাওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন মামলার বাদী নারী সংবাদ কর্মী মিনালা দিবা। সেকান্দার মুক্তি পাওয়ার কয়েকদিন আগে থেকেই ফোনে মামলা প্রত্যাহারের হুমকি পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

নিজ প্রতিষ্ঠানের নারী সহকর্মীর মামলায় প্রায় দেড় মাস কারাভোগ করে গত বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) জামিনে মুক্তি পান সেকান্দার। ৩ ফেব্রুয়ারি (রোববার) দিবাগত গভীর রাতে র‍্যাব-২ এর একটি টিম রাজধানীর বনশ্রীর বাসা থেকে সেকান্দারকে গ্রেফতার করে। ৪ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) হাতিরঝিল থানায় হস্তান্তর করা হয় তাকে। নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ১০ ধারায় দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে সেকান্দারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।

সেকান্দার গ্রেফতার হওয়ার পর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে টানা কয়েকদিন ধরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে গণমাধ্যম কর্মী ও নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়। একই সাথে চাকরির ফাঁদে ফেলে নারী সহকর্মীদের যৌন হয়রানি করছে যারা তাদের আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর আহবানও জানানো হয়।
 
মিনালা দিবা জানান, 'বেশ কয়েকদিন ধরে অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে বলা হচ্ছে আপনি তো একজন নারী একটু সাবধানে থাকবেন। মামলা তুলে নেন। মামলা চালু থাকলে আপনার ক্ষতি হবে'।

তিনি বলেন, 'যৌন নির্যাতনকারী জামিন পাওয়ার পর থেকেই ভয়ে আছি। সে অনেক ক্ষমতাবান। তার সঙ্গীসাথীরাও ক্ষমতাশালী'।

নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জানিয়ে মিনালা দিবা বলেন, 'আমার অফিসে নিরাপত্তা আছে। কিন্তু বাসায় আমি নিরাপদ নই। প্রশাসন থেকে আশ্বাস পেলে ভালো হতো।'

গত ৪ ফেব্রুয়ারি ফেসবুকে দিবা লেখেন, '#Metoo অনেক স্বপ্ন নিয়ে আমি মিডিয়ায় এসেছিলাম বড় একজন সাংবাদিক হব বলে। ভেবেছিলাম আকাশের তারা হবো। যুক্ত হয়েছিলাম দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান একুশে টেলিভিশনের সাথে। শুরুতে বেশ ভালই কাটছিল। সহকর্মী বড় ভাই ও আপুরা যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে। কিন্তু এই স্বপ্নের প্লাটফর্মে পা দিয়ে কিছুদিনের মধ্যে পরিচিত হলাম মুখোশের অন্তরালে থাকা সমাজের এক নরপশুর সাথে। দুঃখজনক হলেও সত্য যাকে আমি বড় ভাই হিসেবে শ্রদ্ধা করতাম সে আমার কাছে উন্মুক্ত করলেন তার নোংরা রুচির নানা আবদারের ঝুলি। সেই নরপশুর নাম এম এম সেকান্দার। একুশে টেলিভিশনের বর্তমান চীফ রিপোর্টার ও প্ল্যানিং এডিটর'।

দিনের পর দিন তার অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ আচরণের শিকার হতে হয়েছে এবং এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলেও দাবি করেন মিনালা দিবা। তিনি লেখেন, 'আমি চেয়েছিলাম সাংবাদিক হতে, মানুষের পাশে দাঁড়াতে। কিন্তু আজ আমাকে এ ধরনের প্রতিকূলতার মধ্যে পড়তে হবে তা ভাবতেও পারিনি। আমি চাই আমার মতো কোন মেয়েকে যেন এমন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে না হয়। আমি বিচার চাই'।


মামলা করার আগে মিনালা দিবা ইটিভি কর্তৃপক্ষের কাছে 'এম এম সেকেন্দার কর্তৃক নারী সহকর্মীদের যৌন হয়রানি’ শিরোনামে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। ২৮ জানুয়ারি চ্যানেলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর তিন পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে হয়রানির পুরো ঘটনা তিনি ব্যাখ্যা করেছেন।

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রিপোর্টিং কোর্স করার সময় সেকান্দারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেখানে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। তার মাধ্যমেই ইটিভিতে চাকরি পান। চাকরি পাওয়ার পর থেকেই সেকান্দার তাকে বিভিন্ন সময় যৌন হয়রানি করেছেন।

অভিযোগপত্রে তিনি লিখেছেন, নবীন গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে কাজ শেখার শুরুটা বেশ ভালোই ছিল। কিছুদিন যেতেই বুঝতে পরলাম চিফ রিপোর্টার এম এম সেকেন্দার আমার প্রতি লালসাপূর্ণ, অস্বাভাবিক। মাঝেমধ্যেই তিনি আকার ইঙ্গিতে কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাব দিতে থাকেন। আপত্তিকর ভিডিও ক্লিপ ও বিভিন্ন ধরনের লিংক তিনি আমাকে মোবাইল ও সোশ্যাল মিডিয়ায় পাঠাতে থাকেন। এক সময় সরাসরি তিনি বলেই ফেলেন তার মনের কথা- ‘তোমাকে এখানে চাকরি দিয়েছি। স্ক্রিন টেস্ট করেছি কিন্তু স্ক্রিনের পরীক্ষা তো দাওনি।’

এর প্রতিবাদ করায় দু’একজন সহকর্মীকে দিয়ে ফাঁদে ফেলা হয় বলেও অভিযোগ করেন মিনালা। তিনি লিখেছেন, উনি আমাকে সাবধান করে এও বলেন যে, ‘কোথাও বিচার দিয়ে লাভ হবে না। কারণ আমি ইটিভির চেয়ারম্যানের পালিতপুত্র। এখানে সিইও, হেড অব নিউজ, চিফ নিউজ এডিটর সবই আমার পোষা। অতএব বি কেয়ারফুল। তোমার বিচার দিতে যতো না দেরি তার চেয়ে আমাকে লাথি দিতে আমার কম সময় লাগবে।’

অভিযোগপত্রে মিনালা আরো লিখেছেন, এম এম সেকেন্দার তাকে বলেছেন, ‘এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যবসায় নাম লিখিয়েছ, ক্যারিয়ার গড়তে কারো না কারো কাছে তোমাকে উদার হতেই হবে। তাহলে আমার কাছে আসতে বা আমার একান্ত চাওয়াটা পূরণ করতে সমস্যা কোথায়?’

তার দাবি, কোনও কারণ ছাড়াই তাকে অনেক রাত পর্যন্ত অফিসে বসিয়ে রাখা হতো। এরপর সেকান্দার তার নিজের গাড়িতে করে তাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে গাড়িতেও যৌন হয়রানি করতেন।

মিনালা দিবার অভিযোগ, ‘বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার টেলিভিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কথা বলতে গেলেও তিনি তাদের কাছে পাত্তা পাননি।’

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

জাতীয় খবর