channel 24

সর্বশেষ

  • মানিকগঞ্জের পুখুরিয়ায় বাসচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা-ছেলে নিহত

  • ভোটারদের কেন্দ্রে আনার দায়িত্ব প্রার্থীর, ইসির নয়: সিইসি

  • উন্নয়ন করতে গিয়ে গরিবের ক্ষতি করা যাবে না: প্রধানমন্ত্রী

  • দায়িত্ব নিচ্ছেন ডাকসুর ভিপি নুর; অফিস বুঝে পেতে চিঠি...

  • ডাকসু নির্বাচন সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তে কমিটি; ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন

  • ঢাকায় পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যর্থতা স্বীকার ডিএমপি কমিশনারের

  • ছাত্র আন্দোলনে উসকানি বিএনপির দেউলিয়াত্বের প্রমাণ: হানিফ

  • পদ্মাসেতুর জাজিরা প্রান্তে আজ বসানো হচ্ছে না অষ্টম স্প্যান

  • এমপিওভুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে...

  • সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছে শিক্ষকরা

  • সড়ক দুর্ঘটনায় সিরাজগঞ্জ, খুলনা ও নরসিংদীতে ৩ স্কুলশিক্ষার্থী নিহত

  • রাজধানীর কল্যাণপুরে তেলবাহী লরির ধাক্কায় মাদ্রাসা শিক্ষক নিহত

বিমান ছিনতাই চেষ্টা: কে এই পলাশ?

বিমান ছিনতাই চেষ্টা: কে এই পলাশ?

বাংলাদেশ বিমানের এয়ারবাস ময়ুরপঙ্খী ছিনতাই চেষ্টাকারী যুবকের পরিচয় শেষপর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঘটনার পরপর তার নাম মাহাদি বলা হলেও, র‍্যাব নিশ্চিত করেছে, তার নাম পলাশ আহমেদ। সে তাদের তালিকাভুক্ত অপরাধী।

তার একটি বর্ণনাও দিয়েছে এলিটফোর্স। তাদের দাবি, নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার পিরিজপুর ইউনিয়নের দুধঘাটা গ্রামের পিয়ার জাহান সরদারের ছেলে পলাশ ২০১২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি কাঁচপুরে ঘটা একটি অপহরণ মামলার আসামী।

আরও: বিমান ছিনতাইকারীর কাছে ছিল খেলনা পিস্তল: সিএমপি কমিশনার

আমু ও দিলীপ বড়ুয়ার পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

অবশেষে কি মিলল প্লাস্টিক ধ্বংসের উপায়?

সন্ধ্যায় ব্যয়ামের অভ্যেস খিদে কমিয়ে ঝরাবে ওজন

সেই মামলায় গ্রেফতার হয় ২৮ মার্চ। তখন তার বয়স ছিল ১৮ বছর ১৫ দিন। বর্তমানে তা ২৪ বছর ১১ মাস ১১ দিন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা তাহেরপুর মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস।

পলাশ যে বিমানটি ছিনতাইয়ের কথা বলেছিল সেটিতে উঠেছে অভ্যন্তরীণ যাত্রী হিসেবে। অর্থাৎ তার গন্তব্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম। তার আসন নম্বর ছিল-17A। যদিও বিমানটি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দুবাই যাওয়ার কথা ছিল। মূলত ফিঙ্গারপ্রিন্ট মিলিয়ে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার কথা বলেছে র‍্যাব।

তার আসল নাম পলাশ হলেও ফেসবুকে একাউন্ট আছে আরেক নামে। মাহিবি জাহান। সেখানে তার পেশা উল্লেখ আছে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের আইটি বিজনেস এনালিস্ট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ছাত্র বলেও নিজেকে দাবি করেছে। আর বসবাস যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো।

তার নিউজফিডজুড়ে বেশিরভাগই চিত্রনায়িকা শিমলার সাথে ছবি। যেখানে শিমলাকে বলা হয়েছে স্ত্রী হিসেবে। অবশ্য তার বাবা পিয়ার জাহানও গণমাধ্যমকে বলেছে, দশমাস আগে শিমলাকে বিয়ে করেছে তার ছেলে। বিস্তারিত না জানলেও তার ধারণা, দুজনের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। কয়েকদিন আগে সবশেষ বাড়ি গিয়েছিল পলাশ। তখন মাকে জানিয়েছে, সে দুবাই বেড়াতে যাবে। তাছাড়া অনেকদিন আগেই বখে যায় ছেলে। তাই তাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন তিনি। নিয়মিত পরিবারের সাথেও যোগাযোগও ছিলনা। যাতায়ত ছিল সিনেমাপাড়ায়। দুয়েকটি শর্টফিল্মও বানায়। কবর নামে একটি সিনেমার প্রযোজকও ছিল।  

ফেসবুকের কয়েকটি ছবিতে তাকে অস্ত্র হাতে নেশা করতেও দেখা গেছে। একই ভাবে জাতীয় দলের এক তারকা ক্রিকেটার, সঙ্গীত তারকা এবং ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতার সাথেও তাকে দেখা যায়। আছে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের ছবিও।  

ফেসবুকে সবশেষ পোস্ট

ফেসবুকে রোববার দুপুর ১ টা ৩ মিনিটে ছিল তার সর্বশেষ পোস্ট। যেখানে সে লিখেছে-ঘৃণা নি:শ্বাসে প্রশ্বাসে। ঠিক তার ঘন্টা চারেক পরই বিমান ছিনতাই চেষ্টার কথা জানায় পলাশ। তখন সে জানিয়েছিল, স্ত্রীর সাথে তার ঝামেলা আছে। তাই এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বা তার নিজের পরিবারের কারও সাথে কথা বলতে চায়।

চট্টগ্রামে অভিযানে থাকা এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তার সাথে বিয়ে সংক্রান্ত কিছু কাগজপত্র পাওয়া গেছে। তাই তাদের ধারণা, অভিনেত্রী শিমলার সাথে বিয়ে সংক্রান্ত ঝামেলায় হতাশাগ্রস্ত ছিল এই যুবক।  

আরও কিছু তথ্য

ছিনতাইয়ের চেষ্টা হওয়া বিমানটির কয়েকজন যাত্রীর তথ্য, পলাশ বিমানটি ছিনতাইয়ের কথা প্রথমে জানায় ক্রুদের। এরপর সে ককপিটে ঢোকার চেষ্টা করে। সে শরীরে বোমা বেধে রাখার কথাও জানায়। তবে, লক্ষ্যণীয় হচ্ছে, সে বারবার পাইলটের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলেও কাউকে জিম্মি করেনি। বিশেষ করে, সচরাচর দেখা যায়, ছিনতাইকারীরা প্রথমে যাত্রী বা ক্রুদের জিম্মি করে ফেলে। এখানে তা হয়নি। ফলে, বিমানটি চট্টগ্রামে অবতরণের পর অনায়াসে যাত্রীদের নামিয়ে আনা হয়েছে। এরপর ৮ মিনিটের কমান্ডো অপারেশনে ধরাশায়ী হয়, দেশে প্রথম বিমান ছিনতাই করে ইতিহাস গড়তে যাওয়া এই যুবক।  

কিছু সংশয়, কিছু প্রশ্ন

র‍্যাব এবং পুলিশ বলছে, পলাশের পিস্তলটি আসল নয়, নকল। সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান বলেছেন, তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হয়েছে। কয়েকজন যাত্রী জানিয়েছেন, তারা বিমানের ভিতরে গুলির শব্দ শুনেছেন।

প্রশ্ন উঠেছে, তার পিস্তলটি নকল হলেও সেটি নিয়ে বিমানবন্দরে ঢুকলো কিভাবে? যদি নকলই হয় তাহলে যাত্রীরা গুলির আওয়াজ পেলেন কোত্থেকে? আবার সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষই বলছে, বিমানে কোন গুলির চিহ্ন নেই। যদিও অভিযানে অংশ নেয়া কর্মকর্তারা বলছেন, ট্রমা থেকে যাত্রীদের এটা মনে হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

জাতীয় খবর