channel 24

সর্বশেষ

  • সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ স্লোগানে...

  • আওয়ামী লীগের ইশতেহারে ২১ দফা অঙ্গীকার...

  • অতীতের ভুলভ্রান্তি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীর

  • বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করলেন মির্জা ফখরুল...

  • জাতীয় সংসদে উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি...

  • রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য আনাসহ ১৯ প্রতিশ্রুতি

  • নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না খালেদা জিয়া...

  • প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে রিট তৃতীয় বেঞ্চেও খারিজ

  • জামায়াতের ২২ নেতার প্রার্থিতা বাতিলে হাইকোর্টের রুল...

  • তিন কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে ইসিকে নির্দেশ

অর্থ পাচারের মামলায় এবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যানের জামিন বহাল

অর্থ পাচারের মামলায় এবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যানের জামিন বহাল

অর্থ পাচারের মামলায় এবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এম ওয়াহিদুল হক ও কর্মকর্তা আবু হেনা মোস্তফা কামালকে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।

তবে আদালত পর‌্যবেক্ষণে বলেছেন, বিশেষ আইনের এ ধরনের অর্থ পাচারের মামলায় জামিন আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতকে সতর্ক থেকে সঠিকভাবে বিচারিক মনন প্রয়োগ করতে হবে। যেহেতু বিষয়টির সঙ্গে অর্থ পাচারের মত গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ জড়িত।

এ ধরনের মামলায় জামিন আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটকে মামলার এজাহার, বাদি-বিবাদি পক্ষের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিসমূহ যথাযথভাবে পর‌্যালোচনা করতে বলা হয়েছে পর্যবেক্ষণে।

ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান এম ওয়াহিদুল হক ও কর্মকর্তা আবু হেনা মোস্তফা কামালকে জামিন বাতিল প্রশ্নে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন হাই কোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে এ রায় দেয়।

বেঞ্চের দ্বিতীয় বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এ রায়ের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।

তবে কনিষ্ঠ বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল রুল যথাযথ ঘোষণা করে এ দুজনকে দেওয়া নিম্ন আদালতের জামিন বাতিল করে দেন।

তিনি তার আদেশে বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অর্থ পাচার আিইনের ২(ষ) (জ)(৯) (১০) ও ১৩ ধারা পর‌্যালোচনা করলে এটা কাচের মত পরিষ্কার যে, ম্যাজিস্ট্রেট এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে তাদের জামিন দিয়েছেন।

যদিও এ ধরনের মামলায় জামিন ও রিমান্ডসহ সকল কিছুর এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে বিশেষ আদালতকে। তাই আইনের বিধান ও কালাকানুন ভঙ্গ করে স্বেচ্ছাচারমূলকভাবে জামিন দেওয়ায় তা বাতিল করা হল।

একই সঙ্গে আসামিদের এক মাসের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পনের নির্দেশ দেওয়া হল। যদি আত্মসমর্পন না করে, তাহলে আসামিদের গ্রেপ্তার করতে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হল।

রায়ে তিনি বলেন, দুর্নীতি অর্থনীতি ও সমাজ ব্যবস্থাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে দেশের মানুষ সোচ্চার। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সার্বভৌম সংসদও বেশকিছু আইনও প্রণয়ন করেছে। তাই দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সরকারকে যেমন কঠোর হতে হবে, তেমনি আদালতকেও সতর্ক থাকতে হবে। এই সতর্কবার্তা দিতে হবে যে, সকলেই দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে। এবং সকলে মিলে দুর্নীতিকে কঠোরভাবে মোকাবেলা করতে হবে।

আদালতে দুদকের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন খুরশীদ আলম খান। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আসাদুর রউফ ও শেখ বাহারুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ।

রায়ের পর খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, 'এ মামলাটির মূল বিবেচ্য বিষয় ছিল, অর্থ পাচারের মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জামিন দেওয়ার এখতিয়ার আছে কিনা। সে প্রশ্নে একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ রায় হয়েছে। ফৌজদারী কার‌্যবিধি ও অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন পর‌্যলোচনা করে দুজন বিচারপতি বলেছেন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের এখতিয়ার আছে।

তবে এ দুই বিচারপতি জামিন দেওয়ার প্রশ্নে বেশ কিছু পর‌্যবেক্ষণ দিয়েছেন। আর্থিক অপরাধ, হোয়াই কালার ক্রাইমের মত বিষয়গুলো অবশ্যই বিবেচনায় নিয়ে জামিন দিতে হবে। জামিন চাইলেন আর দিয়ে দিলেন, এমনটা যেন না হয়। তবে জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ার আছে। সেক্ষেত্রে যথাযথ বিচারকি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।'

খুরশীদ আলম খান বলেন, 'যে বিচারপতি দ্বিমত পোষণ করে রায় দিয়েছেন, তিনি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন রায় পর‌্যলোচনা করে ম্যাজিস্ট্রেটের জমিন দেওয়ার ক্ষমতা বা এখতিয়ার নাই বলে মত দিয়েছেন।

বৃহত্তর বেঞ্চের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের এই রায়ের ফলে এটাই দাড়াল যে, অর্থ পাচারের মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট আসামিকে জমিন দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। তবে মামলার গুনাগুন দেখে অত্যন্ত সতর্কভাবে জামিন দিতে হবে।

আর এ মামলার দুই আসামির জামিন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগেও বহাল থাকায় তাদের জামিন বহাল থাকছে। তাছাড়া এ মামলার অন্য সব আসামিরাও জামিনে আছেন।'

এ রায়ের বিরুদ্ধে দুদক আপিল করবে কিনা জানতে চাইলে রায়টি দেখে এ বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান এ আইনজীবী।  

এবি ব্যাংকের ১৬৫ কোটি টাকা পাচারের অভিযেগে চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধান ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান এম ওয়াহিদুল হক ও কর্মকর্তা আবু হেনা মোস্তফা কামালসহ আট জনকে আসামি করে মতিঝিল থানায় মুদ্রাপাচার আইনের এ মামলা করেন।

ওইদিন বিকেলে মৎস্যভবন এলাকা থেকে ওয়াহিদুল হক, আবু হেনা মোস্তফা কামালসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে ওইদিনই দু’জনকে জামিন দিয়ে একজন রিমান্ডে পাঠায় আদালত।

মামলায় বলা হয়, আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে ভুয়া অফশোর কোম্পানিতে বিনিয়োগের নামে ১৬৫ কোটি টাকা এবি ব্যাংকের চট্টগ্রাম ইপিজেড শাখা থেকে দুবাইয়ে পাচার করে এবং পরে তা আত্মসাৎ করে। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে অর্থ পাচারের ওই ঘটনা ঘটে।

তিন আসামিকে গ্রেপ্তারের পর দুই ঘণ্টার মাথায় দুই আসামিকে এভাবে জামিন দেওয়ায় তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।  

বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় এ জামিনের প্রকাশিত খবর আদালতের নজরে আনেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।  

পরে এ ঘটনাকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে এই দুই আসামির জামিন বাতিলের আর্জি জানালে ৩১ জানুয়ারি হাই কোর্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে রুল জারি করে।

২১ মার্চ সে রুলের শুনানি শেষ হলে আদালত ৪ এপ্রিল রায় ঘোষণার জন্য রাখে।

কিন্তু ওইদিন রায় না দিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাই কোর্ট বেঞ্চ বৃহত্তর বেঞ্চ রুল শুনানির প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠিয়ে দেয়।

আদালত সেদিন বলে, বিশেষ আইনের মামলায় বিচার শুরুর আগে ম্যাজিস্ট্রেটের জামিন দেওয়ার এখতিয়ার আছে কিনা, এ বিষয়ে হাই কোর্টের একাধিক বেঞ্চের একাধিক মত রয়েছে।

তাই জামিনের বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ার আগে আইনি বিষয়টি নিষ্পত্তি জরুরি। এটি নিষ্পত্তির জন্য হাই কোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করা যেতে পারে। এ কারণে মামলার নথি প্রধান বিচারপতির।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

জাতীয় খবর