channel 24

সর্বশেষ

  • ঈদের আগের ৭ ও পরের ৫ দিন সিএনজি ও পেট্রোল পাম্প ২৪ ঘণ্টা খোলা...

  • আগের ৩ দিন ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান চলাচল বন্ধ থাকবে: কাদের

  • ভারতের লোকসভা নির্বাচন: বিজেপি জোট এগিয়ে ৩২৬ আসনে...

  • কংগ্রেস জোট ১০৫ আসনে; পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-তৃণমূল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই...

  • বসিরহাটে এগিয়ে নুসরাত; যাদবপুরে মিমি চক্রবর্তী; ঘাটালে এগিয়ে দেব

সমুদ্রের গভীরে ডাক বাক্স!

সমুদ্রের গভীরে ডাক বাক্স!

ই-মেল, মেসেজ, হোয়াট্‌স্যাপ-এর যুগে চিঠি লেখার অভ্যাসটাই হারিয়ে গিয়েছে। তাইতো দিন দিন পোস্ট অফিস কমে যাচ্ছে। এখন আর দেখা যায় না লাল রঙের, গোল মাথাওয়ালা ছোট থামের মতো দেখতে সেই ডাক বাক্স যা একটা সময় শহরের অলিতে গলিতে দেখা যেত।

এমন পরিস্থিতিতেও একটি লাল, গোল মাথাওয়া ডাক বাক্স হয়ে উঠেছে হাজার হাজার পর্যটকদের মূল আকর্ষণ। হাজার হাজার চিঠি নিয়মিত জমা পড়ে এই ডাক বাক্সে। এই বাক্সে চিঠি ফেলতে দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটকদরা ছুটে আসেন প্রতি বছর। তাও আবার সমুদ্রের গভীরে গিয়ে তাদের চিঠি ফেলতে হয় ডাক বাক্সে।

অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন কোথায় আছে এমন ডাক বাক্স? সমুদ্রের গভীরে ওই ডাক বাক্স পৌঁছাল কী করে? গভীর সমুদ্রে ডুব দিয়ে কারা ওখানে চিঠি ফেলতে যান? কে বা কারা ওই চিঠি সেখান থেকে তুলে আনেন? আর যদি কেউ চিঠিগুলো তুলেও আনেন, তাহলে সেগুলো কি আর চিঠি বলে চেনা যায়? সত্যি এমন ডাক বাক্স আছে? ইত্যাদি নানা প্রশ্ন।

এই ডাক বাক্স রয়েছে জাপানের সুসামি শহরে। প্রতি বছর কয়েকশো পর্যটক ‘ডিপ সি ডাইভিং’ করতে গিয়ে এই ডাক বাক্সে চিঠি ফেলে আসেন।

জাপানের সুসামি শহরে মূলত মৎস্যজীবী মানুষের বাস। প্রায় পাঁচ হাজার মৎস্যজীবী এখানে বসবাস করেন। ১৯৯৯ সালের এপ্রিলে এখানে ‘কুমানোকোদো’ ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে পর্যটন প্রসারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আর সেই সময় এক প্রবীণ পোস্টমাস্টারের পরামর্শ অনুযায়ী ‘ডিপ সি ডাইভিং’-এর পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়। আর এরই প্রধান অঙ্গ হিসেবে সমুদ্রের গভীরে বসানো হয় এই ‘আন্ডার ওয়াটার পোস্টবক্স’।
 
সমুদ্র সৈকত থেকে ১০ মিটার দূরে এবং ৩২ ফুট গভীরে বসানো হয় ডাক বাক্সটি। ১৯৯৯ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৬ হাজার চিঠি পড়েছে এই ডাক বাক্সে।

ভাবছেন, জলের তলায় চিঠিপত্র টিকবে কী করে? স্থানীয় দোকানে পাওয়া যায় বিশেষ ওয়াটারপ্রুফ কাগজ, খাম আর বিশেষ মার্কার পেন।

মার্কার পেন দিয়ে ওয়াটারপ্রুফ কাগজে চিঠি লিখে জলের নীচে গিয়ে নিজেদের চিঠি পোস্ট করেন পর্যটকরা। নির্দিষ্ট সময় পর পর পোস্টাল ডাইভাররা সেই চিঠিগুলি তুলে এনে  সেগুলিকে পাঠিয়ে দেন স্থানীয় ডাকঘরে। এর মোটামুটি এক সপ্তাহের মধ্যে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয় চিঠিগুলিকে।

ছয় মাস পর পর ডাকবাক্সটি তুলে আনা হয় রং আর মেরামতির জন্য। দু’টি ডাকবাস্ক এ ভাবে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে রেখে আসা হয় সমুদ্রের তলায়। ২০০২ সালে ‘ডিপেস্ট আন্ডার ওয়াটার পোস্টবক্স’ হিসেবে গিনেস রেকর্ডের বইয়ে জায়গা করে নেয় সুসামির এই ডাক বাক্সটি। তবে সুসামির এই ডাক বাক্সটিই বিশ্বের একমাত্র ‘আন্ডার ওয়াটার পোস্টবক্স’ নয়। প্রশান্ত মহাসাগরের ভানুয়াতো দ্বীপরাষ্ট্রে পর্যটক টানতে প্রথম শুরু হয়েছিল আন্ডারওয়াটার পোস্ট বক্স। তারই অনুকরণে জাপানের সুসামিতে তৈরি হয় এই ‘আন্ডার ওয়াটার পোস্টবক্স’।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

লাইফস্টাইল খবর