channel 24

সর্বশেষ

  • যুবলীগ নেতা খালেদ ভূঁইয়া দল থেকে বহিষ্কার

  • যুবলীগ নেতা জি কে শামীম ৭ দেহরক্ষীসহ আটক, ২শ' কোটি টাকার এফডিআর, নগদ টাকা, অস্ত্র উদ্ধার

  • অপকর্মে জড়িত নেতারা নজরদারিতে: কাদের

  • দুর্নীতিতে দেশ ছেয়ে গেছে, আর এতে মদদ দিচ্ছে সরকার: ফখরুল

  • ঢাবি শিক্ষার্থীরা পরবর্তীতে কোন প্রক্রিয়ায় ভর্তি হবেন, সে সিদ্ধান্ত অনুষদের: উপাচার্য

  • ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার

  • রাজশাহীর বড়াল নদী থেকে ৪ জনের গলিত মরদেহ উদ্ধার

  • ত্রিদেশীয় সিরিজে আজ মুখোমুখি আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ে

  • যুবলীগ নেতা খালেদের মামলা তদন্ত করবে ডিবি উত্তর

আসামে নাগরিক তালিকায় বাদ পড়া ১১ লাখই হিন্দু

আসামে নাগরিক তালিকায় বাদ পড়া ১১ লাখই হিন্দু

ভারতের আসামে নাগরিক তালিকায় বাদ পড়া ১৯ লাখের মধ্যে ১১ লাখই হিন্দু। এ দাবি স্থানীয় পত্রিকা যুগসঙ্খের। এতে ক্ষুদ্ধ আর সংশয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। ভুলে ভরা এনআরসি সংশোধনের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিজেপি। কংগ্রেসসহ বিরোধীদের অভিযোগ, মানুষকে বিভ্রান্ত করে মেরুকরণের রাজনীতি বজায় রাখতে চায় বিজেপি। তবে মোদি সরকার আশ্বস্ত করেছে, বাদ পড়াদের আটক করা হবে না। রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার থেকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তাও পাবেন তারা।

যে রাষ্ট্রে জন্ম, সে ভূমি যখন কাউকে রাষ্ট্রহীন করে, এর চেয়ে অবর্ণনীয় কষ্ট হয়ত আর কিছু নেই।

যেমন মৃণাল রায়। বাবা-মা এবং স্ত্রীর নাম থাকলেও কী কারণে তার নাম বাদ পড়েছে, তা নিয়ে সংশয়ে পুলিশ কর্মকর্তার এই ছেলে।

মৃণাল রায় বলেন, আমার বাবা পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। এই মাটিতেই আমার জন্ম। এখন আমি কী করবো, কিছুই বুঝতে পারছি না।

মৃণালের মতো চূড়ান্ত নাগরিকত্ব তালিকায় ঠাই হয়নি অনেক হিন্দু পরিবারেরই। ১৯ লাখের মধ্যে বেশিরভাগই সনাতন ধর্মাবলম্বী। আছেন ভারতের সাবেক প্রেসিডেন্ট ফখরুদ্দিনের পরিবারও।

আসামের নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন ১১-১২ লাখ হিন্দু, ৬ লাখ মুসলিম ও  ২ লাখ বিহারি, গোর্খা, নেপালি ও লেপচা।

সাবেক প্রেসিডেন্ট ফখরুদ্দিনের পরিবারের এক সদস্য বলেন, 'দাদার নাম ভুল আশায় এনআরসি অফিসে গিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি। আমাদের পরিবারের ৪ জনই বাদ পড়েছেন তালিকা থেকে। এটা অন্যায়'।

দুলাল নামের একজন বলেন, বাবা এখনও জানেন না তালিকায় তার নাম নেই। তিনি হার্টের রোগি। মাকেও জানাইনি।

আসামে প্রেস মালিক সঞ্জীব রায় বলেন, 'ব্যবসায়ী হিসেবে খুবই চিন্তিত আমি। কারণ তালিকায় আমার নাম নেই।একজন ভারতীয় হিসেবে এটা খুবই কষ্টের।'

১৯ লাখের মধ্যে বেশিরভাগই সনাতন ধর্মাবলম্বী। এ অবস্থায় কংগ্রেসসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, মানুষকে বিভ্রান্ত করে মেরুকরণের রাজনীতি বজায় রাখতে চায় বিজেপি।

এআইএমআইএম প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি বলেন, 'আমার মনে হয়েছিলো, মুসলিমদের বাদ দিয়ে কেবল অমুসলিমদেরই নাগরিকত্ব তালিকায় ঠাই দেবে, কিন্তু আসামে বিজেপির সে আশা এখন গুড়েবালিতে পরিণত হয়েছে।'

শুধু বিরোধীরা নয়, ক্ষুদ্ধ খোদ বিজেপি নেতাকর্মিরাও।

অল আসাম স্টুডেন্ট ইউনিয়নের প্রধান উপদেষ্টা সমুজ্জল ভট্টাচার্য্য বলেন, এ তালিকায় আমরা খুশি না। এই তালিকা পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না। এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাবো আমরা।

আসামের হেড অব পাবলিক ওয়ার্কস অভিজিৎ শর্মা বলেন, এটি শুধু মানবাধিকার ইস্যু নয়, পুরো দেশের জন্যই নিরাপত্তা হুমকি।
 
এনআরসি থেকে বাদ পড়াদের নিজেদের ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণে বিদেশি ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে হবে। এছাড়া বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ছাড়াও হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টেও আপিল করতে পারবেন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মুখপাত্র রাভিশ কুমার বলেন, ১৯৭১ এর মার্চের আগে থেকে যারা আসামে ছিলেন এমন কাউকে বাদ দেয়া হয়নি। সরকার কাউকে রাষ্ট্রহীন করেনি। যারা তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন, বিদেশি ট্রাইব্যুনালে তারা ১২০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন, এক্ষেত্রে রাষ্ট্রহীনদের সব আইনি সহায়তা দেবে সরকার।

বর্তমানে প্রায় ৩শ' বিদেশি ট্রাইব্যুনাল রয়েছে আসামে। সরকারও আরও এক হাজার ট্রাইব্যুনাল তৈরির সিদ্বান্ত নিয়েছে।

এই তালিকা আসামের সাধারণ মানুষকেই ক্ষুদ্ধ করেছে। যারা সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন অথবা যারা মনে করেছিলো আসাম অবৈধ অভিবাসী মুক্ত হবে, সকলেই কাঁদছেন।

প্রসঙ্গত, শনিবার সকালে প্রকাশ করা এনআরসির চূড়ান্ত তালিকায় আসামের বাসিন্দা ভারতীয় নাগরিকদের চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রায় ১৯ লক্ষ মানুষ এই তালিকার বাইরে থাকায় তাদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত। ২৫ শে মার্চ ১৯৭১ এর আগে যারা আসামে ঢুকেছিলো তাদেরই অবৈধ বলছে ভারত সরকার। এরআগে ১৯৫১ সালেও এমন নাগরিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিলো।

নিউজটির ভিডিও-

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আন্তর্জাতিক খবর