channel 24

সর্বশেষ

  • নয়াপল্টনে বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া...

  • ইটপাটকেল-টিয়ারশেল নিক্ষেপ; পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও আগুন

রোহিঙ্গা ইস্যুতে কথা রাখেনি মিয়ানমার: জাতিসংঘ মহাসচিব

রোহিঙ্গা ইস্যুতে কথা রাখেনি মিয়ানমার: জাতিসংঘ মহাসচিব

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে রাখাইনে নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে কথা রাখেনি মিয়ানমার। তাই স্বেচ্ছায় রোহিঙ্গাদের বাড়ি ফেরা সম্ভব নয়। নিরাপত্তা পরিষদে দেয়া ভাষণে এ কথা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব, অ্যান্তেনিও গুতেরেস। রোহিঙ্গা ইস্যুতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নিরাপত্তা পরিষদকে এক হওয়ার আহ্বানও জানান, জাতিসংঘ মহাসচিব। জাতিসংঘের তদন্ত রিপোর্টের সাথে যুক্তরাষ্ট্রও একমত।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢলের এক বছর উপলক্ষ্যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বরাবরের মতোই সমালোচনার ঝড় ওঠে মিয়ানমার সরকার ও সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে। মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস, জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদন উল্লেখ করে বলেন, রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন ও মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগ প্রমাণিত। জানান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে রাখাইনে এখনও উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি মিয়ানমার।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, 'রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য রাখাইনে এখনো নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়নি। রাখাইনের সার্বিক পরিবেশ উন্নত করার কথা রাখেনি মিয়ানমার। তাই যথাযথ পরিবেশ তৈরি না হলে স্বেচ্ছায় রোহিঙ্গাদের বাড়ি ফেরা সম্ভব নয়।'

মহাসচিব ও জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনের সাথে একমত যুক্তরাষ্ট্রও। জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি বলেন, এক হাজারের বেশি রোহিঙ্গার উপর করা আলাদা তদন্ত প্রতিবেদনেও একই তথ্য এসেছে।

তবে ব্যতিক্রমী ভূমিকায় নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী দুই সদস্য চীন ও রাশিয়া। বৈঠকে এই দুই দেশ, রোহিঙ্গা সংকটকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের দ্বিপক্ষীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে। রাশিয়ার দাবি, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আনান কমিশনের ৮৮টি সুপারিশের মধ্যে ৮১টি এরইমধ্যে বাস্তবায়ন হয়েছে কিংবা বাস্তবায়নের পথে। চীনের দাবি, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বকে প্রত্যাবাসনের পূর্বশর্ত নয় বরং প্রত্যাবাসনের মধ্য দিয়েই সমাধান খুঁজতে হবে।

জাতিসংঘে চীনের রাষ্ট্রদূতের উ হাইতাও বলেন, 'রোহিঙ্গা সংকট মিয়ানমার ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সংকট। উভয় দেশকে সমানভাবে সহায়তা করতে প্রস্তুত চীন। এখনই মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোন ধরণের রেজ্যুলেশন পাসের দরকার নেই। কারণ এধরণের রেজ্যুলেশন পরিস্থিতিকে আরো সংকটময় করে তুলতে পারে।'

রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, 'আমরা মনে করি, শুধু দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার মাধ্যমেই রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান সম্ভব। সেক্ষেত্রে দুদেশকেই সংযত আচরণ করতে হবে। মিয়ানমারের ওপর অকারণে আন্তর্জাতিক চাপ দেয়াটা ঠিক হবে না।'

তবে বৈঠকে, ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশের প্রসংশা করেন যুক্তরাষ্ট্রসহ নিরাপত্তা পরিষদের বেশিরভাগ সদস্য। অভিযোগ করেন, রোহিঙ্গা সংকটকে নিরাপত্তা পরিষদে এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাওয়ায় জটিলতা তৈরি করবে।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আন্তর্জাতিক খবর