channel 24

সর্বশেষ

  • বঙ্গমাতা গোল্ড কাপের জন্য প্রস্তুত বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম

  • মুজিব বর্ষ পালনে প্রতিটি জেলায় কমিটি গঠন করা হবে: হানিফ

  • তারেক ও জোবাইদার বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অনুসন্ধান চলছে: খুরশীদ আলম

  • দেশের বাইরে ক্যাম্প করতে আগ্রহী বাফুফে টেকনিক্যাল ডিরেক্টর

  • আবহনীকে হারিয়ে আগামীকাল শিরোপা নির্ধারন করতে চাই রুপগঞ্জ

  • তারেক ও জোবাইদার ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ হাস্যকর: ফখরুল

  • ঘর সাজানোর অন্যতম উপাদান হতে পারে ক্যাকটাস

  • চট্টগ্রামে কাঁকড়া খেয়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

  • 'শিক্ষাখাতে সংকট নিরসনে চট্টগ্রামে আরও ১৫টি সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন'

  • বিভিন্ন বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ায় মানব পাচার কমেছে

  • বান্দরবানে নদী পূজা অনুষ্ঠিত

  • টেকনাফে দু'গ্রুপের গোলাগুলিতে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত

  • বান্দরবানে চলছে পার্বত্য নদী রক্ষা সম্মেলন

  • সৌদিতে ২১ ও ২২ নভেম্বর জি-20 সম্মেলন

  • একাত্তরে গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য সবাইকে ভুমিকা রাখতে হবে

অরিত্রীর মৃত্যু ও আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা

অরিত্রীর মৃত্যু ও আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা

একজন শিশু তার পরিবার ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ থেকে শিক্ষা গ্রহন করে। পরবর্তিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষা শিশুটির মননশীলতার বিকাশকে তরান্বিত করতে সাহায্য করে। বিদ্যালয়ের কার্যক্রম বিষয়ে কিছু বলতে চাই। বিদ্যালয় কি শুধু লেখা পড়া করার স্থান? অনেক অভিভাবক তাই মনে করেন।

কিন্তু মোটেই তা নয়। একটি শ্রেনিতে ভিন্ন ভিন্ন পরিবার ও পরিবেশ থেকে শিশুরা আসে। তারা একে অপরের সাথে মেলামেশার সুযোগ পায় বিদ্যালয়ে এসে। ফলে দলগতভাবে মিলেমিশে চলা ও সামাজিক হতে শেখে শিশুরা। শ্রেণিতে ক্যাপ্টেন এর নির্দেশ মেনে চলতে হয় শিক্ষার্থীকে, উপরের শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সম্মান করতে হয়, বিদ্যালয়ের নিয়মনীতি মেনে চলতে হয়। বিদ্যালয়ে এসেই শিশুরা দলগত কাজ করার সুযোগ পায়। বিদ্যালয়ের এই সকল কার্যক্রমই একজন শিক্ষার্থীর পরবর্তী জীবনের পাথেয়। তাই শুধুমাত্র লেখাপড়া শিখতে বিদ্যালয়ে শিশুদের আগমন, এই ভাবনা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

একটি শ্রেণিতে ৬০ থেকে ৮০ জন পর্যন্ত শিক্ষার্থী থাকে। গড়ে ৪৫ মিনিট করে এক একটি ক্লাস চলে। একজন শিক্ষককে দিনে ৪ থেকে ৫ টি ক্লাস নিতে হয়। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার সিট পড়ে। ফলে ফেব্রুয়ারি ও নভেম্বর মাসে বিদ্যালয়ের শ্রেনি কার্যক্রম বন্ধ থাকে। এরপর অর্ধবার্ষিক, বার্ষিক পরীক্ষাসহ শুক্রবার বাদ দিয়ে অন্যান্য আরো ছুটি মিলে প্রায় ৮০ দিন বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকে। বাকি কর্মদিবসে কোনদিন কি পড়ানো হবে, বর্তমানে সিলেবাসেই তা নির্ধারন করা হয়ে থাকে। একজন শিক্ষক  অবশ্যই র্নিধারিত সময়ের মধ্যে শ্রেণিতে সিলেবাস পড়িয়ে শেষ করেন। পাঠ পরিকল্পনা মেনে শিক্ষক শ্রেণি কাজ পরিচালনা করতে বাধ্য থাকেন। এ সবই আমাদের বর্তমান শিক্ষা কার্যক্রমের নির্দেশনা।পাঠ পরিকল্পনার ডায়েরি দেওয়া হয়। শিক্ষক কবে, কোথায়, কী পড়িয়েছেন, কী পদ্ধতিতে পড়িয়েছেন সব তথ্য থাকে এই ডায়েরিতে। যা প্রধান শিক্ষককে দিয়ে সত্যায়িত করে রাখা হয়। কেননা উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা বিদ্যালয়ে ভিজিটে এসে এই ডায়েরি চেক করেন। এবার বলি ৪৫ মিনিটের একটি শ্রেণির কাজ পাঠ পরিকল্পনায় কীভাবে বিন্যাস করা হয়।

প্রথম ধাপ, ৫ মিনিট: পাঠ প্রস্তুতি, পূর্ববর্তী পাঠ যাচাই প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে।

দ্বিতীয় ধাপ, ১৫ মিনিট: নতুন বিষয়ের পাঠ উপস্থাপনা। আলোচনা, শিক্ষা উপকরণের ব্যবহার, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনে এই অংশটি পরিচালিত হয়।

৩য় ধাপ, ১৫ মিনিট: বিষয় সংশ্লিষ্ট দলীয় বা একক কাজ করানো হয়।

৪র্থ ধাপ, ৬মিনিট ছোট প্রশ্ন দ্বারা যাচাই করা বা শিখনফল কতটুকু সফল হল তা বোঝা।

৫ ধাপ, ৪ মিনিট: বাড়ির কাজ দেয়া।শিক্ষক শ্রেণি থেকে বিদায় প্রস্তুতি নেন।

এখন একজন শিক্ষক পূর্ববর্তী পাঠ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে শ্রেণির সকল শিক্ষার্থীর অংশগ্রহন নিশ্চিত করতে পারেন না সময়ের অভাবে। তাই ভাত রান্নার সময় যেমন দুই তিনটা চাল টিপে দেখা হয় সিদ্ধ হয়েছে কিনা, তেমন কয়েকজন শিক্ষার্থীকে যাচাই করার সুযোগ পান শিক্ষক। এক্ষেত্রে দেখা যায় দূর্বল শিক্ষার্থীকেই দিয়েই যাচাই করা হয়। উপরোক্ত বিষয়গুলো বললাম এই কারনে যে, আজকাল অভিভাবকরা মনে করেন বিদ্যালয়ে কিছুই পড়ান হয় না। যা শিখে তা কোচিং সেন্টার থেকেই শিখে শিশুরা। ২০ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী থাকে কোচিং সেন্টারে। সেখানে ১ থেকে ২ ঘন্টা সময় নিয়ে পড়ানো হয়। প্রতিটা শিক্ষার্থীর প্রতি মনোযোগ দেয়ার সুযোগ পান শিক্ষক। বিদ্যালয় ও কোচিং দুইটি ভিন্ন পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। তাই এদের তুলনা করাটা কতটা যুক্তিপূর্ণ তা আমাদের অনুধাবন করতে হবে।একটি শিশু যদি বিদ্যালয়ের শিক্ষককে অনুসরণ করে পড়াশোনা করে, তবে আসলেই কোচিং এর কোন দরকার নেই। কারন বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিটা বিষয় শ্রেণিতেই পড়ান। কোন শিক্ষার্থী যদি বিষয়টি বুঝতে না পারে তবে সে শিক্ষকের কাছ থেকেই তা বুঝে নিতে পারে। কোন শিক্ষার্থী পড়া বুঝতে চাচ্ছে আর শিক্ষক তাকে বোঝাবেন না, এমনটা ঘটা খুবই অস্বাভাবিক।এবার বাড়ির কাজটা করানোর কিছুটা দায়িত্ব যদি অভিভাবক নেন, তবে আর কোচিং সেন্টারে যাওয়ার আসলেই প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু অভিভাবকরা নিজেকে ঝামেলা মুক্ত রাখার জন্য এবং সবাই ওমুক কোচিং এ পড়ে, আমি না পাঠালে আমার সন্তান পিছিয়ে যাবে, এই ভয়েই সন্তানকে কোচিং সেন্টার এ পাঠান।

এবার আলোকপাত করতে চায় বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বিষয়ে। শিক্ষক বাড়ির কাজ দেন, শিক্ষার্থী করে আনেনা। শিক্ষক তখন কী পদক্ষেপ নিবেন? এখন আইন আছে শিক্ষার্থীকে শারিরীক ও মানসিক কোন চাপ শিক্ষক দিতে পারবেন না। তাহলে শিক্ষক কীভাবে পড়া আদায় করবেন? এক্ষেত্রে অভিভাবকদের জানানে হয়। সত্যি বলতে তা যে খুব ফলপ্রসু হয় না সকল ক্ষেত্রে,তা আশাকরি সকলেই বুঝবেন। মারামারি করা, চুরি করা, ঝগড়া করা, কেড়ে নেওয়া, নকল করা, শিক্ষককে পিছন থেকে টিজ করা, বিদ্যালয় থেকে পালিয়ে যাওয়া, নেশা করা, নেশা দ্রব্য বিক্রি করা, মোবাইল আনা, মোবাইলে আপত্তিকর বিষয় বহন করা, কম্বাইন্ড হলে মেয়েদের বিরক্ত করা, ছেলে মেয়ে এক বাথরুম ঢোকা ইত্যাদি অপরাধ করার পর শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কী করার ক্ষমতা রাখে একবার ভাবুনতো। প্রথমেই অভিভাবকদের অবগত করে। কেননা, এ ধরনের অপরাধ করার শিক্ষা শিশুরা বিদ্যালয় থেকে পায় না। এ সব অপরাধের শিকড় পরিবার থেকেই শুরু হয়। এবার অভিভাবকদের জানানোর পরে যদি দৃশ্যমান কোন শাস্তি অপরাধী শিক্ষার্থীকে না দেওয়া হয়, তবে সে হয়ে উঠে আরো অনেক শিক্ষার্থীর অপরাধের অনুপ্রেরনা। এখন সেই শাস্তি পাওয়া শিক্ষার্থী যদি আত্মহত্যা করে তবে তার দায়ভার আসলে কার? এটাই আমার প্রশ্ন। ভাবুন, ভাবার সময় হয়েছে।


জান্নাতুল ফেরদৌস
সহকারি শিক্ষক, আরমানীটোলা সরকারি (বালক) উচ্চ বিদ্যালয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ