channel 24

সর্বশেষ

  • ব্রিটেনে তারেক-জোবাইদার ব্যাংক একাউন্ট ফ্রিজ করার নির্দেশ আদালতের

  • নুসরাত হত্যায় জড়িত সবাইকে বিচারের আওতায় আনা হবে: এইচ টি ইমাম

  • মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের প্রমাণ মিলেছে

ফারমার্স ব্যাংক থেকে ঋণের নামে অর্ধশত কোটি টাকা লোপাট

ফারমার্স ব্যাংক থেকে ঋণের নামে অর্ধশত কোটি টাকা লোপাট

শালা-দুলাইভাই মিলে ফারমার্স ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখা থেকে ঋণের নামে লুটে নিয়েছেন ৫০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। সুদে আসলে বর্তমানে যা দাঁড়িয়েছে ৬৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকারও বেশি। এসব তথ্য ওঠে এসেছে সাবেক ফারমার্স ও বর্তমান পদ্মা ব্যাংকের ৩০ ডিসেম্বর ভিত্তিক সদ্যসমাপ্ত ফাংশনাল নীরিক্ষা প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, এসব ঋণ দেয়া হয়েছে তৎকালীন পর্ষদ সদস্য আবু আলমের সরাসরি হস্তক্ষেপে।

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ। বাংলাদেশের নিত্যপণ্যের মজুদ ও সরবরাহের লাইফলাইন। এই খাতুনগঞ্জ ফারমার্স ব্যাংক শাখার কিছু গ্রাহক শত শত কোটি টাকা লুটে নিয়ে ব্যাংকটিকে রীতিমত লাইফ সাপোর্টে নিয়ে গেছেন।

এদেরই একটি বাংলাদেশ ট্রেডিং। প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা ৩২১ ভাইভাই মার্কেট, আসদগঞ্জ। তবে মার্কেটের নাম যেমন নেই তেমনি নেই প্রতিষ্ঠানটির কোন সাইনবোর্ডও। ফলে নানান কৌশল অবলম্বন করে প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব খুঁজে পেতে বেশ বেগ পেতে হয়। সিড়ির নিচে বিড়ির দোকান সদৃশ্য এই জনৈক আবু নাসেরের প্রতিষ্ঠানটিতেই ফারমার্স ব্যাংক লগ্নি করেছিল ১৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা যা বিস্ময়কর। সুদ আসলে অংক দাড়িয়েছে ২৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। বাস্তবে প্রতিষ্ঠানটির কোন ব্যবসাই নেই।

প্রতিষ্ঠানটির একমাত্র কর্মচারী জানান, আবু নাসেরের ব্যবসা সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য তার জানা নেই। সেজন্য যেতে হবে এসবি অটো ব্রিকসে। এসবি অটো ব্রিকসের মালিক আবু নাসেরের ভগ্নিপতি।

ব্যাংকের তথ্য বলছে, ৩৮ আসদগঞ্জের এসবি অটো ব্রিকসও ব্যাংকটির ৩২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে খেলাপি হয়েছে। সুদে আসলে যা দাড়িয়েছে প্রায় ৩৭ কোটি টাকা। আশ্চর্যজনক হলো, এসবি অটো ব্রিকসেরও কোন সাইনবোর্ড নেই। এমনকি শালার মতো দুলাভাইও অসুস্থতার অযুহাতে অনুপস্থিত।

জানা যায়, অটো ব্রিকসের মালিক সগির চৌধুরী ন্যাশনাল ব্যাংকের শত কোটি টাকার ঋণ খেলাপি থাকা অবস্থায়ই ফারমার্স ব্যাংক থেকে ঋণ পেয়েছেন। আর বাংলাদেশ ট্রেডিংয়ের আবু নাসেরের নামের ঋণটিরও প্রকৃত ভোক্তা এসবি অটো ব্রিকসের সগির চৌধুরী। পরবর্তীতে সগির চৌধুরীর সাথে সাক্ষাতের চেষ্টা করলে বারবার সময় দিয়েও তিনি দেখা করেননি। তবে মুঠোফোনে তার একজন কর্মকর্তা জানান, চেষ্টা চলছে ঋণগুলো পুন:তফসিলের।

এসব ঋণ পেতে সগির এন্ড গংকে সহায়তা করেছেন ব্যাংকের সাবেক পরিচালক আবু আলম। এ বিষয়ে ব্যাংকের  ৩০ ডিসেম্বর ভিত্তিক ফাংশনাল অডিট রিপোর্টে বলা হয়েছে, খাতুনগঞ্জ শাখার গ্রাহক এসবি অটো ব্রিকস ইন্ডষ্ট্রিজ লিমিটেডের নামে দুই মাসের ব্যবধানে ২৪ কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুর করা হয়। তবে টাইমলোন হিসেবে মঞ্জুর করা ১০ কোটি টাকা ব্যাংকের সাবেক পরিচালক মো. আবু আলম ও তার স্ত্রী পারভীন আক্তারের হিসাবে নিয়ম বহির্ভূতভাবে স্থানান্তর করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা সচল না থাকায় এসব ঋণ আদায়ের কোন সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

বিজনেস 24 খবর